বিদ্যাসাগরের মূর্তির ভগ্নদশা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিদ্যাসাগরের মূর্তির ভগ্নদশা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সম্পাদকীয় কলম--সুপ্রীতি বর্মন


উপসংহার,,,,,

(( "বিদ্যাসাগর স্মৃতিকথা" গ্রন্থ থেকে এই অংশটি সংগৃহীত। এই প্রেক্ষাপটের সাথে প্রাসঙ্গিক আমার কিছু পর্যালোচনা"))


সংসার যেরূপ বিরুদ্ধ স্থান, তাতে তুমি দীর্ঘজীবী হলে কখন‌ই সুখ ও স্বচ্ছন্দে জীবনযাত্রার সমাধান করতে পারবে না। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কর্মেন্দ্রিয় এর শৈথিল্য আসবেই এবং উপযুক্ত মনোবল না থাকলে এই নৈরাশ্য ও হাহাকার এড়ানো অসম্ভব। দেহ যখন দেহধারীর বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখন মনকে এক দেহাতীত আদর্শের আকাশে স্থাপন না করে উপায় নেই। তিনি মানুষের দুঃখ দেখলে আবেগের আতিশয্যে ঈশ্বরের অস্তিত্বেও প্রশ্ন তুলতে সাহসী হয়েছেন,,,,,

আজ সেই মনীষীর ভগ্নদশা ঈশ্বর বোধে নিজেই একটা অনিশ্চিত ভবিতব্য এর মুখে প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে ঝুলে আছে,,, সকল মানুষের কর্মেন্দ্রিয় তে হয়ত শৈথিল্য এসে গেছে যে ঐ ঘটনা ঘটে যাওয়া কেউ আর আটকাতেই পারলো না,,, দেহ যেটা একটা বিরাট বিড়ম্বনা তাকে পরিত্যাগ করে দেহাতীত আদর্শেই তার মহান আত্মা পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে। সংরক্ষিত যার ছোঁয়া পেতে অসীম মহাকাশ শূন্যতা বুকে ধরে রাখতে হয়,,, যেটা হয়ত আমাদের মতন নগন্য মানুষের সীমারেখার অনেক উর্ধ্বে,,,, তাই এই মূর্তি ভেঙে যাওয়াই বোধহয় ভালো,,, কারণ তা গ্রহণ করতে আমরা সম্পূর্ণরূপে অপারগ,,,,

বিদ্যাসাগর দুঃসহ আঘাত পেয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত এই বেদনা বহন করেছিলেন। তিনি নৈরাশ্যগ্রস্ত  pessimist  ছিলেন বলেই আখ্যাতি লাভ করেছেন।তার বেদনা ছিল দেশের কাছ থেকে সেখানে তিনি শান্তি পাননি। তিনি তাতে কর্তব্যভ্রষ্ট হননি, কিন্তু তাতে তার জীবন বিষাদে আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল। বড় তপস্যার দিকে স্বদেশীদের কাছেও কোন অভ্যর্থনা পাননি।

মহাপুরুষেরা হয়ত না পাওয়ার গৌরবের দ্বারাই ভূষিত হন।বিধাতা তাদের যে দুঃসাধ্য সাধন করতে সংসারে পাঠান তারা এই দেবদত্ত দৈত্যের দ্বারাই অন্তরের মধ্যে সম্মান গ্রহণ করেই আসেন। বাইরের অগৌরব তাদের অন্তরের সেই সম্মানের টীকাকেই উজ্জ্বল করে তোলে,অসম্মান‌ই তাদের পুরস্কার,,,,
আর সাধারন মানুষের ক্ষেত্রে সাধনায় সামান্য না পাওয়ার শোক নিয়তি ও নির্যাতনের হাহাকারে  জীবন কে বিষাদান্ত করে তোলে। বিভ্রান্তির বোধ তাকে অনুশোচনায় দগ্ধ করে মারে আর তার আত্মিক ভারসাম্য খোয়া যায়,,,,

বিদ্যাসাগরের অস্তিত্ব ঐ আঘাতে বিন্দুমাত্র খন্ডিত হয়নি আর কোনদিন হবেও না,,, কারণ তার আদর্শ হল দেহাতীত,,,, জগৎ-তত্ত্বই তার সাধনার অবলম্বন ছিল,,, সেখানে আত্মতত্ত্বকে তিনি যদি বর্জন না করে চলতেন তবে অতলান্ত সমুদ্রবক্ষে জ্বালা যন্ত্রণার বিক্ষোভের পরিবর্তে অনাসক্তির নিস্পৃহতাই দেখা দিত না কি নিশ্চল শান্তির তারল্য?

তাই তার প্রাপ্তিযোগ নিয়তির কালরাত্রির দুর্যোগে কিঞ্চিৎ হলেও তার মান সর্বত্যাগী ও অক্ষুণ্ণ আছে এবং থাকবে সকল বাঙালীর মনে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই,,,,


সমস্যার মীমাংসা,,,, সমাধান সূত্র,,,,

#######################

একদিকে লোকে অন্ধবিশ্বাসের অধীন হয়ে আপন ভাগ্যের নিন্দা করতে করতে অলসভাবে তাদের দিনযাপন করতে থাকে। জাগতিক কি ঘটছে বা আসন্ন আগামীতে কি ঘটতে পারে সেটার ইঙ্গিত ঐ যতটুকু নিউজ হেডলাইন বা সোশ্যাল মিডিয়া গুছিয়ে  garnishing  করে মুখের সামনে ধরে দেয় ততটাই আত্মকেন্দ্রিক সুখে গ্রহণ করতে থাকি। বাকি কি হচ্ছে না হচ্ছে তার প্রতি উদাসীন থাকাই সংসারের পক্ষে মঙ্গল,,,,

অপরদিকে নতুন ভাব ও নতুন উদ্যমের খরস্রোতে শিক্ষিত বাঙালী যুবকদের আদর্শহীন অজ্ঞাতপথে নিয়ে যাচ্ছিল কারণ তাদের  মাথার উপর কোন নির্দিষ্ট পথপ্রদর্শক নেই বা তার অভাব যথেষ্ট রয়েছে,,, যেটা এক জটিল ধাঁধা,,,,

সেখানে বিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ করে কর্মক্ষেত্রের দরজায় দাঁড়িয়ে নতুন বিদ্যাসাগর দেখলেন,,,,মূর্তিমান মনীষী আদর্শের এক স্মৃতিসৌধ স্মারকে দাঁড়িয়ে থ হয়ে,,,, কি সব ঘটে চলেছে চতুর্দিকে কেবল এক নৈরাজ্য স্বার্থান্বেষী খাওয়াখাওয়ি আর নৈরাশ্যের ঘন ধুম্রকালো জটাজুট এলোকেশে সর্বস্বান্ত মাতৃভূমি,,,,আমার সোনার বাংলা।

একপাশে রাজনৈতিক দলাদলি আক্রোশে আক্রমণাত্মক পারস্পরিক হিংসা ও হানাহানি,,, আবর্জনাপূর্ণ যেন কোন বিশাল অরণ্য,,, বহু রত্নের আকর হয়েও অজ্ঞাত ও কুসংস্কারের দৃঢ় নিগড়ে পরিবেষ্টিত,,,,

অপরদিকে বিচিত্র দৃশ্য সমুদ্র বক্ষ নিষ্পাপ ও নিশ্চল সাহিত্য ও সৃষ্টি সাধনার যেখানে রয়েছে হৃদয়গ্রাহী নান্দনিকতা ও সৌন্দর্য আর এক অপার অগাধ প্রশান্তি,,, কিন্তু তার মধ্যেও চাটুকারিতা ও পদলেহনের কর্কট কিংবা বৃশ্চিক,,,, আর রয়েছে সর্বগ্রাসী লোভের তিমি ও মকর যাদের অন্তহীন সমুদ্রের তলায় গুপ্ত অবস্থান।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উভয়ের সন্ধিস্থলে দাঁড়িয়ে দিব্যনেত্রে তার ভাবী সংকল্পের পথ দেখাতে থাকলেন। আর উভয় বাধা বিঘ্নের মধ্য দিয়েও একটা সুদৃঢ়পথ তৈরী করে ছাড়বেন বলে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন,,, যে চেষ্টা আমরা এই জাগতিক দুর্বিষহ জীবনে ও অর্থনৈতিক বৈষম্যে সমানে করে চলেছি আর পর্যুদস্ত হয়ে যাচ্ছি বারবার।

প্রাচ্য কুসংস্কার ও পাশ্চাত্য আড়ম্বর পরিহার করে নিষ্ঠাবান ও কর্তব্যপরায়ণ বীরপুরুষের উপযুক্ত পথে তিনি অগ্রসর হতে লাগলেন। উভয়পক্ষের মন্দভাগ ত্যাগ করে রত্ন আহরণের চেষ্টায় মেতে উঠলেন। আর সেইভাবেই আপন জীবনের শোভা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে বর্তমান জীবনের সমস্যার মীমাংসা করা যেতে পারে,,, আর হয়ত এই প্রচেষ্টায় একটা ঠিকঠাক সমাধান সূত্র পাওয়া যেতে পারে।।


সম্পাদকীয় কলম--সুপ্রীতি বর্মন


চতুর্থ ভাগ: কবিতা প্রশস্তি,,,,

(( বিদ্যাসাগর স্মৃতি গ্রন্থ থেকে কবিতাটি সংগৃহীত,,,))

সাগর- তর্পণ,,,,

লিখেছেন কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত,,,,

(( আমার সংযোজন,,, এই অপুর্ব বিদ্যাসাগর প্রশস্তি সূচক কাব্যের সাথে আমার লিখিত খন্ডবিখন্ড অন্তরসত্য,,কিছু নিজস্ব কথন,,, ))

১,,,,,,

বীরসিংহের সিংহশিশু! বিদ্যাসাগর! বীর!
উদ্বেলিত দয়ার সাগর-বীর্যে সুগম্ভীর!
সাগরে যে অগ্নি থাকে কল্পনা সে নয়,
তোমায় দেখে অবিশ্বাসীর হয়েছে প্রত্যয়।

নিজস্ব সংলাপ,,,,
(অন্তরসত্য),,,,,

((স্থবিরতায় সেদিন যে সাগর--‌অগ্নি ঘুমিয়ে ছিল মহান মনুষ্যত্ব আদর্শে জান্নাত সংরক্ষিত মৌন‌-ঈশ্বরচন্দ্র-সৌধে,,, তা হঠাৎ করালগ্রাসী শাসনতান্ত্রিক পুঞ্জীভূত ক্ষোভে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে এক তীব্র সাম্প্রদায়িকতার পদস্খলনে,,,, কি তীব্র তার আর্তনাদ হায় বাঙালী হায়,,, তুই শুনলি না বা শুনতে চাসনি একবার,,, তাই হয়ত জেগে উঠেছে অবিশ্বাসী প্রত্যয় আবার,,))



২,,,,,,

         নিঃস্ব হয়ে বিশ্বে এলে, দয়ার অবতার!
        কোথাও তবু নোয়াওনি শির,জীবনে একবার!
দয়ার স্নেহে ক্ষুদ্র দেহে বিশাল পারাবার,
সৌম্য মূর্তি তেজের স্ফূর্তি চিত্ত- চমৎকার।

নিজস্ব সংলাপ,,,,
(অন্তরসত্য),,,,

((অখন্ড পৌরুষ তুমি কোনদিন নোয়াওনি তব উন্নত শির আজ তবে কেন খন্ডিত শিরধ্বজা বিষণ্ণ আঙ্গিক,,, ভেঙে পড়েছে অপদস্থ ধূলিশয্যায়,,, তোমার ছিন্ন-‌চির উন্নত-শির))


৩,,,,,,

নামলে একা মাথায় নিয়ে মায়ের আশীর্বাদ,
করলে পূরণ অনাথ আতুর অকিঞ্চনের সাধ,
বিঘ্ন-বাধা তুচ্ছ করে দৃপ্ত দুর্নিবার,
অদৃষ্টেরে ব্যর্থ তুমি করলে বারংবার।

নিজস্ব সংলাপ,,,,
(অন্তরসত্য),,,,

((ভাগ্যের কুচক্রী পাপবিদ্ধ শরাঘাত তোমার আদর্শে এনেছে আঘাত,,,, তাই ইচ্ছে না থাকলেও আজ দশচক্রে ভগবান হয়েছে ভূত,,, ভাঙন ও ঘুণ ধরতে লেগেছে তাদের হাড় মজ্জায়,,,,যেন জাতির নামে বজ্জাতি,,,, এ কেমন অদৃষ্টের নিষ্ঠুর পরিহাস))



৪,,,,,,,

বিশ বছরে তোমার অভাব পূরল নাকো, হায়
বিশ বছরের পুরানো শোক নূতন আজো প্রায়,
তাইতো আজি অশ্রুধারা ঝরে নিরন্তর!
কীর্তি-ঘন মূর্তি তোমার জাগে প্রাণের পর।

নিজস্ব সংলাপ,,,,
(অন্তরসত্য),,,,

(( আজ‌ও তুমি জেগে আছো ও থাকবে চির উন্নত পৌরুষ শৌর্যে ও পরম আত্মহুংকার বীর্যে,,, কোনদিন অভাব হবে না চাক্ষুষ করতে তোমার আদর্শ অমলিন,,,,কারণ তোমার অস্তিত্ব শুধু পথের ধারে কোন পাষাণপ্রস্তরে নয়,,, তুমি আজ‌ও জেগে আছো ও থাকবে বাঙালীর প্রাণের পর,,, কারণ তোমার আদিগন্ত ব্যাপী বিশালাকার করুণাসাগর সীমাবদ্ধ থাকতেই পারে না,,, কেবলমাত্র একটি মূর্তিতে,,,))



৫,,,,,,

স্মরণ-চিহ্ন রাখতে পারি শক্তি তেমন নাই,
প্রাণপ্রতিষ্ঠা নাই যাতে সে মূরৎ নাহি চাই,
মানুষ খুঁজি তোমার মত, একটি তেমন লোক,
স্মরণ-চিহ্ন মূর্ত! -- যেন ভুলিয়ে দেবে শোক।


রিক্ত হাতে করবে যেন যজ্ঞ বিশ্বজিৎ, -
রাত্রে স্বপন চিন্তা দিনে দেশের দশের হিত, -
বিঘ্ন-বাধা তুচ্ছ করে লক্ষ্য রেখে স্থির
তোমার মত ধন্য হবে, - চাই সে এমন বীর।


তেমন মানুষ না পাই যদি খুঁজব তবে হায়,
ধূলায় ধূসর বাঁকা চটি ছিল যে ঐ পায়,
সেই যে চটি উচ্চে যাহা উঠত এক-একবার
শিক্ষা দিতে অহংকৃতে শিষ্ট ব্যবহার!


সেই যে চটি দেশের চটি বুটের বাড়া ধন,
খুঁজব তারে, আনব তারে, এই আমাদের পণ,
সোনার পিঁড়েয় রাখবো তারে থাকবো প্রতীক্ষায়
আনন্দহীন বঙ্গভূমির বিপুল নন্দিগাঁয়।


শাস্ত্রে যারা শাস্ত্র গড়ে হৃদয়-বিদারণ,
তর্ক যাদের অর্কফলার তুমুল আন্দোলন,
বিচার যাদের যুক্তিবিহীন অক্ষরে নির্ভর,
সাগরের এই চটি তারা দেখুক নিরন্তর।


দেখুক, এবং স্মরণ করুক সব্যসাচীর রণ, -
স্মরণ করুক বিধবাদের দুঃখ-মোচন পণ,
স্মরণ করুক পান্ডারূপী গুন্ডাদিগের হার,
'বাপ-মা বিনা দেবতা সাগর মানেই নাকো আর।'

নিজস্ব সংলাপ,,,,
(অন্তরসত্য),,,,

(( অনেকটা দারিদ্র্য এর দুর্বিষহ যন্ত্রণা ও শোক বুকে চেপে করে গেছো দেশ ও দশের মঙ্গল,,,, নিজ লক্ষ্যে স্থির থেকে একাগ্র চিত্তে,,, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন,,,, যদি ঐ পাষাণপ্রস্তরে জাগে তোমার প্রাণ তাহলে হয়ত এই ঘোর অরাজকতার খান্ডবদহনে হাতে তুলে ধরতে আবার বাঙালী চটি আর পিটিয়ে পিটিয়ে সিধা করে দিতে পারতে ভেঙে যাওয়া মেরুদণ্ড এ দাঁড়ানো ক্ষণজীবী বাঙালী জাতি,,,, ঘুচে যেতো সকল মিথ্যা উচ্চকন্ঠী প্রতিবাদের আম্রকানন,,ভগ্নপ্রায় জাতির হাস্যকর আস্ফালন,,,, ))



৬,,,,,,

অদ্বিতীয় বিদ্যাসাগর!  মৃত্যু -বিজয় নাম,
ঐ নামে হায় লোভ করেছে অনেক ব্যর্থ কাম,
নামের সঙ্গে যুক্ত আছে জীবন-ব্যাপী কাজ,
কাজ দেবে না, নামটি নেবে? একি বিষম লাজ!


বাংলা দেশের দেশী মানুষ! বিদ্যাসাগর! বীর!
বীরসিংহের সিংহশিশু!  বীর্যে সুগম্ভীর!
সাগরে যে অগ্নি থাকে কল্পনা সে নয়,
চক্ষে দেখে অবিশ্বাসীর হয়েছে প্রত্যয়!

নিজস্ব সংলাপ,,,,,,
(অন্তরসত্য),,,,,

(( আশায় আছি আর আমার মায়ের ভাষায় আছি সুরক্ষিত থাকার সকল উপাচার যত্নে আগলে রেখে আলপথ ধরে যেন কোন কিছুর আঁচ গায়ে না লাগে,,,, আবার হয়ত আসবে একদিন সেই সুসময় যখন দৃপ্ত বজ্রকঠিন প্রত্যয়ে ভাঙা মেরুদন্ড সোজা করে অবিশ্বাসী বাঙালীর জাগবে বিশ্বাস,,,,বিদ্যাসাগর অপরাজেয় আপোষহীন পৌরুষে সাহসিকতার বর্ণপরিচয়ে দুর্বল মানুষকে দেবে ঘুরে উঠে দাঁড়ানোর মতন দুর্দমনীয় আত্মবিশ্বাস,,,,সেদিন আবার আমার জন্মভূমি জগত সভার শ্রেষ্ঠ আসন গ্রহণ করবে,,, ))



সম্পাদকীয় কলম--সুপ্রীতি বর্মন


তৃতীয় ভাগ:

(( এই অংশের লেখা অনুপ্রেরণা পেয়েছে আর সংগৃহীত হয়েছে,, "বিদ্যাসাগর স্মৃতি",,,এই গ্রন্থ থেকে))

বিদ্যাসাগরের অসীম আত্মসম্মান বোধ,,,,

খন্ডিত হয়েছে সেই প্রাককথন,,,,

খন্ডবিখন্ড তার মূর্তি আজকের জনহিতে কল্যাণকারী,,,এখনকার সৃষ্ট প্রগতিশীল সমাজে,,,

বিমূর্ত চিন্তা ও চেতনার আখর,,,,,


একদিন বিদ্যাসাগর কোন প্রয়োজনে সংস্কৃত কলেজ থেকে হিন্দু কলেজে কার সাহেবের সাথে দেখা করতে যান। কার সাহেব তখন তার কামরায় সামনের টেবিলের উপর জুতো পরে পা দুটো ছড়িয়ে চেয়ারে বসেছিলেন,,,, বিদ্যাসাগর কে দেখে পাদুটো নামালেন না আবার গুটালেন না,,, এতটাই তার ঔদ্ধত্য। তার চেয়ে সে বরং ঐদিকে যে চেয়ার আছে পায়ের আঙুলের নির্দেশে তাতে বিদ্যাসাগর কে বসতে বললেন। সেই অবস্থায় বিদ্যাসাগর কথাবার্তা সেরে চলে গেলেন,,,,

 ((মনে মনে হয়তো ভেবেছিলেন,,,, আমারো একদিন আসবে যেদিন তোমার অন্ধ আত্ম‌অহংকারী ঔদ্ধত্যের উচিত শিক্ষা দিয়ে তোমাকে বুঝিয়ে দেবো,,,, আমরা ভারতবাসী নেহাত অপ্রয়োজনীয় ক্ষুদ্র দমে যাওয়া জাত নয়))


কিছুদিন পর কি প্রয়োজনে কার সাহেব সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাসাগরের সাথে দেখা করতে যান। তখন বিদ্যাসাগর টেবিলের উপর তার তালতলার চটি শোভিত পদযুগল কার সাহেবের দিকে প্রসারিত করে কথাবার্তা বলতে লাগলেন। এরপর এই ব্যবহারে কার সাহেব অত্যন্ত অপমানিত বোধ করে উপরিওয়ালার নিকট নালিশ করলেন,,,,

((নিজের কৃতকর্মের জন্য উচিত শিক্ষা পেলেন তবে কথায় নয় কাজে অনেকটা বুদ্ধিশীল ব্যক্তির ছলে বলে কৌশলে,,,কিন্তু অহমবোধ তাকে এতটাই পঙ্গু করে রেখে দিয়েছিল যে নিজেকে সংশোধনের পরিবর্তে উল্টে নালিশ জানিয়েছিলেন বিদ্যাসাগরকে জব্দ করে তাকে শাস্তি দেবার জন্য))

বিদ্যাসাগরের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হলে তিনি উত্তরে যা লিখেছিলেন,,, তা অবিকল ইংরাজীতে উদ্ধৃতি করে দেওয়া হল,,,,

বিদ্যাসাগর লিখলেন,,,

" I thought that we(natives) were an uncivilized race quite unacquainted with refined manners of receiving a gentleman visitor.

I leagned the manners of which Mr. Kerr complains from the gentleman himself, a few days ago, when I had an occasion to call on him.

My notions of refined manners being thus formed from the conduct of an enlightened, civilised European,

 I behaved myself as respectfully him as he had himself done",,,,,


এখানে হিন্দিতে একটা কথা আছে,,,(("য্যায়সি করনি ওয়াসি ভরনি")),,,,,

(( এই লেখাটি অনুপ্রেরণা পেয়েছে একটি নাম না জানা সংগৃহীত কবিতা থেকে,,, তাকে জানাই আমার আন্তরিক ধন্যবাদ))

সুস্থ চৈতন্যশীল বোধোদয় পুরুষসিংহে বিদ্যাসাগর যার নাম,,,,
যার মস্তক হয়েছে খন্ডিত পাপাত্মার খান্ডবদহনে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের করালঘাতে,,,,
চূর্ণবিচূর্ণ লুন্ঠিত সেই পুণ্যাত্মা আজ ভূমির শয্যায়,,,
 প্রখর আত্মসম্মান হারিয়ে এক প্রকট অবমাননা ও লজ্জায়,,,,
এই ঘটনার সাক্ষ্য সকল অবরুদ্ধ বাঙালী চেতনায় জেগে উঠুক লজ্জা,,,এক ধিক্কারে সরব দীর্ঘশ্বাসে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ,,,, ছি ছি,,,,

কিন্তু নীরব বাঙালী সমাজ আজ নির্বাক ও নীরব পাথর হয়ে বাঁচে।
যতো ভন্ডামো ও চাটুকারিতায় তাদের মুখের উপর তুলে দেওয়া ক্ষমতার পাদুকা পদলেহন করে।
তখন হয়ত তাদের মরা বিবেক দর্পণে (গৃহশোভা) দেখে,,,সভ্যতা লজ্জায় কেমন মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে আছে,,, রোজ নগ্নতায় ধর্ষণকামী শরীর পোষাকের আচ্ছাদনে লুকিয়ে রেখে,,,,

বিদ্যাসাগরের পাষাণপ্রস্তরে এই আঘাত এসেছে কিন্তু তার উচ্চ আদর্শ ও উন্নত শির এতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কুণ্ঠাবোধ করেনি।
 উগ্র অন্ধ বিষ যা সাম্প্রদায়িকতার নামে মানুষকে বিষাক্ত সোমরসের ঘোরে আসক্ত করে রেখেছে ---যে কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল সেই মূল্যবোধটুকু হারিয়ে ফেলেছে,,,,,,
প্রকৃত জ্ঞানের ও মনুষ্যত্বের আলো অপ্রচলিত সভ্যতার হ্যারিকেনে গচ্ছিত রেখে তাকে নিভিয়ে দিয়ে শুতে চলে গেছে কর্মবিমুখ প্রতিবাদের অন্ধকার বুকে চেপে প্রচন্ড ভয় পেয়ে।
প্রতিবাদের ভাষা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে,,,,

কিন্তু তারা হয়ত ভুলে গেছে দল, মত, ধর্ম, রাজনীতি সকল কিছু পরে আসে,,, আগে আসে মনুষ্যত্ব,,,,
মায়ের দুধের ঋণ যেমন অসমাপ্ত শোধে তোমার শিয়রে সদাজাগ্রত থাকে,,,, তোমাকে লালন করতে থাকে প্রতিক্ষণে নিজ মাতৃস্নেহস্নিগ্ধ পরশে,,,, ঠিক তেমনি,,,,
বাঙালীর প্রতি নিঃশ্বাসে মাতৃভাষার অমোঘ বিশ্বাসে প্রতিক্ষণে বিদ্যাসাগর জাগে,,,,,

জাগো বাঙালী জাগো,,,, আর কেন,,,, অনেক তো হলো,,,,



সম্পাদকীয় কলম--সুপ্রীতি বর্মন


দ্বিতীয় ভাগ : বিদ্যাসাগরের মূর্তির ভগ্নদশা,,,,


শিশুদের হাতেখড়ি পাঠ "বর্ণপরিচয়" ‌এ ভাঙন

দুষ্টের শাসন নৈরাচার আর শিষ্টের দমন,,,,


আমাদের প্রগতিশীল সমাজে উচ্চবিত্ত হবার প্রলোভনে অর্থের জোয়ারে গা ভাসাতে গিয়ে নগ্নচূড়ায় হিম আশঙ্কার তাই অনেকটাই বিদ্যা পঙ্গু হয়ে যায় অর্থের অভাবে,,, অনেকসময় অভাব এনে দেয় অনিচ্ছা ও অনাসক্তি তাই ভাতের থালায় ভাত বেশী জঠরকে স্বস্তি দেয় বিদ্যালয়ে দিবারাত্র ঝুলতে থাকা কালো ব্লাকবোর্ডে খড়ির লেখনী শুভ্র শব্দগুচ্ছ এর থেকেও। তাই হয়ত বিদ্যাসাগরের মাথা ভেঙে পড়েছে লজ্জায় ও ঘৃণায় এক পিতা হিসাবে যে অক্ষম জীবনের পাঠ শেখাতে তার সন্তানকে কিংবা সুশিক্ষা দিয়ে তাকে মানুষের মতন মানুষ করে তুলতে,,,, কিংবা অর্থ ও প্রতিপত্তির ক্রমাগত লেহনে শিক্ষার কোনঠাসা হ‌ওয়া তে,,,

আবার অনেকসময় পোয়াতি মাতৃজঠরে শায়িত ক্ষুদে শৈশব ভূমিষ্ঠ হতে না হতেই হুমড়ি খেয়ে তাকে পিতামাতার ইংলিশ মিডিয়ামে ভর্তির অশ্বদৌড়,,, তারা বর্ণপরিচয়ের থেকে ইংরাজী বর্ণমালা A for apple and B for ball,,, একেক গরাসে মুখে তুলে দিতে বেশী পছন্দ করে রুগ্ন স্বাস্থ্য এ,,, তাই হয়ত অনেকটাই বাংলা হীনম্মন্যতায় ভুগে কঠিন জরা ও অবসাদের চাপে আজ অনেকটাই পদদলিত তাই দেখে সঙ্কোচনশীলতায় বিদ্যাসাগরের মাথা ফেটে চৌচির হয়েছে,,, এমনটাই তো হ‌ওয়ার কথা ছিল অনেক আগেই,,, অনেকটাই দেরী হয়ে গেছে হতে,,, এতে আশ্চর্য হ‌ওয়ার কিছু নেই,,,,

(( বর্ণ পরিচয়ের আত্মবিশ্লেষণ )),,,,

((বিদ্যাসাগর স্মৃতি গ্রন্থ থেকে বিদ্যাসাগরের চরিত্রের বিভিন্ন দিক সংগৃহীত,,,))



অ---- অ এ অজগর আসছে তেড়ে,,,,,

(( এক কঠোর কঙ্কালবিশিষ্ট উগ্র পুরুষকার যা কখনো ভাঙে নি,,, নোয়াতে পারেনি,,,, সেই উন্নত মস্তক যা কখন‌ও বিশাল ক্ষমতা ও ঐশ্বর্যের নিকট অবনত হয়নি,,,, সেই উৎকট বেগবতী ইচ্ছা যা সকল প্রকার কপটাচার থেকে নিজেকে মুক্ত রেখেছে,,,, তার এই দুর্ধর্ষ স্বত্তার উদাহরণ হয়ত তাদের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে যারা কঠোর জীবনদ্বন্দ্বে লিপ্ত থেকে দু ঘা দিতে জানে আবার দু ঘা খেতেও জানে।
কিন্তু আমাদের মধ্যে যারা তুলির দুধ চুমুক দিয়ে পান করে আর সেই দুধ মাখন তুলে জল মিশিয়ে নেয় তাদের মধ্যে এই উদাহরণ সত্যিই গভীর আলোচনার বিষয়।

সেখানে এই বিভীষিকা উগ্র জাতীয়তাবাদী হুংকারের করালগ্রাসে এগিয়ে আসছে সেই মনুষ্যরূপী অজগর,,,, ধাওয়া করে আসছে ঠিক এইদিকে এগিয়ে,,, এক মহান মনুষ্যত্বের শির খন্ডন করে তাকে স্বার্থান্বেষী ক্ষুধায় গোগ্রাসে গিলে খেতে,,,,))



আ-----আ এ আমটি খাবো পেড়ে,,,, 

(( নির্লোভ এক পৌরুষ স্বত্তা,,, একসময় ছোলা বাতাসা জলপান করে পাঠশিক্ষা করতেন,,, তিনি অকুতোভয়ে চাকরী ছেড়ে দিয়ে স্বাধীন জীবিকা অবলম্বন করে জীবনের মধ্যপথে স্বচ্ছলভাবে জীবন যাপন করেছেন,,,, 

এক অখন্ড পৌরুষ যিনি তাপিত কে ছায়া এবং ক্ষুধিত কে ফলদান করতেন কিন্তু আমাদের শতসহস্র ক্ষণজীবী সভাসমিতির ঝিল্লিঝংকার হতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ছিলেন। 

সেখানে এই স্বার্থান্বেষী সমাজ শুধু নিজেরটাই আগে বোঝে,,, আর উপযুক্ত মিষ্টি ফলকে হাতের মুঠোয় আনতে মিথ্যাচারের মিষ্টি কথায় দিন কে রাত আর রাত কে দিন
করে,,, কাজের আগেই আ এ আমটি উঁচু ডাল থেকে পেড়ে খেতে চায়)) 




ই---- ই এ ইঁদুর ছানা ভয়ে মরে,,,,, 

(( রোগের বীভৎস মলিনতা তাকে কখনো রোগীর নিকট থেকে দূরে রাখতে সক্ষম হয়নি। তার কারুণ্যের মধ্যে পৌরুষ ও ঋজুতা লক্ষ্য করা যায় যা তাকে কখনো কুন্ঠিত করে নি। 
রবি ঠাকুরের ভাষায় গিরিশৃঙ্গের দেবদারু গাছ যেমন শুষ্ক শিলাস্তরের মধ্যে অঙ্কুরিত হয়ে প্রাণঘাতক হিমানী বৃষ্টি শিরোধার্য করে, নিজের আভ্যন্তরীণ কঠিন শক্তি দ্বারা প্রচুর সরস শাখাপল্লব বিস্তার করে সরল মহিমায় অভ্রভেদী করে তোলে,,,, ঠিক সেরকম হলেন বিদ্যাসাগর,,,, 

ইঁদুর ছানা হয়ে থাকা শুধুমাত্র জাতির নামে কলঙ্ক,,, আর অনেকক্ষেত্রে অজ্ঞানতা যেটা শুধু শিক্ষা থেকে নয় আত্মস্থ উপলব্ধি থেকে দূর হয়,,, তার সত্যিকারেই খুব অভাব,,, তাই অন্ধকার সদাই এগিয়ে আসে দুর্বলতা হয়ে তাকে গ্রাস করে নিতে)) 



ঈ--ঈ এ ঈগল পাখি পাছে ধরে




উ--- উ এ উট চলেছে মুখটি তুলে,,,,, 

(( বিদ্যাসাগরের চরিত্রের সর্বপ্রধান গুণ তিনি পল্লী আচারের ক্ষুদ্রতা, বাঙালী জীবনের জড়ত্ব সবলে ভেদ করে একমাত্র নিজের গতিবেগপ্রাবল্যে কঠিন প্রতিকূলতার বক্ষ বিদীর্ণ করে ---- হিন্দুত্বের দিকে নয়, সাম্প্রদায়িকতার দিকে নয়, করুণায় অশ্রুপূর্ণ উন্মুক্ত অপার মনুষ্যত্ব এর অভিমুখে নিজের দৃঢ়নিষ্ঠ একাগ্র একক জীবনকে নিয়ে গেছেন,,,, নিজ লক্ষ্যে স্থির থেকে,,,,, 

এইভাবে উন্নতশির চির শৌর্যে পৌরুষ স্বত্তা হয়ে এগিয়ে চলতে একাগ্রচিত্তে নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকে,,,,,মরুভূমিতে জল,,, ছাড়া বেঁচে,,,এক উটের মতন ,,,সত্যিই দুর্লভ চির মলিন এই জাগতিক ছলে,,,)) 



ঊ--- ঊ এ ঊষা যেন দীঘির পাড়ে,,,, 

(( ঈশ্বরচন্দ্র মোটেই সুবোধ বালক ছিলেন না। তার মত দুর্দান্ত ছেলের উৎপত্তি হলে বাঙালী জাতির শীর্ণ চরিত্রের অপবাদ ঘুচে যেত।

সেই ঊষা আবার কবে যে উদয় হবে ঐ জনসমুদ্র স্বার্থান্বেষী কোলাহল ও সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের আত্মহনন দীঘির কোলে,,, সত্যিই তার আশা এখন অনিশ্চিত সত্য))



এ--এ এ এক্কা গাড়ি ঐ ছুটছে,,,, 

(( প্রগতিশীল অর্থ ও প্রতিপত্তির আতিশয্য এ অন্ধত্ব গ্রাস করেছে ঐ উন্নত নাগরিক দৃষ্টিভঙ্গি যা এখন এক জটিল ধাঁধা,,, শুধু দিশাহীন হয়ে সকলে ছুটে চলেছে হন্যে হয়ে,,, ছুটতেই থেকেছে,,, কে জানে কবে সত্যিকারের বেঁচে উঠার দিশা পায়)) 




ঐ-- ঐ এ ঐ দেখো ভাই চাঁদ উঠেছে,,,,

(( বিদ্যাসাগর একজন খাঁটি বাঙালী ছিলেন,,, তার গ্রামে তখন পাশ্চাত্য শিক্ষার তেমন একটা প্রভাব ছিল না,,, কিন্তু পরে তিনি নিজে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও দীক্ষায় অনেকটাই সমৃদ্ধ হয়েছিলেন কিন্তু তাকে অনুকরণ করার মত অনেক কিছুই ছিল সেটাতে তার চরিত্রের কোন পরিবর্তন হয়নি। কারণ তার আগেই তার চরিত্র সমগ্রভাবে সম্পূর্ণরূপে গঠিত হয়েছিল,,,

ঐ দেখো ঝাঁ চকচকে আধুনিক উন্নত শিক্ষা পাশ্চাত্য সমাজ ও তার প্রগতিশীল ধারণা,,, তাই ঐটা মানে চাঁদকে হাতের মুঠোয় করতে ভেঙে দুমড়ে মুচড়ে নিজের অস্তিত্বকে মাতৃভূমির মাটি যেন এক লহমায় শেকড় উচ্ছেদের প্রতীক্ষায় ,,, চলো চলো লেগে পড়ি আধুনিক ভাবে নিজেকে পাল্টে গড়ে নিতে পাশ্চাত্য শিক্ষায়,,, )) 



ও--ও এ ওল খেওনা ধরবে গলা,,,,, 

(( কঠোর সংগ্রামী জীবন যাপন করে মাত্র সত্তর বছর বয়সে ১৮৯১ সালে বিদ্যাসাগর মারা যান। পৃথিবী তে এমন লোক খুব কম‌ই জন্মেছেন। একথা বলা যেতে পারে যদি বিদ্যাসাগর কোন ইউরোপীয় দেশে জন্মাতেন তবে ইংলন্ডে নেলসনের যেমন স্মারক বানানো হয়েছে,,, সেইরকম স্মারক ঈশ্বরচন্দ্রের মৃত্যুর পরেও স্থাপিত হতো। তবে ঈশ্বরচন্দ্রের স্মারক আজ বাংলার ছোট অথবা বড়, গরীব অথবা আমীর, সব লোকের হৃদয়ে স্থাপিত,,,

এইভাবে প্রতি মরণশীল ব্যক্তিস্বত্তা অমর হয়ে থাকতে চায় তার খুব সাধ,,,সকল ঐশ্বর্য ও স্থপতির একচ্ছত্র অধিকার পাওয়া,,, তাই নানা আত্মভোগী নৈরাজ্য এ করে দাপাদাপি,,,শুধু বৈষম্যে দলাদলি হিংসা আর অরাজকতা,,,কিন্তু ঈশ্বরচন্দ্র যার প্রখর অনাসক্তি এই সকল কিছুর প্রতি,,,, যেন ওল খেওনা ধরবে গলা,,, তার শুধু করে যাওয়াই ছিল একমাত্র ভোগ,,, মনুষ্য সমাজের ভোগান্তি অপসারণ তার একমাত্র উদ্দেশ্য)) 




ঔ--ঔ এ ঔষধ খেতে মিছে বলা,,,,,,

(( এই যে বাঙালীত্ব নিয়ে আমরা যে অহোরাত্র আন্দোলন করি তা অতি ক্ষুদ্র ও শীর্ণ কলেবর ধারণ করে তার সামনে। 
বিদ্যাসাগরের উন্নত চরিত্রের যা মেরুদন্ড যেটা তার সামর্থ্য ও আত্মনির্ভর শক্তির পরিচয় বহন করে তার পরিচয় বাঙালী জাতির মধ্যে সত্যিই বিরল।

এখন প্রত্যেকেই প্রায় সংকোচনশীল অন্তরস্বত্তায় অঙ্গুরীমাল পর্বের কোন কেঁচো সর্বদাই মেরুদন্ড ভাঙা হামাগুড়ি দিয়ে চলে মাটিতে শীর্ণ দেহ ঘষে ঘষে,,, সেখানে ঔষধ খেয়ে যে সে সুস্থ নাগরিক মনুষ্যত্বে বেগবতী প্রকট ইচ্ছায় মাথা তুলে দাঁড়াবে,,, সেটা সত্যিই এক অবাক করা সত্য,,,,তাই ঔষধ খেতে মিছে বলা,,,,))

সম্পাদকীয় কলম--সুপ্রীতি বর্মন,,,,


গৌরচন্দ্রিকা,,,,

(সম্পাদকীয়),,,,

আমার এই লেখনী কোন ব্যক্তিগত জাতিবিদ্বেষ,,ভাষাবিদ্বেষ,, বা কোন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিহিংসা কে আক্রমনের উদ্দেশ্যে নয়,,, এসব নিয়ে আমার মাথা ঘামানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছা বা  উদ্দেশ্য কোনটাই নেই,,,, এই লেখার এক এবং অদ্বিতীয়ম উদ্দেশ্য হল,,,,নিঃস্বার্থ ধিক্কারজনিত প্রতিরোধ,,,,

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হলেন মাতৃভাষায় বর্ণপরিচয়ের প্রণেতা,,, যেটাতে জন্মের পর কোন অবুঝ শৈশবের হাতেখড়ি হয়,,তার অক্ষর পরিচয় ঘটে,,,,যার করুণাহিতৈষী না জানি কতরকমের দেশ ও দশের জনহিতকর কাজ আমাদের সমাজ কে সকল অভিশাপের অন্ধকার যেমন বিধবা,বাল্যবিবাহ,মেয়েদের অশিক্ষা এসব কিছু থেকে মুক্তি দিয়েছে,,,অথচ সেই পিতা কিংবা জনক তার মাথা কেন কোন অপরাধে খন্ডন হল,,,,এই প্রশ্ন ও প্রতিবাদ তুলে এই প্রবন্ধ রচিত হয়েছে,,,,যেটা আমাদের বাঙালী জাতির জন্য সত্যিই লজ্জাকর ও ঘৃণ্য,,,, অন্য কোন অভিসন্ধি আমার নেই,,,


প্রথম ভাগ:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথন,,,,

বিদ্যাসাগরের আত্মবিশ্লেষণ,,,,

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের চরিত্রের প্রধান গৌরব তাঁহার অজেয় পৌরুষ, তাঁহার অক্ষয় মনুষ্যত্ব --- এবং যত‌ই তাহা অনুভব করিব তত‌ই আমাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ ও বিধাতার উদ্দেশ্য সফল হ‌ইবে এবং বিদ্যাসাগরের চরিত্র বাঙালীর জাতীয় জীবনে চিরদিনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হ‌ইয়া থাকিবে।......

------ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,,,,


(( এই অংশের লেখার অনুপ্রেরণা পাওয়া গেছে একটি নাম না জানা ফেসবুক ক্যাপশন থেকে,,, অনবদ্য তার ভাবনা,,, সশ্রদ্ধ প্রণাম ও ধন্যবাদ))

যদি মহান আদর্শে ও মনুষ্যত্বের হিতৈষিণী কর্মে অনুপ্রাণিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মুখে ভাষার যোগান দেওয়া সম্ভব হতো,,,,
তাহলে হয়ত বিদ্রোহী দামামায় একটিই অন্তর্দশন তার জাগ্রত হতো,,,,

আমার পাষাণপ্রস্তর মূর্তি ভেঙে তোমরা একদিক থেকে ভালোই করেছো,,, মুক্তি পেয়েছি সকল অশিক্ষিত স্বার্থান্বেষী গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেওয়া অশিক্ষিত চৈতন্যের মনুষ্যত্ব থেকে,,,, সেখানে তাদের মাঝে একাকী দিনরাত এক করে অস্থিচর্মসার করে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে আমি বড় ক্লান্ত,,, বড় বেমানান লাগে তোমাদের মতন অশিক্ষিত দের মাঝে থাকতে,,, কারণ মূর্খদের মাঝে আমাকে একদম মানায় না,,, আর শোভনীয় তো নয়‌ই বরং শোচনীয় এই অবাক কান্ডজ্ঞানহীন কর্ম,,,, সকল জটিল মনস্তত্ত্ব এর সাতসাতেরো আর তার মারণপ্যাঁচ আটকে রয়েছে,,,, মস্তিষ্কের গুরুচণ্ডালী দোষ স্নায়ুতন্ত্রের মাকুতে,,,, তাই তার ভেঙে পড়া,,, আজকের দিনে সহজ সরল প্রাঞ্জল ও অকপট হয়ে যাওয়াই একদিক থেকে মঙ্গল,,, দেশ ও দশের পক্ষে,,,, অন্যদিকে,,, একটা মারণযজ্ঞের ভয় সবসময় নাগরিক স্বত্তার পিছু ধাওয়া করে,,, একটা অনিশ্চিত ভবিতব্য ভয়,,,, যেন কি হয়,,,, কি হয়,,,,
অর্থ ও প্রতিপত্তি তে প্রকান্ড ক্ষমতাশালী ঈগল পাখি কখন এসে পিছু ধরে,,, আর ক্ষুদ্র মনন মনুষ্য ইঁদুর ছানা ভয়েই খালি মরে,,,, আর খালি পালাতে চায়,,,,



(( একটি ক্ষোভ ও আক্ষেপের প্রতিবাদী কবিতা,,,, সংগৃহীত ইন্টারনেট থেকে,,,, নাম না জানা একটি কবিতা,,, তবুও অপূর্ব সেই আবেগ)),,,


মনীষীর মূর্তি ভেঙে এ কোন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ

যে শেখালো অ, আ, ক, খ ঘটালো বাংলা ভাষার বিকাশ......

যার ছোঁয়াতে নবজাগরণ, শিক্ষা হল নারীর হাতিয়ার.....

মানুষ কেন হয়ে উঠছে আস্তে আস্তে ক্ষমতায় জানোয়ার

চারিদিকে আজ উন্মাদনায় দেখি বড়মানুষের অবমাননা,

এ অন্যায় অবিচার যায় কি মানা?  কক্ষনো না!

তাইতো বলি মানুষ আজ বেঁচে উঠুক, জাগুক   তাদের বিবেক বোধ,

প্রতিবাদে পরিণত হোক জমে ওঠা তাদের ক্রোধ

দিকে দিকে ওঠুক আওয়াজ মুষ্টিবদ্ধ হাত হোক শক্ত

ক্ষোভ আক্ষেপ ভেতরে নয় মোদের জাগিয়ে তুলুক রক্ত

দেশপ্রেম - আচ্ছে দিন চাই না হোক বড় ইস্যু

সুস্থ একটা জীবন পাক সদ্য নবজাতক শিশু।।

দেবাশিস বসুর কলম,,,,,


ছবি সংগৃহীত হয়েছে,,,,
ইন্টারনেট সৌজন্যে,,,,
((নিকুচি করেছে)) এই অফিসিয়াল পেজ থেকে,,,,

বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য

#গদ্য কবিতা

#ছান্দসিক

মনে পড়ে প্রমিথিউস

#দেবাশিস বসু



মনে পড়ে প্রমিথিউস,
আলোকবর্তিকার সন্ধানে
তুমি যখন মানুষের কল্যাণে
শৃঙ্খলবদ্ধ- পাহাড়ের সাথে
প্রতিরাতে ঈগল ঠুকরে যেত
তোমার নগ্ন শরীর
ঈশ্বরের নির্দেশে

ঐ ছুটে চলে বাতিয়ালা
মই কাঁধে নিয়ে
সন্ধ্যা ঝাঁপিয়ে পড়ে গঙ্গাবক্ষে
ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয় ফিটনের শব্দ
আনন্দ শরীরী হয়ে ওঠার অপেক্ষায়
শিঞ্জন ভেসে আসে বাতায়ন থেকে
সন্ধ্যারতি শেষ ঠনঠনিয়ায়
অন্ধকারকে আরো আঁধার করে
ঐ কারা দাঁড়িয়ে-তোমার অপেক্ষায়
তুমি আর তোমার
বৃহদাকার মস্তকে শরীর কৃশকায়


তীব্র আঘাতে ভূপতিত তুমি
ভূপতিত খনার উত্তরপুরুষ
জিহ্বাহীন- সমাজপতির নির্দেশে
যারা বছর বছর শাবকের প্রসবাগার
কিংবা বৃদ্ধ কুলীনের শবসজ্জায়
যাদের যৌনতার মৃত্যু বাসরঘরে
জীবনের হাহাকার মাসকাবারি ক্রন্দনে
হয়তো গর্ভ কেঁদেছে সারাটা যৌবন ধরে
বারংবার সতীত্বের পরীক্ষায়
আত্মাহুতি দিয়েছে জনকদুহিতা
মিথ্যাবাদী তুলসী আজও পূজিতা


ব্যর্থ শতাধিক প্রচারপত্র  বিশেষ অভিযোগ
ব্যর্থ পঞ্চাশ হাজারি স্বাক্ষর
ব্যর্থ অসংখ্য প্রস্তরবৃষ্টি
রাধাপ্রসাদের বিচ্ছেদেও
অদম্য তুমি শ্রীস চন্দ্রের পরিণয়ে


যদি দেড়শ বছর পরে
আজও রাস্তায় গড়ায়
কবন্ধ কনিষ্কের মতো
তোমার কর্তিত মস্তিষ্ক-মহাবিদ্যালয়ে
ভঙ্গিল সারাটা শরীর - তিরস্কারে
দুচোখে অঝোর ধারা- অবিশ্বাসের
রক্তের বদলে ছিন্ন কন্ঠ থেকে
ভলকে ভলকে বেরিয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস-
অন্তিম পরাজয়ের


মনে পড়ে প্রমিথিউস,
যখন ঈগল ঠুকরে খায়
তোমার নগ্ন শরীর
আজও ঈশ্বর ঈশ্বরীর গেন্ডুয়া খেলায়-
তুমি ছিন্নমস্তক

মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০১৯

নবম ভাগ


ক্ষমা কর ঈশ্বর

সুদীপ ঘোষাল



 বিশ্বাস  ভেঙ্গে যাচ্ছে ভিতরে ভিতরে
বিশ্বাস সরে যাচ্ছে মেঘের মত
ভক্তি শ্রদ্ধার অর্থ ভুলে গিয়ে
একটা হিংসার আকাশ ঘিরে ধরছে সভ্যতা
মূর্তি ভাঙার অর্থ আমার জানা নেই
ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন   থাকে    অন্তরে
মনের ঘরে যে দীপ জ্বলে
শত ঝড়ে নেভে না
ক্ষমা কর  হে ঈশ্বর
নতুন পথের সন্ধান দাও...


ভুলে যাওয়া এক মারণ রোগ
জাতির গোঁড়ায় ঘুণ ধরে যখন
তখনই ঈশ্বরের  উপর আঘাত আসে
সে আঘাত ফিরে ফিরে বাজে
অবিচল নীরব চেতনা জাগ্রত বিবেকে


মানুষই দেবে এর হিসাব    
ভাঙা গড়ার জীবন জুড়ে
বিস্তৃত আদিগন্ত দয়ারসাগর
দয়া কর ক্ষমা কর আপন সুরে      


জীবন  নিভে যায় অন্ধকারের কোলে
আরও আরও ধামসা মাদল বাজে
আনন্দ  আগমনে
চাঁদের গাজন জুড়ে নাচে বর্ণপরিচয়ের  বিহু...



ভাষা নেই

সুদীপ ঘোষাল


মুখোশ পরে আছে যে হায়েনা

তাকে বল্লমের খোঁচা দাও
ভিড় থেকে সাদা পোশাক খুলে দেখ
কী ভীষণ নিষ্ঠুর  রাতচড়া জানোয়ার
ঘন অন্ধকারেই ওরা লুকিয়ে থাকে      

সমাজে ওরা শিকারি বন্য কুকুরের  মত নির্মম
আড়ালের কোনো প্রয়োজন নেই শূকরের
প্রকাশ্য জনপথে ওরা কুকুরের আচরণে অভ্যস্ত
ঘৃণা আর থুতু ছড়িয়ে যায় ওদের  মুখে


সভ্যতা ওদের বেয়াদপিতে গোল্লায় যায় না
গোল্লায় যায় সমাজের নিষ্ঠুর   নীরবতায়...

অষ্টম ভাগ


উগ্র প্রতিবাদী মুক্তগদ্য....

আর হব না সুবোধ বালক....

মানসী বিশ্বাস।



এখন আর সুবোধ বালক হবো না।রাজনীতির তরজা, গালিগালাজ বুকে নিয়ে মরা ভালো। নোনা আতার মতো দিগ্বিদিক চেয়ে থাকি।ভ্রূণ উঁকি মারে জানালায়।তুমি না হয় আমার মতো রাখাল হয়েই থেকো !

এবার থেকে ডজন খানেক মিথ্যে বলবো।স্ত্রী শিক্ষার প্রসারে কি লাভ হল ? যৌবনবতী চিত্রায়ণ চাপা পড়ে ছাইয়ের গাদায়।খড়ের গাদায় জমে আছে সুবুদ্ধি। যেগুলো সূঁচ খোঁজার মতো খুঁজে বেড়াই আজও।

উসকানি নয়, উগ্রপন্থি ভাব পেটের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছি প্রত্যেকে।যাদের মধ্যে চাপা পড়ে আছে এক এক বিশালাকার দৈত্য।চোখে চোখ পড়লে,খুবলে নেবে এক লহমায়। কফিনের সামনে দাঁড়াবে আত্মীয়স্বজন। পরিবারের পাশে দেখবে আর কেউ নেই !

মাটিতে পড়ে থাকে শোক-তাপ-যন্ত্রণা।পায়ের পাতায় পিষে ফেলি মানসিকতা। যার জন্য শিক্ষার 'শ' শেখা, 'অ','আ' পড়তে শেখা, তাকে নিয়ে রাজনীতি !  জোর জবরদস্তি দেশপ্রেম আবার আরেক হাউসে ! দাপিয়ে বেড়ায় দাপুটে ঝড়ের রক্ত।এখন মনে হয় মুখে বোবা হলে স্বাধীন হতাম। কথা বলার স্বাধীনতা হারালে,শান্তি পেতাম !

কর্তৃপক্ষ এখন ধর্মান্ধতা আর বেপরোয়ার শৌখিন বেড়াজালে আবদ্ধ। শুধু ধূ ধূ বালি,জোরালো হাওয়াও নেই, অক্সিজেন মাক্স চাপা পড়ে আছে তেতলার ফ্ল্যাটে। অদূরে দাঁড়ানো আলমারিতে ঠাসা নির্জীব অন্ধকারের ভূত !


শিক্ষাদানের মামুলি ধাঁচ বখাটে হয়ে গেছে। ভারী হয়ে গর্দানে চেপেছে ইংরাজি। ইংরাজি শিখে সবাই ভুলেছে পুরোনো কে।কল্পনাকে সর্বাধিক আলোড়িত করে ঠাট্টা করে দুনিয়া, তবু চেয়ে চেয়ে গান্ধারীর মতো দেখি।হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে ছুটি লোকের দোষ ধরতে !

একটা নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। ডি.এন.এ'র মতো রক্তে রক্তে পোকা মিশেছে। জ্যান্ত পোকা গুলো কিলবিল করে। জরাসন্ধরা আবার এসে গেছে। ব্যবহার করছে নিজেদের স্বতন্ত্র স্বাধীনতা ! কচু পাতায় ফুটে ওঠে নিখুঁত অভিনয়।


'ভ্রান্তিবিলাস'কে হেলেদুলে পড়েছি এককালে।কাঁথার শুয়ে ঠাকুমার কাছে শুনেছি 'সীতার বনবাস'।এখন ভ্রান্তি গুলো চাঁদের কলঙ্কের মতো লাগে।সীতার বনবাসে শুধু কানে আসে, সীতার কথা।বৃদ্ধা স্বাধীনতা বৃদ্ধাবাসের পথে হেঁটে চলে যাচ্ছে। সঙ্গী লাঠিটাও আজ ভেঙে গেছে। প্লাসে মাইনাসে পাওয়ার অতি বৃদ্ধ, ঊর্ধ্ব।চশমা গড়ানোর সামর্থ্য টুকু নেই আজ।

স্মৃতি গুলো দলাপাকিয়ে গলার কাছে উঠে আসে।নিজেরা যেন গার্হস্থ্যজীবনে এক একটা টেররিস্ট।ইমোশনাল কাব্যের জাল বুনি অহর্নিশ। আমাদের নাটকের কোন পরিচালক নেই।

ধন্বন্তরি ওঝা কথা দিয়েছে, তুমি স্থান পাবে।তুমি জিতবে শেষে, দেখে নিও,মিলিয়ে নিও আমার কথা।

আমি কিন্তু আর সুবোধ বালক হব না।রাখাল-ই না হয় রইলাম।তবু তোমাকে জুড়ে বাঁচবো।ইংরেজিপাশ জানোয়ারদের কামড় থেকে তোমাকে বাঁচাতে রাখাল-কে খুঁজবে লোকে।আমি ওই অস্তগামী সূর্যের মতো ঝিলিক দেব মাঝেসাঝে।




সপ্তম ভাগ


ঈশোপনিষদ

(আমন্ত্রিত কলম)

সুধীর দত্ত


কীই-বা করবার আছে যখন চোরের মায়ের গলা বড়ো,
কীই-বা কররার আছে যখন ঈশ্বরচন্দ্রের ধড় থেকে
আলাদা করা হয় মাথা
মন্দার বাজারে যাতে চড়চড়  টি আর পি বাড়ে।
গড় করি মাগো ঠনঠনে,
তোমাকে নোলক দেবো, পায়ে মল,বাজুবন্ধ
কোমরে, দু'গাছা চুড়ি হাতে,
চড়কা পড়বার আগে যেরকম চিড়িক-কাটা আলো
দু'চোখ ধাঁধিয়ে দ্যায়, তেমনটি না হয় যেন--- দশ চক্রে ভূত
ভগবানকে হত্যা ক'রে আমাদেরও এক একটি তোতা
বানায় সে-জাদুকলে,  পাতে পাতে পেড়ে দ্যায় হলুদ ব্যঞ্জন।
আর আমরা গো-গ্রাসে গিলি, চক্ষে দেখি সরষে ইব চারদিক হলুদ।
ভাগ্যিস বর্ণ-পরিচয়ের আলোয়
অন্ধরাও দেখেছিল পথ ;
দোবাঁকির সুড়ি খাল, বন-বাদাড় মাড়িয়ে ঠাকুর
এসেছিলেন ঈশ্বরের কাছে !

কে কনিষ্ক করল তাঁকে , কোন ব্যাপারী সওদা করে মুণ্ডহীন ধড়টুকু নিয়ে
কীইবা যায় আসে তাঁর ! তিনিই প্রথম
গীর্জা ও মন্দির ভেঙে
জ্যান্ত ঈশ-উপনিষদ হলেন।

ষষ্ঠ ভাগ


তিনি ঈশ্বর
----------------

রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

(বজ্রকন্ঠনিনাদী অগ্ন্যুৎপাতে তীক্ষ্ণাগ্র প্রতিবাদী আলোড়ন,,,,কলম)


#########################

বিদ্যাসাগর একটা যুগের নাম ৷ একটা চেতনা , একটা রেঁনেসা বা নব জাগরণের নাম ৷ আমাদের শিরদাঁড়ার নাম ৷ বিদ্যাসাগর -অক্ষরপরিচয় , নারীর উত্তরণ ৷ যে আলোকবর্তিকা কুসংস্কারকে নির্মূল করে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করে চারিদিক , সমাজের কদর্য নিয়মগুলোর মূলে সজোরে কুঠারাঘাত করে দুর্বিনীতের ছলকে চুরমার করে , নতুন দিগন্তের সূচনা করে , খুলে যায় সকলের জন্য অবারিত দ্বার , সেই আলোকবর্তিকাই  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যসাগর ৷ নারী শিক্ষা প্রসার , নারী মুক্তি , বিধবাবিবাহ প্রচলন , এক কথায় নারী জীবনের ত্রাতা , জীবন্ত বিগ্রহ ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর ৷


একটা স্পর্শকাতর আবেগ গলার কাছটাতে  কুন্ডলী পাকিয়ে ধরে ঈশ্বর চন্দ্রের নাম , উচ্চারণের সাথে সাথে ৷ একটা নির্ভয় আশ্রয় যেন দুহাতে আগলে রেখেছে আমাদের ৷ মাতৃ ভাষার জোৎস্না যখন আমাদের উঠোনে খেলা করে , সেই সৌন্দর্যের গরিমায় , ঐশ্বর্যশালী হই আমরা , তাও তো তাঁরই দান ৷ লড়াকু প্রাণ , অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা , জন্মভূমির বীর সন্তান বিদ্যাসাগর বাঙালীর গর্ব ৷ বোধের গভীরতায় তিনি আত্মার ঈশ্বর ৷


তাই ঈশ্বরের অববাননা হলে মস্তিষ্ক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় ৷ রক্তের ধারায় উত্তপ্ত লাভার স্রোত অনুভব করি ৷ তবু মারমুখী হয়ে ওঠা হয় না , কারণ উনিই তো শিখিয়েছেন সহিষ্ণু হতে , পরিমার্জিত হতে ৷ তবে তার মানে এই নয় , প্রতিবাদ করতে ভুলে যাবো আমরা ৷ উনি যেভাবে গর্জে উঠেছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে , ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ,সেইভাবেই ,  ঠিক সেইভাবেই আমরা সমবেতভাবে গর্জে উঠব এই ধিক্কৃত কাজের বিরুদ্ধে ৷



দলাদলি , রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ভাবতে হবে , যেদিন বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গা হয়েছিল সেদিন আমাদের ঈশ্বর আক্রান্ত হয়েছিল ৷ আমাদের স্বপ্ন , আমাদের সংস্কৃতি , আমাদের চেতনা , ঐতিহ্যের অবমাননা হয়েছে সেই মুহূর্তে যেই মুহূর্তে খন্ডিত হয়েছে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ৷ এ লজ্জা আমাদের সকলের লজ্জা ৷ বাঙালীর লজ্জা , বাংলার লজ্জা , জাতির লজ্জা , সমগ্র দেশের লজ্জা ৷ ধিক্কার আমাদের ,এ কেমন নৈরাজ্যের আমরা বাসিন্দা , যেখানে দেবতা আসনচ্যুত হয় , যেখানে আমাদের আবেগ চুরমার হয় !

কাগুজে বাদ নয় , রাজনীতির প্রহসন নয় , আমাদের চেতনার উদ্ভব হোক ! যে হাতগুলো আমাদের ঈশ্বরের শরীর স্পর্শ করেছিল তার গরিমা কলঙ্কিত করার জন্য তাদের শাস্তি অনিবার্য করার জন্য আমাদেরই তো পদক্ষেপ নিতে হবে ৷ কারণ পরোক্ষভাবে হলেও এই দূষিত সমাজের জন্ম দিয়েছি আমরাই ৷

পঞ্চম ভাগ


আমার হামলায়

কৌশিক চক্রবর্ত্তী


তোমার ঘর ভাঙলে আমায় শাস্তি দিও আরো--

আমার বিছানার তলায় মজুত আছে আদপে শ্মশানফেরত মানুষের চোখ
আমার সন্তানকে আমি ঘুম ভাঙাইনি নিজহাতে
এখনো ঘেরা অংশে যতটুকু ছাউনি ভেঙে জমে আছে নিজস্ব জঞ্জাল
তার দায় নেবো বলে নিজে দাঁড়াতে পারিনি খালিপায়ে

হয়তো তোমার পিঠেও ভেঙে পড়ছে নির্মীয়মাণ গাছের কার্নিশ
মাথা বাঁচাতে গেলে তোমাকে হাঁটতে হচ্ছে রেড লাইট বাসিন্দার কোলেই

খবর আসছে নতুন সাম্রাজ্যের
রাঙানো হচ্ছে নতুন পতাকাও
কিন্তু এসবের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক নেই তোমার সেরে ওঠার

আমি শুধুমাত্র তোমার ঘরের ভাঙা দেওয়ালেই অনায়াসে জিভ রাখতে পারি
কারণ আমি জানি
এ সমস্ত স্মৃতিচিহ্ন কত অনায়াসে ধ্বসে গেছে আমার হামলায়--

চতুর্থ ভাগ


লোকটা জেগে আছে

(আমন্ত্রিত কলম)

শুভঙ্কর দাস

পালকি চলেছে বীরসিংহের দিকে। চারজন বেহারা
হনহনিয়ে ছুটে চলেছে মাঠ-হাট পেরিয়ে।
ভেতরে বসে আছেন, এক আলোর পথিক।
যতদূর এগিয়ে যান, ততদূর অন্ধকার দূর হয়ে যায়।
সহসা ধেয়ে এল আক্রমণ। মাঠের মাঝখানে।
ক্রমাগত পাথর, ঢেলা আর লাঠির কুরুক্ষেত্র।
বেহারা রক্তাক্ত। প্রাণ বাঁচাতে হাওয়ায় গেল মিশে।
এবার পরমপথিক বেরিয়ে এলেন।
যে লোকটা পায়ের তলায় পিষতে থাকা মেয়েদের সামনের সারিতে এনেছেন।
 যে লোকটা পিতা-মাতাকে ঈশ্বর মনে করেন।
যে লোকটা বাঙালীর হাতে দিয়েছেন এমন এক আশ্চর্য ব‌ই,
যা ধরে তারা পৃথিবী পারাপার করতে পারে।
যে লোকটা ধর্মের দেখনদারির ঊর্ধ্বে কর্মকে পূজা করেছেন,
সেই লোকটা নেমে এলেন, দিলেন এক সিংহগর্জন,
'ওরে মূর্খ, এখন‌ও নিজেদের ভালো বুঝতে শিখলি না'


মূর্খের দল ভয়ে লুকায় যুগের জমাট অন্ধকারে।
কিন্তু তারা কোনদিন সরে না, নড়ে না বা মরে না!
তারা ঘরে ঘরে এইট পাশ মেয়ের বিয়ে দেয়, বিধবা মেয়েকে লাইনে নামিয়ে দেয়, লোহার পাতের উপর ধর্ষণ করে, পুত্রসন্তান হয়নি বলে বুকের উপর করাত চালায়, টাকার জন্য রেশনের কেরোসিনে
খান্ডবদহন সারে আর দিনরাত জিভে-চোখে-আঙুলে পুতুলের মত নাচায়।

তখন সেই সিংহগর্জন মহালয়ার অসুরদলনী
সুরের মতো ভাসতে থাকে
যা কোনদিন থামে না----
'ওরে মূর্খ, এখন‌ও নিজেদের ভালো বুঝতে শিখলি না!'

তৃতীয় ভাগ


মূর্খের স্বর্গ-----১

 আবদুস সালাম

ভাবাবেগের সূর্য ডুবে গ‍্যাছে
শিক্ষা র গৌরবে চৈতন্য লোপাট হয়

শিক্ষা র আকাশ জুড়ে সিঁদুরে মেঘের ঘনঘটা
মলিন বিদ‍্যাসাগর রাস্তায় বসে আজ বিভ্রান্ত

বিংলিশ শিক্ষায় রপ্ত  করেছি বিংলিশ শ্রদ্ধা
ক্রমশ ভেঙে যাচ্ছে মূল্য বোধের দরজার
স্মরণ নাই "সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
 সারাদিন যেন আমি ভালো ভাবে চলি"

বাঙলার মঞ্চে নৃত্য করছে চৈতন্য হীন হনুমান
পাথরের দেহ ভেসে যাচ্ছে রক্তের ফোয়ারায়
আমরা সবাই স্নান করছি মর্মান্তিক জলে
@@@

মূর্খের স্বর্গ----২

আবদুস সালাম


বিষন্ন অন্তর রক্তহোলি খ‍্যালে
অন্ধকার খুবলে নিচ্ছে জীবনের ঘ্রাণ
বিবেকের কালো মাটিতে পা ডুবে গ‍্যাছে
সতীদাহ, বিধবা বিবাহ নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না
মৃত আত্মারা গ্রহণ করেছে ভৌতিক মৃত্যু
ঝরে পড়ছে মৃত আত্মার মৌনকথা
অবলীলায় ভেঙে ফেলছি দেবতার বিগ্রহ

দ্বিতীয় ভাগ


বিদ্যাসাগর বলছি

অমলেন্দু বিশ্বাস


হে ধর্মাবতার,
কী এমন দোষ ছিল-----
যে আমার আবক্ষ মূর্তি
ভাঙল নির্মম হাতে।

# অনেক বছর ধরে যারা শুধু
অন্ধকুঠুরিতে বসে কাঁদছিল
তারা কোনদিন দেখেনি আলোকচ্ছটা

# বর্ণ-শব্দ-‌অক্ষরের দ্যুতি
তাদের চৈতন্যে আমি তমসাবিহীন
বর্ণদ্যুতি ছুঁয়ে দিতে চেয়েছি প্রান্তিকে।

# ও আমার প্রান্তজনের সখা,
নিরীহ প্রমীলাগণ, শিশুমন।
চেয়েছি ভাষার হাত ধরে
হেঁটে যেতে সবুজ সড়কে।

# হে ধর্মাবতার, আপনিই বলুন
বর্ণজ্ঞানদান করা তবে অপরাধ।
তবু মূর্খগুলো বর্ণহীন অন্ধকার
ছুঁড়ে মারছে বিদ্যার বিতানে ।

# এখন‌ও কী আপনি দুচোখ 'ধৃতরাষ্ট্র '-----
করে নিয়ে নিরুত্তর থেকে যাবেন।

# ঐ দেখুন গান্ধারী খুলছে
তার অনালোক কাপড়ের চক্ষুবন্ধন।.......

# আপনিও পর্দা সরিয়ে
দেখে নিন একবার :
বর্ণমালা কীভাবে ভাষার উদ্যানে
অমল রোদ্দুর হয়ে
খেলছে শিশুর মতন।.......

প্রথম ভাগ


জানিনা কার এই লিখন --- অপুর্ব স্বরলিপি

মর্মান্তিক পরিণাম : বর্ণপরিচয় খন্ডন।।

অগ্রগামী পথিক তুমি,,, তোমার মগ্নমূর্তির ভাঙন।।


# কলঙ্কিত - বর্ণপরিচয় -


অ - অশিক্ষিত আসছে তেড়ে,

আ - আজকে রাবণ রামের ঘরে।

ই - ইচ্ছে হলেই ভাঙছে মেরে,

ঈ - "ঈশ্বর" ‌আজ পথেই পড়ে।

উ - উস্কে দিয়ে জাতের দোহাই,

ঊ - ঊর্ধ্বে নাচে জগাই মাধাই।

ঋ - ঋণের বোঝা যাচ্ছে বেড়ে,

এ - এদের নামাও ঘাড়টি ধরে।

ঐ - ঐতিহাসিক ভুল কোরোনা,

ও - ওদের দলে কেউ ভিড়োনা।

ঔ - ঔদ্ধত্য মানবো না আর,

----- গর্জে ওঠা খুব দরকার।।


(কৃতজ্ঞতা ও ঋণ স্বীকার,,,,

সংগৃহীত কবিতা,,,)