মেয়েটি বুড়িয়ে যাচ্ছে।
(দুর্দান্ত রচনায় সমৃদ্ধ হল।)
শুভঙ্কর দাস
মেয়েটির কোনো কান্ডজ্ঞান নেই!এত ক্ষতবিক্ষত, শেকলের দাগ ভরা মুখ নিয়ে সারাদিন ঘুরে বেড়ায়,ধানখেত থেকে কাকরঙা হাইওয়ে, ঝুপড়ি থেকে রাজভবনের গেটে,মরুভূমির বালি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফে,ভাঁটিশালা থেকে কলেজস্ট্রীটের চারমাথায়।
মেয়েটি নিজের কাপড়ের বাইরে যেতে পারল না!নিজের জন্মদিনের উল্লাস সেরে নিজেকেই পাট করে রাখে কোনো ঝুলপড়া খুপরিতে,কাপড়ে কত রক্তের রেখা,ফাঁসির শূন্যতা,অস্ত্রের অন্ধকার,ধ্বংসের ধারাবাহিকতা ফেঁসু হয়ে ঝুলছে।
মধ্যরাতে জন্ম বলে,মেয়ে হয়ে জন্মেছে বলে,পিতার হাতে মার খেয়ে সেই যে হাত ভেঙেছিল,আর জোড়া লাগেনি!
জোড়া লাগার আাশায়
বাহাত্তর বছরের বুড়ি হয়ে গেছে মেয়েটি,কানে কম শোনে,চোখে কম দেখে,কথাও জড়িয়ে যায়,মুখে গেঁজলা তুলে খোঁজ করে, ওগো সুভাষ আমার কি বাড়ি ফিরেছে!আর যতীন-ভগৎ-রাসবিহারী-ক্ষুদিরাম এরা সব কোথায়?
বুড়িয়ে যাওয়া মেয়েটি পথ হাঁটে,আর তাকে ঘিরে থাকে হাজার চাকার দাগ, শ্মশানের খইয়ের মতো ছোলামুড়িবোঁদে,সহস্র বোতল, নানা রকমের মাইক,আর সেই চিলমারা চিৎকার,ভারতমাতা কী!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন