বিদ্রোহী উদ্ধৃতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিদ্রোহী উদ্ধৃতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সুপ্রীতি বর্মন


বিদ্রোহী উদ্ধৃতি,,,, 

সুপ্রীতি বর্মন


সকল বিদ্রোহী কবিতাগুচ্ছ বজ্রনিনাদী কবি কন্ঠে ঘোষিত হয়েছে,,, আর আমি সেই সকল দীর্ঘায়িত কবিতা থেকে জোরালো বিপ্লবী স্লোগান তুলে ধরেছি সংক্ষিপ্ত করে কতগুলো লাইন এর মধ্যে ,,,, 

তাই এর নামকরণ হয়েছে বিদ্রোহী উদ্ধৃতি,,,, 

সকল কবিতা সংগৃহীত হয়েছে "আবৃত্তির শ্রেষ্ঠ কবিতা",,,, কাব্যগ্রন্থ থেকে,,,, যার একদা সম্পাদনা করা হয়েছিল নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও কালিদাস ভদ্রের মাধ্যমে,,,, 

বিপ্লব কোনদিন হারিয়ে যায়না কালের অতল গর্ভে,,, বার বার সঞ্জীবনী আত্মত্যাগে ফিরে আসে আমার জন্মভূমি আমার মায়ের বুকে,,,, কলমের রক্তমুখী নীলার আঁচড়ে,,,, 

জয় হিন্দ,,, 
বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক,,,,,



অমিতাভ দাশগুপ্ত


শুনুন কমরেডস

অমিতাভ দাশগুপ্ত


সবসময় বিপ্লবের কথা না বলে যদি মাঝে মাঝে প্রেমের কথা বলি,,,,

সবসময় ইশতেহার না লিখে যদি মাঝে মাঝে কবিতা লিখি,,,,

সবসময় দলের কথা না ভেবে যদি মাঝে মাঝে দেশের কথা ভাবি,,,

আমাকে ক্ষমা করবেন কমরেডস,,,

পাঁচ আর সাত নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের ভোট কম বলে

সেখানকার মানুষেরা রাস্তা পাবে কি পাবে না,,, জানতে চেয়েছিলাম

আমার জিভ কেটে নেবেন না।

অবিশ্বাস ও ঘৃণার ছোট ছোট দরজা জানালা ভেঙে বিস্তীর্ণ মাঠের উপর গিয়ে একবারের জন্য দাঁড়াতে পারি না,,,

যেখানে সূর্যের আলো
সব জায়গায় সমানভাবে এসে পড়ে?


দিনেশ দাস


দিনেশ দাস,,,

ভারতবর্ষ,,,,

চোখভরা জল আর বুকভরা অভিমান নিয়ে
কোলের ছেলের মতো তোমার কোলেই
ঘুরেফিরে আসি বারবার,
হে ভারত, জননী আমার।

তোমার উৎসুক ডালে
কখন ফুটেছি কচিপাতার আড়ালে,
আমার কস্তুরী- রেণু উড়ে গেছে কত পথে।।

আমি তো রেখেছি মুখ
তোমার গাঙ্গোত্রী-স্তনে অধীর উন্মুখ,
মিটাল আগ্নেয় ক্ষুধা তোমার অক্ষয় বটফলে
দিনান্তে সুডৌল জানু মালাবার করোমন্ডলে
দিয়েছ আমাকে কোল,
কত জলতরঙ্গের রাত্রি উতরোল
ভরে দিলে ঘুমের কাজলে,
মিশে গেছি শিকড়ের তন্ময়তা নিয়ে
তোমার মাটির নাড়ি হাওয়া আর জলে

আজ গৌরীশংকরের শিখরে শিখরে
জমে কালো মেঘ
বৈশাখী পাখির ডানা ছড়ায় উদ্বেগ,
তবু এই আকাশসমুদ্র থেকে কাল
লাফ দেবে একমুখো হিরের সকাল
চকচকে মাছের মতন---
হে ভারত, হীরক-ভারত পুরাতন!




সুভাষ মুখোপাধ্যায়


সুভাষ মুখোপাধ্যায়

মিছিলের মুখ


মিছিলে দেখেছিলাম একটি মুখ,
মুষ্টিবদ্ধ একটি শাণিত হাত
আকাশের দিকে নিক্ষিপ্ত,
বিস্রস্ত কয়েকটি কেশাগ্র
আগুনের শিখার মত হাওয়ায় কম্পমান।
ঝঞ্ঝাক্ষুদ্ধ জনসমুদ্রের ফেনিল চূড়ায়
ফসফরাসের মত জ্বলজ্বল করতে থাকল
মিছিলের সেই মুখ।
সভা ভেঙে গেল, ছত্রাকারে ছড়িয়ে পড়ল ভিড়
আর মাটির দিকে নামানো হাতের অরণ্যে
পায়ে পায়ে হারিয়ে গেল
মিছিলের সেই মুখ।

কার‌ও বাঁসির মতো নাক ভালো লাগে,
কার‌ও হরিণের মতো চাহনি নেশা ধরায়
কিন্তু হাত তাদের নামানো মাটির দিকে,
অন্য সব মুখ যখন দুর্মূল্য প্রসাধনের প্রতিযোগীতায়
কুৎসিত বিকৃতিকে চাপার চেষ্টা করে,
তখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী সেই মুখ
নিষ্কোষিত তরবারির মতো
জেগে ওঠে আমাকে জাগায়।

অন্ধকারে হাতে হাতে তাই গুঁজে দিই আমি
নিষিদ্ধ এক ইস্তাহার,
জরাজীর্ণ ইমারতের ভিত ধসিয়ে দিতে ডাক দিই
যাতে উদ্বেলিত মিছিলে একটি মুখ দেহ পায়
আর সমস্ত পৃথিবীর শৃঙ্খলমুক্ত ভালোবাসা
দুটি হৃদয়ের সেতুপথে
পারাপার করতে পারে।।


শামসুর রহমান


শামসুর রহমান,,,,

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা ,,,


তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খান্ডবদহন?

তুমি আসবে বলে,হে স্বাধীনতা
সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল,
সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল হরিদাসীর।
দানবের মতো চীৎকার করতে করতে
ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড় হল,,,
মেশিনগান খ‌ই ফোটাল যত্রতত্র।
ভগ্নস্তুপে দাঁড়িয়ে একটানা আর্তনাদ করল একটা কুকুর।
অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।

স্বাধীনতা তোমার জন্যে থুত্থুরে এক বুড়ো
উদাস দাওয়ায় বসে আছেন,,, তার চোখের নীচে অপরাহ্নের
দুর্বল আলোর ঝিলিক, বাতাসে নড়ছে চুল।

স্বাধীনতা তোমার জন্যে
মোল্লাবাড়ির এক বিধবা দাঁড়িয়ে আছে
নড়বড়ে খুটি ধরে দগ্ধ ঘরের।

স্বাধীনতা তোমার জন্যে
হাড্ডিসার এক অনাথ কিশোরী শূণ্য থালা হাতে
বসে আছে পথের ধারে।
আর রাইফেল কাঁধে বনে জঙ্গলে ঘুরে-বেড়ানো
সেই তেজী তরুণ, যার পদভারে
একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম হতে চলেছে
সবাই অধীর প্রতীক্ষা করছে তোমার জন্যে, স্বাধীনতা।

পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত
ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,
নূতন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাঙলায়
তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা।


মনোজ মাজি


মনোজ মাজির,,,

ভারতবর্ষ,,,,


মহান পেপসি কোলা, ভেতরে দুলছে ঠান্ডা স্বরলিপি,,, অনুপাতে সহস্র ধারায় দেশ

সাজানো জীবন কিছু পর্যটন,,,,, টকটকে লাল ভূমধ্য আশ্লেষ
আসলে তরল ধারা ঢেলে দেয়,,, জগজ্জোড়া প্লাবনমগ্ন তন্ময়
যথেচ্ছ নৈরাজ্য স্বাদে গন্ধে ভরা,,,, গোধরা কামড় পারম্পর্যময়

পরম্পরা পাড়ায় হাইরাইজ,,,, তৎপর যথেষ্ট কোহল টানে
তলপেটে কাঙাল শরীর জ্বলে,,, বিভক্ত প্যাডেলের দ্বিচক্রযানে
ছুটে যাচ্ছে লাল নীল দুঃসময়,,,, আদর্শের আড়াআড়ি,,,, গুন গুন

শোনো সাহিবা শোনো, শেষ খবর,,,,, জাদুঘর থেকে খোয়া গেছে, এক
উপযুক্ত আন্টিক,,, তৃতীয় বিশ্ব-র
অন্যতম ফসিল,,,, ভারতবর্ষ!

আসুন, নিরন্ন আমাদের সঙ্গে,,, দু--মিনিট নীরবতা পালন করুন।।


বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়


বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়,,,,

 কালো বস্তির পাঁচালী,,,,


কালো রাত কাটে না, কাটে না
এতো ডাকি, রোদ্দুর এই পথে হাঁটে না
মাগো এতো ডাকি খিদের দেবতাটাকে
বেশি নয় যেন দুবেলা দুমুঠো নুনমাখা ভাত রাখে
তুই আর আমি ভুলব পেটের জ্বালা
খিদের দেবতা, সে কি একেবারে কালা!
বাছারে, আমরা অচ্ছুৎ, তাই যেভাবে যত‌ই ডাক
কোন দেবতাই বস্তিতে আসে নাকো!

আয় রোদ্দুর আয়!
আয় আমাদের ন্যাংটো খুকুর নোংরা বিছানায়।
আধমরা ঐ খুকুর ঠোঁটে একটু চুমুর স্বস্তি দে।
এইটুকুতেই তোর জাত যাবে না।

আয় রোদ্দুর আয়।
দারুণ শীতে খুকু মোদের ঠান্ডা হয়ে যায়।
আয়রে শীত মাড়িয়ে
ভয়ের জুজু ডাইনি বুড়ির চুল ধরে দে তাড়িয়ে।
রাত গেলে কি ভোর হবে না?

শূণ্য ভাঁড়ার ঘর
এমন দিনে বাছারে তোর এ কোন কঠিন জ্বর?
এর ঝাঁটা ওর লাথি খেয়ে
বেড়েছিস তুই ছেলে
বাঁচবি কি তুই এই জ্বরেও
উপোষে দিন গেলে?

ক্ষুধার আগুন দাউ দাউ
কান্না-ভেজা ঘরে,
মায়ের কোলে দুধের শিশু
দুধ ছাড়া আজ মরে।

বাইরে বাতাস আছড়ে পড়ে
আমি কি তোর মা?
ঝাঁটা স‌ইলাম, লাথি স‌ইলাম
কী-জন্যে সোনা!


মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অমিতাভ দাশগুপ্ত


আমার নাম ভারতবর্ষ

অমিতাভ দাশগুপ্ত


স্টেনগানের বুলেটে বুলেটে
আমার ঝাঁঝরা বুকের ওপর ফুটে উঠেছে যে মানচিত্র
তার নাম ভারতবর্ষ।

আমার অশ্রুর জলসেচ আর হাড়ের ফসফেটে
খুনির চেয়েও রুক্ষ কঠোর মাটিতে
বোনা হয়েছে যে অন্তহীন ধান ও গানের স্বপ্ন
তার নাম ভারতবর্ষ।

ভাকরা নাঙালের পাথুরে বাঁধের গম্ভীর ছায়া
ডিগবয়ের বুক থেকে
মায়ের দুধের মত উঠে আসা তেলে ভেসে যাচ্ছে
আমার সারা শরীর।

প্রতিটি ধর্ষিতা আদিবাসী যুবতির
শোক নয় ক্রোধের আগুনে
দাউ দাউ করে জ্বলে যাচ্ছে আমার শেষ শয্যা।

সাঁওতালি মাদলে আর ভাঙরার আলোড়নে
জেগে উঠবে তুমুল উৎসবের রাত।
সেই তারায় তারায় ফেটে পড়া মেহেফিলের রাতে
তোমরা ভুলে যেয়ো না আমাকে
যার ছেঁড়া হাত, ফাঁসা জঠর, উপড়ে আনা কলজে,
ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু, রক্ত, ঘাম
মাইল-মাইল অভিমান আর ভালোবাসার নাম
স্বদেশ
স্বাধীনতা
ভারতবর্ষ।


অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়


ভারতবর্ষের মা

অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়


তবু ছেলেটার মুখে কোন হাসি নেই
ও দেখছে অনেক রাতে দরজা খুলে ওর মা
কোথায় যেন যায়
ও দেখছে মেলট্রেন ঝাঁকানো শেষরাতে ফিরে আসে ওর মা।

অদূরেই মৃত কাচকলের চিমনি
ওর বাবা বন্ধ গেটের কপালে মাথা খোঁড়ে
এদোর-‌ওদোর ঘুরে ফিরে আসে,,, তারপর
শুকনো খড়ের মত পড়ে থাকে দাবার কোণে।
বিদেশ ভ্রমণের সুখস্মৃতি বিস্তার করেন নেতা কনফারেন্সের টেবিলে। অঢেল বাণিজ্যের জাহাজ ভাসবে সমুদ্র থেকে সমুদ্রে,,,, সীমান্ত
পেরিয়ে আসবে ফুলেল খুশবুর পসরা,,,

কে যেন ভারতরত্ন, কে যেন জ্ঞানপীঠ
এত কান্ডেও ছেলেটার হাসি নেই।
উবু হয়ে বসে থাকে,,,, আর দ্যাখে
ভোররাতে কোঁচড়ভরা চাল এনেছে ওর মা
চ্যালাকাঠের আঙরায় হাঁড়ি উপচে ফেন গড়াচ্ছে,,,,

সমস্ত ভারতবর্ষের মা শেষরাতে ফিরছে চারটি চাল নিয়ে
সমস্ত ভারতবর্ষের ছেলেদের মুখে তবু হাসি নেই,,,।


কাজী নজরুল ইসলাম


কাজী নজরুল ইসলাম,,,,

বিদ্রোহী,,,,


বলো বীর,,,
বলো উন্নত মম শির!
নেহারি আমারি, নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রির।
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!

আমি ধুর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর!
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী - সুত বিশ্ব-বিধাত্রীর!
করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা

ইন্দ্রাণী-সুত, হাতে চাঁদ, ভালে সূর্য
এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরি, আর হাতে রণ-তূর্য।
কৃষ্ণ-কন্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যাথা-বারিধির !
ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।

সন্ন্যাসী, সুর-সৈনিক,
যুবরাজ, মম রাজবেশে ম্লান গৈরিক!
বেদুইন, আমি চেঙ্গিস,
আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ।

আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বী নয়নে বহ্নি,
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি!
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর!
বঞ্চিত ব্যাথা পরবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের।
আমি যৌবন ভীতু পল্লিবালার আঁচর কাঁচলি নিচোর!
ছুটি ঝড়ের মতন করতালি দিয়ে স্বর্গ-মর্ত্য করতলে,
বোরবাক আর উচ্চৈঃশ্রবা বাহন আমার
হিম্মত-হ্রেষা হেঁকে চলে!

আমি ত্রাস সঞ্চারি ভুবনে সহসা, সঞ্চারি ভূমিকম্প!
ধরি বাসুকির ফণা জাপটি,
ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি!

আমি দেব শিশু, আমি চঞ্চল,
আমি ধৃষ্ট, আমি দাঁত দিয়ে ছিঁড়ি বিশ্ব-মায়ের অঞ্চল!

আমি বিষধর কাল-ফণী!
ছিন্নমস্তা চণ্ডী, আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি।

আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার,
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
আমি হল বলরাম স্কন্ধে
আমি উপাড়ি ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে।

আমি মহা বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেইদিন হব শান্ত
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেইদিন হব শান্ত!

আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে, এঁকে দেব পদ-চিহ্ন!
বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি চির বিদ্রোহী বীর
আমি বিশ্ব ছড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-‌উন্নত শির!


অভিজিৎ ঘোষ


অমৃতস্য পুত্র

অভিজিৎ ঘোষ


রাত্রি তার এলোচুল ছড়িয়ে বসেছিলেন চন্দ্রদেবতার পাশে,,,

স্বতোৎসারিত বেপরোয়া ঝঙ্কারে-টঙ্কারে
গমগম করে উঠেছিল সেলের গারদ,,,

কাল ভোর রাতে আমাদের একজন সহযোদ্ধার ফাঁসি হবে তাই এই উৎসব,,,

তাই আমরা সকলে স্ফূর্তিতে নেচেছি সারারাত
বলেছি বারংবার: বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক
৭৭ বলেছি, আমরা অমৃতের পুত্র
আমাদের মৃত্যু হয় না।



কাজী নজরুল ইসলাম


আমার কৈফিয়ত

কাজী নজরুল ইসলাম


ক্ষুধাতুর শিশু চায় না স্বরাজ, চায় দুটো ভাত একটু নুন!
বেলা বয়ে যায়, খায়নি কো বাছা, কচি পেটে তার জ্বলে আগুন!
কেঁদে ছুটে আসি পাগলের প্রায়,
স্বরাজের নেশা কোথা ছুটে যায়!
কেঁদে বলি, 'ওগো ভগবান, তুমি আজিও আছ  কী? কালি ও চুণ
কেন ওঠে না কো তাহাদের গালে, যারা খায় ওই শিশুর খুন?


কত শত কোটি ক্ষুধিত শিশুর ক্ষুধা নিঙারিয়া কাড়িয়া গ্রাস!
এল কোটি টাকা এল না স্বরাজ!
টাকা দিতে নারে ভুখারি সমাজ!
মা- এর বুক হতে ছেলে কেড়ে খায়, মোরা বলি, 'বাঘ, খাও হে ঘাস!'
হেরিনু, জননী মাগিছে ভিক্ষা ঢেকে রেখে ঘরে ছেলের লাশ!


পরোয়া করি না, বাঁচি বা না বাঁচি যুগের হুজুগ কেটে গেলে,
মাথার উপর জ্বলিছেন রবি, রয়েছে সোনার শত ছেলে!
প্রার্থনা করো- যারা কেড়ে নেয় তেত্রিশ কোটির মুখের গ্রাস,
যেন লেখা হয় আমার রক্ত - লেখায় তাদের সর্বনাশ!