রথযাত্রার ফ্লাশব্যাক। লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রথযাত্রার ফ্লাশব্যাক। লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৮

রথযাত্রা- ১০



মোক্ষম তীক্ষ্ণাগ্র আলোচনা: রথযাত্রা প্রবন্ধ।

প্রবন্ধ: "কিছু কথা কিছু স্মৃতিচারণ"

নাম: শুকদেব পাত্র।

সময়ের সাথে সাথে বয়স যতই বেড়েছে অনুভূতি গুলো ততই হয়েছে বিকৃত ও বিবর্তিত l প্রকৃতির ওতোপ্রোত প্রভাব থাকা সত্ত্বেও মানব প্রকৃতি নিয়ত পরিবর্তনশীল---- অজানা রহস্যময় রাজ্যে যার অবাধ বিচরণ l মানুষ সত্যিই কি অজানা রহস্যময় স্থানে ভ্রমণ করতে পারে! কেউ কেউ হয়তো পারে , বেশিরভাগ মানুষের সম্ভব নয় দুবেলার অন্নসংস্থান করে দুর্গম স্থানে পাড়ি জমানোর l তবুও মানুষ যায়---- ধনীদের তুলনায় গরিবেরা ,বুড়োদের তুলনায় শিশুরা ;,অনেক বেশি করে যায় l

                  একবার বকরূপী ধর্মরাজ যম যুধিষ্ঠিরকে জিঞ্জাসা করেছিল --- পৃথিবীতে সবথেকে দ্রুতগামী কে ? উত্তরে যুধিষ্ঠির বলেছিলেন "মানুষের মন "....মানুষের মন

আলোর চেয়েও দ্রুতগামী মনের দ্রুততার জন্য মানুষ মনকে রথের সাথে তুলনা করেছে l মনরূপ রথে চড়ে মনোরথ বা মনোবাসনা ।মানুষের চিন্তা চেতনা নিয়ত ছুটে চলেছে স্থান থেকে স্থানান্তরে ,কাল থেকে কালান্তরে.... রথের সঙ্গে আমাদের তাই ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ l

           ছোটবেলায় রথের মাহাত্ম্য না বুঝেই মন্দিরের মতো ফুলমালা দিয়ে সাজানো রথের দড়ি বড়োদের মতো টানার অনুভূতি যে কত সুন্দর ! তা এখন উপলব্ধি করতে পারি l ছোটবেলার অনুভুতিগুলোর চরম সুখ বোধহয় বড়বেলায় এসে ধরা দেয়...এ যেন অনেকটা গরুর জাবর কাটা সুখের মতন l পাঁপড় কিনে বন্ধুদের খাওয়ানো কিংবা বন্ধুদের দেওয়া পাঁপড় , অন্যান্য ভাজাভুজি খাওয়ার মধ্যে যে কতটা নিষ্পাপ শান্তি ছিল তা এখন অনুভব করি l

            সময়ের সাথে সাথে রথ ও রথের সংজ্ঞা বদলে যায় l রথ হয়ে ওঠে কখনো ব্যবসায়িক কখনো রাজনৈতিক কখনও বা প্রেমের প্রতিচ্ছবি l তাই ছোটবেলায় শোনা কথা "রথ দেখা ও কলাবেচা " বড়বেলায় এসে স্বার্থের গল্প শোনায় l শিশুবেলার অনেক বড়ো খেলনা গাড়ি ভোল বদলায়----- চেতনায় গভীর মনোরথে l

             রথের চাকা মাটিতে বসে গিয়ে কর্ণের জীবনের রথ থমকে গিয়েছিলো l আফশোষ হয় সেইসময় কেন যে পিচের রাস্তা ছিল না, তাহলে অন্তত অন্যায় সমরে কর্ণকে অসহায় ভাবে মরতে হতো না l এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মনের রথ থমকে দাঁড়ায় বারেবারে l

        বর্তমান সময়ের স্রোতে রথের চাকা থমকে গেছে l এখন উল্টোরথের বৃষ্টিভেজা বিকেলে ভীরু হৃদয়ে প্রেমিকার হাতে পাঁপড় গুঁজে মন বিনিময় করার বয়স না থাকলেও আজও চোখে পড়ে নবপ্রেমের বর্ষাভেজা অরুণরাগ ,যারা উষ্ণতা খোঁজে---ভালোবাসার ভুবন পাড়ি দিতে চায় জীবনের রথে চড়ে l

দাঁতপড়ে যাওয়া বিধবা বুড়িটা ছোট নাতিটাকে পাশে বসিয়ে ঝোলাগুড় দিয়ে বানানো মুড়ির নাড়ু বিক্রি করে রথের মেলায়.....অজস্র লোকের ভিড়ে রথের দড়ি টানতে না পেরে পথের পাশে বসেই দুহাত কপালে ঠেকিয়ে জগন্নাথদেবকে প্রণাম করে l আমি চেয়ে দেখি আর মনে মনে বলি....হে ভগবান ওদের আশীর্বাদ করো l


                 

                     


রথযাত্রা- ৯



(অভাব ও দুঃশ্চিন্তার দারিদ্র্যতার কালো মেঘ শ্রাবণ রথের মেলায়)।

পাঁপড়ভাজা'র অমসৃণ ধারগুলো।
..................................................
ফিরোজ আখতার।

পাঁপড়ভাজার গন্ধ'টা গুলিয়ে গুলিয়ে পাক খায়
দুই ভাইবোনের নাকের চারপাশে -

একটা অতৃপ্ত ঘূর্ণি ৷ বড়ো ভালো লাগে গন্ধ'টা ওদের-
ঘন্টাখানেক দাঁড়িয়ে আছে দোকানের একপাশে । তেলাকুচো গাছের ফলের মতো ৷ হঠাৎ পাওয়া একটা পাঁপড়ভাজা ভাগ
করে খাবে দু'ভাইবোন ৷

রুক্ষ লালচে চুল ৷ মায়াময় চারখানি চোখ ৷ ময়লা জামা দেখা যায় না
আধোঅন্ধকারের আবহে । ততোধিক অন্ধকার জমাট বেঁধে আছে পাঁপড়ভাজা'র
অমসৃণ ধারগুলোতে৷

রথযাত্রা- ৮



(অন্যরকম রথযাত্রা জীবনযুদ্ধের চিত্র দৈনন্দিন)

কবিতা-- দেশান্তর
সৌরভ ঘোষ

শিয়ালকোট থেকে চিটাগং পাদানীতে ...
ডাকাবুকো ইঞ্জিণ সামনের দৃশ্য গিলে -
কয়েক মাইল শ্বাসবায়ু ভরে নেয় ফুসফুসে।

দিনের আলো যথেষ্ঠ ভরেছি চওড়া বুকে।
অন্ধকারে মিটমিট জোনাকি তারা আঁচে,
ঝিঁঝিঁ পোকার নিরন্তর ডাকে
খুঁজেছি পরিচিত মায়া স্বর
পেয়েছি নমুনা ,ট্রেনের চাকার ঘড়ঘড়।

বর্ডারে আপাদমস্তক চেকিং ,নকল যন্ত্রের বিপবিপ
সব সাজানো...
রাস্তায় শুধু দিল্লীর কথা, উদ্বাস্তু জটলা
শেষ ঠিকানায় সাড়ে তিনফুট চৌকিতে
আমার কোনাকুণি বিশ্রাম...
ট্রেন আবার ফিরে যায় দুটো বর্ডার পেড়িয়ে...

রথযাত্রা- ৭



____রথ মানেই পুজোর গন্ধ

                সুনন্দ মন্ডল


রথের দড়িতে পড়ল টান

      উল্টো রথে জগন্নাথের ফেরা।

      ‎বুঁদির ছাঁচে তোমার শরীর

      ‎      জগতমাতার রূপের বেড়া।


রথের দেব রথেই থাকলো

      মানুষ গাইল আগমনীর গান।

      ‎পায়েস মুখে মিষ্টভাষী

      ‎        জানলো সুখেই মাতবে প্রাণ।


জগন্নাথের চাকা ঘুরতেই

       ত্রিকাল দেবীর পদার্পণ

        লক্ষ্যভেদে সাঁতার কাটা

        ‎       নৌকা করে আগমন।


কথায় আছে রথের দড়িতে টান

     মানেই দুর্গা পূজার আবাহন

     ‎আমরা মানি বিশ্বলোকে

     ‎    মায়ের মমতা নয় অসমান।


মুখের হাসি লম্বা দড়িতে

         রথের সাথে শরীরে ঘ্রাণ

         ‎মা আসছেন নতুন রূপে

         ‎এইতো জেনে উৎফুল্ল মন।

         ‎     ----------


রথযাত্রা- ৬



চিরঞ্জীব হালদারের কবিতা।

যেওনা কিশোরী একা মেলা জগন্নাথ,
যেওনা কিশোরী একা বামুনের দেশে-
জিলিপিরা ফাঁদ পেতে সাজিয়েছে রাত
নাগর আসিতে পারে জগন্নাথ বেশে।


এই ধানপথ কি রথের মেলায় মিশেছে।
কোন ভাষায় টিনেজার কিশোরী
চিঠি লিখবে কাঁঠাল গাছকে।
সমস্ত গোপন কুঠি ভরে আছে চাপ চাপ উদ্ভিন্ন প্রেমে।
নেমে এস বাইনারী লজিক,হোয়াটস আপ
টুকে রাখো তাহাদের কথনমালা
পাঁপড় সৌজন্যে।
বেঁটে জিরাফেরা আজ
জগন্নাথ দর্শনে চলেছে।


ভেবোনা এ চিঠি কোন ডাক হরকরা
পড়ে নেবে বিতরণের আগে।
অলৌকিক অক্ষরে লেখা ঠিকানা কিশোরী।
গোপন ফিতের ভাঁজে কাঁচের চুড়ির মত ডেকে ওঠে বাদল ময়ূর।
ক্যালকুলাসের পাতায় পাতায় দেখো কেমন রঙ্গন হেসেছে।
তাই এত একাকী কিশোরী
খুঁজে পায় রুনু-ঝুনু জগন্নাথ  সঙ্গম।

রথযাত্রা- ৫



রথ

---সবর্না চট্টোপাধ্যায়


মধ্যবিত্ত দাম্পত্যকলহের
ডালভাত রেঁধে মেয়ের হাত ধরে
জগন্নাথ দর্শনের ভিড়ে
বাকীদের মতো আমিও
ভেঁড়া হয়ে গেছি
ঈশ্বরের মোহে...

ওদিকে আরও কিছু ঈশ্বর
কিছু মধ্যবিত্ত ঘরে
বুক চাপড়ানোর প্রদীপের শোকে
অসুস্থ পড়ে আছে থরে থরে....

খালি পেটে
মায়েদের সন্তান,
তেরোদিন ধরে
দেওয়ালে আঁচড় কেটে কেটে
চড়াচ্ছে প্রতিবাদ।

তবুও চোখকানহীণ ক্ষমতার
কঠোর সরকার
রথের মেলার আগে
উপহারে
বন্দেমাতরম তুলে দিচ্ছে পাঁপড়ভাজার মতো..!


প্রতিবার রথে

----সবর্না চট্টোপাধ্যায়



বৃষ্টি পড়লে ভেতরেও আজকাল
জল জমে যায় ভীষণ,
জমতে জমতে একবুক
একগলা
তারপর দুটোচোখ
ঝাপসা হয় না,  শৈশব ওঠে আসে কেমন!

একটা মেয়ে ঘন্টা বাজিয়ে
ছুটে যায় রথ টেনে,
তার বাবা
হাতে কালো ছাতা ধরে
তেত্রিশ বছর, ভিজছে বৃষ্টিতে...

উল্টোরথে প্রতিবার ঝাপসা হয়ে আসে শহর
কলকাতা ছাড়িয়ে যতদূরে যত গ্রাম
গ্রাম ছাড়িয়ে অন্যকোন শহর।
জগন্নাথবাড়ি থেকে
গরদের শাড়ি পড়ে
মা হেঁটে আসে ছোট ছোট খেলনা কিনে...

এখনও বৃষ্টি হয় প্রতি রথে।
ডুব দেওয়া বিকেলের স্মৃতি
ঘুড়ি ওড়াচ্ছে প্রেমিকের হাতে...
আকাশের এখনও কোনোখানে
মেঘেদের দেখে মনে পড়ে দুটো মুখ...
কোনোএক দুপুর ঘন হতে হতে
দুটো পাতা নড়ে ওঠে....
ঠোঁটে ঠোঁট
ঠোঁটেদের ভাষা..
কিছু কিছু মেঘ আজও কাঁদতে পারে না, জানি।
কিছু চুম্বনের শোক ফিরে আসে নদীর মতো..
শুধু প্রতি বার, বৃষ্টি হলেই
আমার তেত্রিশ বছরের ছেলেবেলা
ছুটে আসে
'মা' বলে ডাকে....
ক্রমশ মেঘেদের ভিড়ে হারিয়ে যেতে যেতে
হাত ধরা দুটো মুখ
হেসে ওঠে ঘুরন্ত নাগরদোলায়....

রথযাত্রা- ৪



রথযাত্রা - স্বরূপ সিংহ রায়



মলিনতা ছুঁড়ে দাও রোজ

ভেঙে প​ড়ি আমি

দু চোখের জলে হাঁটি

ঝাপসা রাজপথ ---।



সে জলের দাম কি বা

চোকানোর দায় নেই কারো ---

অরণ্যরোদন তাই করি না আর,

অবহেলা দিয়ে তুমি

যত খুশি মারো ----।



মলিনতা ভেঙে দেয়

মেরুদন্ড রোজ

ভিতরে ভিতরে ঘূণপোকার মিছিলে

ধর্মঘট স্লোগান ----।



তবু সোজা হাঁটি আমি

হেঁটে যেতে হ​য় ---

নিজের​-ই রশি তে টানি

শূণ্য সে রথ ----

মাধুকরী ফেরা জানে

পিচগলা পথ -----।



বিষণ্ণ দিনের শেষে

আশা রাখি মনে

ফাঁকা রথ টেনে রাখি

তোমার​-ই পথেতে ----,

হ​য়তো বসবে এসে

বিবশে সুবাসে

হ​য়তো বলবে কথা

কিছু ভালোবেসে

কাছিতে থাকবে টান

দারুন আবেশে -----।



নতুন যাত্রার পথে

আলোকিত​ রথে

ফিরে এসো সীমন্তিনী

নতুন শপথে -----॥


রথযাত্রা- ৩



প্রণয় পুষ্পের ঘ্রাণ
মৈনাক চক্রবর্ত্তী

এবার যদি উল্টোরথে- মেলায় না যাই,
তুমি আমি, দিনটা কাটাই, বন্ধ ঘরে-
জিলিপি আর পাঁপড় ভাজায়, রথ শুধু নয়-
তোমার ঠোঁটের জিলিপি স্বাদে, সময় কাটে...

এবার যদি রথের মেলায়- সন্ধ্যা ঘিরে
ঝাপসা বৃষ্টি, ঝাঁপিয়ে পড়ে, শহর জুড়ে-
শহর ভিজুক রথের মেলায়, আমরা ঘরে-
তোমার দেহের উষ্ণতারা আমায় খোঁজে...

এবার যদি রেশমী চুড়ি- নাইবা কেনো,
শ্রাবন মাসে, বৃষ্টি মেখে ঘরে ফিরো-
পাঁপড় ভাজা, এবার হয়ত নাইবা খেলে-
শরীরে শরীর, ডুবে থাকুক পাপড়ি ঘ্রাণে...


শ্রাবনের রথ
মৈনাক চক্রবর্ত্তী

আমার কাছে রথযাত্রা,
ধর্ম কথার উৎসব নয়-
আমার কাছে রথযাত্রা,
শ্রাবণ কিংবা আষাঢ় মাস-
মেঘ গুরগুর ঈশাণ কোণ,
পেঁচিয়ে যায় রথের চাকায়-
বৃষ্টি আসে, ভিজিয়ে দেয়,
উড়ে আসে মেঘবালিকা...
টুকরো টুকরো শ্রাবণ মেঘ,
বিন্দু বিন্দু জমতে থেকে-
ভেসে যায় রথের চাকা,
মাসি নাকি পিসির বাড়ি;
তা আমার ঠিক জানা নেই...
রথের দিনে শ্রাবণ তোমায়
চিনতে পারি নিজের করে।

শুক্রবার, ১০ আগস্ট, ২০১৮

রথযাত্রা- ২



(অসাধারন রচনায় আত্মমুগ্ধ রথযাত্রায় কৈশোর)।

কৈশোরের স্বপ্ন
              নাসির ওয়াদেন

নিষিক্ত বেদনা ঝড় হয়ে ভেঙে পড়ে কালাচাঁদ
জোৎস্নার ম্লান মুখে ঝরে অশ্রুধারা, অবসাদ

পদ্মপাতার উপর জলবিন্দু সাতরঙা আলো
রূপ ঠিকরে বন্যাঢেউ বহে বিমূর্ত জমকালো

কৈশোরের সেই ভাঙা দিনগুলো,সরবে নীরবে
পোড়া মনদুটি সিক্ত হলো যে পুনর্রথ উৎসবে

কিশোরী কুমারীর লালঠোঁটে দেখি সিঁদুরেমেঘ
অপটুছায়ার বুকে নৈরাশ্যের শীতলইচ্ছা আবেগ

কাকজোৎস্না ভোর আঁকে অবাঞ্ছিত প্রেমের  চিত্রকথা
লালসার হৃদে জেগে ওঠে শুধুই বিবর্ণ আদিখ্যেতা

হারিয়ে যাওয়া শুকনো ঢেউবনে জাগে প্রেমঘন
জগন্নাথের রশির বাঁধনে বাঁধা  গেছে দুটো মন
                     ¤¤¤¤¤

                  ঈশ্বর ও প্রেম
                 নাসির ওয়াদেন

চেনা দিনগুলোতে অচেনা কাঠের খটমট উল্লাস
হাতের তালুর নীচে ভালবাসা,মোবাইলেই বিশ্বাস

খুনি ফাটা শব্দের বুকে বিশ্বাসী লোনা ছোঁয়া
বৃহৎ জলাশয়ে গভীরে লুকিয়ে শুধুই হারিয়ে যাওয়া

গোপনে গোপনে প্রেমিকার কাঁধে রেখে নির্ভর হাত
জিলিপি, আলতা, সিঁদুরে সাধ বড়,অঝোরে ধারাপাত

যমে মানুষে টানাটানি চলে,টানাটানি রথে রশি
ঈশ্বরপ্রেম জেগে ওঠে মন, কোথায় অবিশ্বাসী,,,,

সত্যের আলো উঠলে জ্বলে, পালায় অন্ধকার
মিথ্যের বড় শত্রু সত্যেরা, জলফোঁটা এক পদ্মপাতার

হতাশ প্রেমিকের বুকে মালাবারি ঢেউ উঠে তোলে
ভরতুকি বাতাসের প্রেমবেলুন নীলকাশে আজ  দোলে

উন্মাদ হাসি উছলে পড়ে নিরাশার সংভূমি পাঠে
হারানো প্রেম ফিরে আসে রথে,সহিষ্ণুতার মাঠে

                          ¤¤¤¤¤¤

রথযাত্রা- ১



| রথের চাকা সচল কী? |
---------------কলমে সুদীপ্ত সেন (ডট.পেন)

রঙ কিনে রাখা ছিল খাতায়, সে খাতায় জল পড়ে গেছে, লেখা ভিজে গেছে কী দারুন.....!

তবুও রথের দিনে আশ্চর্য রকমের জেদ প্রেমিকার, মেলায় যাবে সে। আমিও যেতে চাই তার কারন রথের মেলার খুব সস্তাদর।

একসাথে যাবো, জিলিপি খাবো,দেখবো হরেক রকম ১৫ টাকা সব।ফুচকাও খেতে চাইবে হয়তো, আবার এক পশলা বৃষ্টি ভিজিয়েও দিতে পারে আমাদের ফিরতি পথের আড়াল খুঁজে।

 রথ দেখতে যাবো সাত-পাঁচ সব না ভেবেই, মেঘ করেছে ছাতা নেবার দরকার নেই নাক সিটকে জানিয়ে দিল সে।

 হঠাৎ করেই মেলায় যাওয়ার পর একটা অদ্ভূত কারুকার্য চোখে পড়ে হ্যাঁ কারুকার্য তো, লক্ষ্য করবে রথের ওপরে ঠাকুর বসানো হয় আর আমরা সবাই রথের দড়ি টেনে নিয়ে যাই ঠাকুরকে মাসির বাড়ি পৌঁছানোর জন্য। আচ্ছা এখানে একটা ব্যাপার দেখবে খুব চোখে লাগে সেটা হলো
        'ঠাকুর কে'?
' যাকে বসানো হয় সে নাকি যে বসে থাকে? '

ছোটো থেকেই দেখি আর প্রশ্ন তৈরী হয় মনের ভেতর আজও প্রশ্ন আছে উত্তরটা দিও প্লিজ যার জানা আছে,

'আমি যে ঠাকুর চিনিনি এখনও.....'

 রথ ঠিক এগিয়ে যায় নীচের তলার মানুষ দিয়ে তখন কিন্তু ভেদাভেদ হয়না তুমি জাতে ছোট ছুঁয়ে দেখবে না রথ এটা তোমরা বলতে পারো  না দড়ি তো সবাই টানবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু আমি বলব না দড়ি সবাই টানতে পারেনা বরং দড়ি সবাই না টানলে রথ এগোবে কি করে, কী আশা করি বুঝতে পেরেছ ..বেশি না বলাই ভালো নইলে আমাকে ধমকি দিতে পারে আস্তিকের দল, ধরে নিয়েও যেতে পারে আদলতের কাগজ...ইত্যাদি, ভয় পাই।

এসব চলুক চলছে যখন কি আর করা যায় কিন্তু কতকাল?
নিশ্চয় একদিন অচলায়তনের মতো করে কেউ প্রাচীর ভাঙবে আর যে হাতে নামাজ পড়া হয় সে হাতও রথির দড়ি টানবে। জাতি ভেঙে সবাই মানুষ হবে।আর যে ভারতবর্ষে ভিক্ষার নীতি চলে, হয়তো একদিন সেটাও মিটে যাবে আর সচল হবে রথের চাকা, চলবে... চলবে... চলতেই থাকবে....

এই শোন এই ঝুমকো টা দেখ?
  নিবি?  হি হি
নে না মানিয়েছে।
কত ভাই?
হরেক মাল ১৫ টাকা!
 


শনিবার, ২১ জুলাই, ২০১৮

রথযাত্রার ফ্লাশব্যাক সম্পাদকীয়



রথযাত্রায় অগ্রগতির চাকার তলায় পদপৃষ্ঠ হতদরিদ্র হাভাতে জনপ্লাবন। পশ্চাদগমনে এঁটো থালায় উপবাসী চাঁদের হাসি বামুনের নাগালের বাইরে। রাজপথ পায় আদুরে স্পর্শ সোনার ঝাঁটার পরিবর্তে ছাপোষা জুতোর তলার ধূলো।ভাবে বুঝি আমি আজ দেব।
ছুঁড়ে ছুঁড়ে অচ্ছুত কানাকড়ি পুষ্পাঞ্জলী জগন্নাথের হাত ধরে গা ঘেঁষাঘেষি তেলা চকচকে পুরোহিত ঐকান্তিক মন্ত্রের সঞ্জীবনী স্পর্শে হলো ক্ষুধা রথে চড়ে বোধহয় আজ আমিই সর্বেসর্বা।
ওদিকে মনে মনে হাসেন অন্তর্যামী যা আছে যা হচ্ছে সবটাই আমি। আমিই আদি অনন্ত আমিই সত্য সর্বেসর্বা মহাপ্রভু।
কচিকাচা ন্যাওটা দাদুর হাত ধরে মেলাপ্রাঙ্গনে দৌড় আগামী প্রজন্মের অগ্রগতির রথ চাকা ছোট ছোট পা।
এই ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে ঠিক পৌঁছে যাবো,,,,, জগন্নাথ।
রথ ও রথের প্রাচীন ঐতিহ্য ঝমাঝম বৃষ্টিতে নোনা দেওয়ালে গা ঘেঁষে পাপড় ভাজা,,, কিংবা মিষ্টি গজা।
চলো লিখে উড়িয়ে দাও কৈশোর ও শৈশবের রথের নিশানা বিজয় পতাকা।
রথ যেন অগ্রগামী হয় রথী তোমার করপদ্মে আমাদের ছাইপাঁশ যেন মুক্ত মন হয়।
পরিশেষে জগন্নাথ মাসির বাড়ি থেকে ফিরে মানভঞ্জন পালা সারবে পরিতৃপ্তির হাসি হেসে হাড়িভর্তি রসগোল্লায় প্রেম নিয়ে লক্ষ্মীকে দেবে সংসারের সারমর্ম অলৌকিক মিলন পালা।

বিষয়: রথযাত্রা, প্রেম পরিনয়ের আবদার মেলায় কেনাকাটা, নতুন কচি প্রজন্মের হাত ধরে শৈশব কে ফিরে পাওয়া, মনুষ্যত্বের ও ঈশ্বরিক গোলকধাঁধা জটিল চিন্তন সাথে পশ্চাদগমন অর্থনৈতিক যাঁতাকলে নিষ্পেষন।

**কবিতা পাঠান ২ টি বা তিনটি উপরোক্ত বিষয়ে আর আমাকে মেল করুন।supritibarman769@yahoo.in

Last date of submission 10th August.