আম্রমাধুরী সংখ্যা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আম্রমাধুরী সংখ্যা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১৮

আম্রমাধুরী সংখ্যা- ১৩



১. কবিতা: । সুখ।

আর্যতীর্থ।


সুখ বেচে সে  ঘুপচি ঘরে দুঃখ শুধু জোটায়
পাপড়ি মুড়ে ব্যস্ত সবাই ফুলের মধু লোটায়।
ফুলের মধু  সস্তা খুবই ঘন্টা পিছু রেটে,
পয়সা দিলে সব মাছিরাই দেখতে পারে চেটে।
চেটেপুটে মধু খেয়ে ফিরলে মাছি বাসায়,
গেরস্থালি বসে থাকে সঙ্গ পাবার আশায়।
সঙ্গ মানে আর কিছু নয়,খাবার দেওয়া বেড়ে,
বাইরে মধু খেয়ে মাছি শোবার ঘরে ফেরে।
শোবার ঘরে পুরুষই সব, নারীর মৌনব্রত,
অনিচ্ছেতেও মাছির কামড় সর্বদা স্বাগত।
স্বাগত না হলোই যদি, চড়চাপাটির দাগ,
আইনবলে বেআইনি নয় জোর করে সোহাগ।
সকালবেলায় গেরস্থালির চেনা যাপনগীতি
সিঁথির সিঁদুর , রাতের ব্যাপার যদি বলে দিতি...

বলবে না সে সিঁদুর কথা, নিরুক্ত লজ্জায়,
মাছির কাছে ফুলেরা এক যে কোনো শয্যায়
কোনটা যে সুখ কোনটা অসুখ ভগবানই জানে,
ফুলেরা সব সহ্য করে শান্তি রাখার ভানে...


২. কবিতা:। সন্ধি।

আর্যতীর্থ।


অথচ তোমাকে জানানোই যেতো একলা থাকতে শিখিনি এখনো
জানানোই যেতো তোমার চুমুর স্মৃতিতে কখনো মরচে পড়েনি,
সন্ধির কিছু প্রলেপ পড়লে স্তিমিত হতো এ রোজের দহনও
তবু সূচাগ্র ভূমি ছেড়ে দিতে এশর্মা দেখো একপা সরে নি।

নিয়তিকে নিয়ে ছেলেখেলা করা বোধহয় প্রেমের নিত্যকর্ম,
খুলে বললেই গোল মিটে যেতো তবুও ঠোঁটেরা মৌন থাকবে,
উহ্য কথারা আন্দাজী বাণে ফোঁড়ে ভরসার ঠুনকো বর্ম,
ঘনিষ্ঠ কিছু মুহূর্ত দিতে সময় ক্রমশ চওড়া হাঁকবে।

অথচ তোমার হাসিতে এখনো বুকে উপচায় হাজার পদ্ম,
কপালের কাছে ঝুঁকে আসা চুল সরাতে আঙুল নিশপিশ করে
শব্দরা নিজে কবিতায় সাজে স্নান করে যেই বেরোলে সদ্য,
সম্বিত ফেরে যুদ্ধের ক্ষতে বর্তমানের কামড়ে আঁচড়ে।

গোপনে সিঁদুর সিঁথিতে ছুঁইয়ে তুমিও হেসেছো জানি আয়নায়
বার্ষিকী দুলে আজও ঝিকিমিকি কানের লতির ললিত সখ্যে,
তবুও দুজনে হাতড়ে চলেছি কাছেদূরে যদি কথা পাওয়া যায়,
খামতির যত খতিয়ান নিয়ে জরিপ করছি একে অপরকে।

অথচ তোমাকে জানাতে চাইছি এসব যুগের গোপন চালাকি,
সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধু হয়না, বালুচর গড়ে  ভেঙে দেয় ফের,
যে নাম তোমার শুধু আমি জানি ভাবছি তাকেই সন্ধিতে ডাকি,
মুঠোফোন দুটো হিংসায় জ্বলে দেখুক যুগল মুহূর্তদের।

নতজানু হয়ে দুহাত বাড়িয়ে প্রতীক্ষা করি উষ্ণ ঠোঁটের...


আম্রমাধুরী- ১২



চন্দ্রাহত
.................

কৌস্তভীয় গঙ্গোপাধ্যায়


পৌরাণিক মাস-চরে চাঁদ খুঁজে পেল নারী
ভ্রষ্ট যুবকের ত্বক ধরে নানাবিধ বিকার সৌষ্ঠব

আমাদের কাল ক্ষতযোগ মেয়েদের চোঁয়ানো পাঁজর
হে নাতিদীর্ঘ, সমুদ্র সমীপে ঘাসজল খেয়ে যোগগৃহে চেতনায় থাক অর্ধ জাতিস্মর

বজ্রবৃক্ষ বীজ পুং ধাত্রীকরে দান
মায়ের জীবিত পিতার কবন্ধখোল জল গাঢ় ছাপ

যোনি আসো হাত খাও, নাও ছায়াপাত
আশরীর মদে স্তন শান্ত বরাভয়
শঙ্খ বাজবে ধীর— কোমল নিখাদ

আম্রমাধুরী সংখ্যা- ১১



মনোলগ..
-------------
সুমনা পাল ভট্টাচার্য্য


এক একটা রাতে মা'কে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখেছি..
মুখে নুনের পুঁটলি প্রাণপণ চেপে ধরে, আঁশবটিতে নিজের মুড়ো আর ল্যাজাকে নিপুণভাবে মা দুভাগ করে নিতো রোজ..
:
আমি তখনও কলমিডগায় ফুল খুঁজে বেড়ানো কাল্পনিক চোখ,
প্রশ্নের বিভাজনী রেখা পেরোতে পেরোতে বুকের ভেতরে শীত নেমে আসা পরিযায়ী পাখি,
ডানায় ভরা আলোস্নানের তৃষ্ণা..

তবু, শুধু একটা হাত আস্তে করে রাখতাম মায়ের ভেজা পাঁজরের পর্দায়...
সেই অস্থির ফাঁপরের সরগম তাল ছিটকোচ্ছে বুঝে আমার শিরায় মোচড় দিতো যে কতোবার সে কথা জানতো, মশারির দীর্ঘ রাত্রিবাস।
:
তারপর নদীর বাঁকে বাঁকে পলি জমলো, গর্ভবতী হল মেঘ, আমিও কোল জুড়ে বৃষ্টির জন্ম দিতে দিতে একদিন বাবার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বুঝেছিলাম, এই ক্ষত বিক্ষত পেরেক ঠোকা ছাদটা  আমার মায়ের 'পুরুষ'..

যতোই বুঝলাম, ঠিক ততোই এক শতচ্ছিন্ন শাড়ির মতো মায়ের  অবয়ব কাঠামো ছাপিয়ে রক্তমাংসের দলা হয়ে গলায় আটকে গেলো. ..

সে বিষ গিলতে গিলতে আজও মশারির রাতগুলো বড় নীল হয়ে ওঠে, চোখের নীচে বিসর্জন হতে দেখি জন্ম আর জন্মান্তরের

নিজের হাঁটু দুটো জড়িয়ে বুকের কাছে গুটিয়ে নিতে নিতে চিবুকের জানলায় বড় মেঘ জমে....

রাতভোর বৃষ্টি, আর বৃষ্টি....
                                            @সুমনা।।

আম্রমাধুরী সংখ্যা- ১০



১.  #সোনার_মেয়ে_হিমা।।
                      ----#অভিজিৎ দত্ত ।।

হিমা তুই মেয়ে হিমালয় হয়ে ওঠ,
ছেঁড়া জুতোটাকে ছুঁড়ে দে এবার মা,
ওই ইংরেজী বলা কালো সাহেবের মুখে
ব্রেড টোষ্ট খেয়ে, স্যুট টাই পড়ে
জীবন কাটায় যে সুখে।

ক্ষমতার আফিং খেয়ে বুঁদ হয়ে আছে যাঁরা
বিদেশে যখন টিম নিয়ে যায়,
হোটেল চাই পাঁচতারা,
বুঝবে না তারা ধানচাষী বাপ
কেমনে পালিছে তোরে
একজোড়া জুতো বুকে ধরে রাখে,
পাছে যায় ওটা ছিঁড়ে ।

জানতো সে মেয়ে দৌড়ুতে হবে,
জানত না বাকি কথা
ফিনিশ ভাষাটা জানলে হয়তো
লাগত না প্রাণে ব্যথা ;
যত মেয়েগুলো দৌঁড়েছে সাথে,
জানত কি তারা সবে,
ছুটতে গেলেই ইংরেজীতেও
সড়গড় হতে হবে ?

কেন তবে এই মানসিকতা,
স্পোর্টসটা যাঁদের তাঁবে,
ভুলে গেছে তারা ইংরেজী নয়,
খেলাই আসল হবে।
ছেঁড়া জুতো পড়া সেই মেয়ে
যদি বিশ্বে প্রথম হয়,
তারেই রাখিব হৃদয় মাঝারে,
আধিকারিককে নয়।

                         *******

২. #বিজয়_রথ।।
               -----অভিজিৎ দত্ত ।।

রথ ছুটেছে বিষম জোরে---- জগন্নাথের রথ,
তফাৎ যাও বিধর্মীদের দল,
তফাৎ যাও বেজন্মার দল,
এ'রথ আমাদের বিজয়রথ,
পৌঁছে দেবে রামের দেশে,
ওরে, তোরা জয়ধ্বনি কর।

রথ ছুটেছে রথ। প্রগতির ভারতীয়  রথ,
সরব মোদীর নীরব রথ,
চাপা পড়ে যায়-----
আমাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার,
 বিজাতীয় ব্যাঙ্কে,
ওরে তোরা জয়ধ্বনি কর।

রথ ছুটেছে বিষম জোরে পূর্ব দিশায়
দুহাতে হিংসা ছড়াতে ছড়াতে,
জাকির নাইকের প্রগতির রথ,
আরও রক্ত আরও আরও রক্ত চাই
ওরে তোরা জয়ধ্বনি কর।

রথ ছুটেছে বিষম জোরে,
চাকাটা তার জাঁতাকলের,
পেষাই হচ্ছে মধ্যবিত্তের দল,
দলিত মথিত হচ্ছে গরীব-গুর্বোর দল;
অাচ্ছে দিন আ গয়ে,
ওরে তোরা জয়ধ্বনি কর।

রথ ছুটেছে রথ, ভারতের প্রগতির রথ
গঙ্গাতীরের প্যলিউশনের মধ্যে দিয়ে
তৈরী হচ্ছে রাস্তা বুলেট ট্রেন চলবার;
ভারতের বিজয়রথ
বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে,
এটুকু স্যাক্রিফাইস তো করতেই হবে ভাই সব।

                 *******


রবিবার, ১৫ জুলাই, ২০১৮

আম্রমাধুরী সংখ্যা- ৯




বেডরুম
________________
                      - সৌরভ বর্ধন

বেডরুম মানেই পরিষ্কার বিছানা নরম আলো শান্ত রসালো
গন্ধ   নিস্তব্ধতার পেলবতায় শুদ্ধ খুনসুটিতে কিছুটা গোপন
অন্ধকার ঢেলে দেওয়া    তারপর কাঠচেরা কাচের ভেতরে
তাদের একটা একটা করে সাজিয়ে দেওয়াই শুধু নয়  বরং

বরং
        বায়ু দ্বারা পূর্ণ শূন্যস্থানটুকুও উড়িয়ে দেওয়া ফার্নিচারে,
মেঘ নিয়ে ঢোকা বারণ তাই অনেকটা বিশুদ্ধ চিন্তাভাবনা
কিছুটা কৌশল কালকের জন্য পকেটে গুঁজে রাখা
তারপর যা বলার হাঁ করা বইয়ের তাকেরা বলে  
আমি তো রাস্তার ঝুল ধরে ঝুলে থাকি
                                                           তালার কথায়
                                                            চাবির কথায়

আর যতটা বাকি থাকে লিখে রাখি বেডশিটে :
গোপন লকারে জমিয়ে রাখা দুরন্ত বাস্তবতা আর জেদ
একাকীত্বের বৈয়াকরণে জলপটি দেওয়া আঙুল
                      --  দন্ত প্রানে ণ আনে

রোমকূপে জেগে ওঠে প্রবল শিশ্নোদরপরায়ণ সৈন্যদল :
মনকে ভার্চুয়াল যোনির থেকে সরিয়ে    কখনও কখনও
বেশ আলাদা রকমের বৃষ্টি নেমে আসে বেডরুমে
নির্মিত সুখ থেকে কিছুটা ছাতা খানিকটা রুমাল
পরিমাণ মতো বজ্রপাত নিয়ে তুমি নাচতেই পারো দুহাত তুলে

হাসি পেলেও আমি হাসবো না........। কারন

বেডরুম মানেই পরিষ্কার বিছানা নরম আলো শান্ত রসালো
গন্ধ   নিস্তব্ধতার পেলবতায় শুদ্ধ খুনসুটিতে কিছুটা গোপন
অন্ধকার ঢেলে দেওয়াই শুধু নয়  'বরং'    কাঠচেরা কাচের
ভেতরে তাদের একটা একটা করে ভিজিয়ে দেওয়া।

                       ___________________


আম্রমাধুরী সংখ্যা- ৮



কবিতা: শ্রী।

-সুদীপ্ত ভট্টাচার্য্য


নিজেকে দেখতে বিচ্ছিরি ভেবে ছোটো চুল কাটেনি

মেয়েটি বিনুনী করতে ভালোবাসতো, অভিমানী,

নিজের নাকটা ভোঁতা ভেবে কষ্ট পেত মনে,

স্বামীর টিকালো নাকটা দেখিয়ে বলত,

ছেলের নাকটা তোমার মতোই যেন হয়,

তার গালটা ফোলা ফোলা ঠিক তার বাবার মত,

আয়নায় বাবার মুখটা ভেসে ওঠে,

কপালটা যে তার মায়ের মত,

স্বামীর মতের সাথে মেলেনা মতে।

দক্ষিনের খোলা জানলার ধারে ভাংগা কাঁচে

সিঁদুরের লাল টিপ পরে কপালের মাঝে,

দুপুরের রোদ শুধু বারান্দা অবধি আসে,

তবু মুখপানে চায় না,

পোয়াতি অবস্থায় যখন সে চলতে ফিরতে

হাঁপিয়ে যেত, মুখটা কেমন মলিন ঝাপ্সা দেখতে

লাগছিল, জঠরে সদ্য প্রস্ফুটিত ভ্রূন তার দেহে ছিল,

আয়নার ওপারে মুখটা আরো শুকনো মনে হয়,

দেহ নয়,

মুখটা তার শ্রীময়ী।




কবিতা: নেমন্তন্নের কার্ড।

-সুদীপ্ত ভট্টাচার্য্য


বিভাস বাবু যাচ্ছিলেন মেয়ের বিয়ের

নিমন্ত্রন করতে তাদেরই কুটুম বাড়ি।

বেশ প্রানবন্ত তার হাসি হেসেই বেড়িয়ে ছিলেন

জানলার ধারে সিট, মুর্শিদাবাদ যাবার গাড়ি।

বাসে বসে দেখছিলেন স্বপ্ন গুটিকতক,

সামনে তার মেয়ের শুভ পরিণয়,

ব্যাগে এক গুচ্ছ বিয়ের কার্ড,

অল্প তার আয়, তবু এ বিয়ে

তার বহু দিনের জমানো টাকায়,

অল্প অল্প করে গড়া গয়না গুলো

মেয়েকে বিয়েতে দেবে ভেবেছিলো।

এখন একটু তৃপ্ত

ধার দেনা করেইবা, বিয়েটা তো হচ্ছে,

খুব ভাল ছেলে দিপ্ত।

হঠাৎ, ছিটকে পড়লেন কাঁচে,

বাসটা উলটে যাচ্ছে, পুল টা ভেঙ্গে

লাগলো কাঁচে মাথা, পুলটা গেলো ধ্বসে,

বাসটা মিশে গেলো নিচের পাঁক জলের সঙ্গে,

পাঁক জলে ভেসে উঠলো চটি জোড়া

আর কিছু কার্ড, অপর্ণা ও দিপ্তের বিয়ের কার্ড।

ক্ষনিকেই রক্তে ভেসে গেল নালা,

লাল রঙে রাঙিয়ে মুর্শিদাবাদগামী বাস।

মোবাইল জলের তলায় হাবুডুবু খাচ্ছে,

রিং বাজবে না আর, ভেসে উঠছে কিছু লাশ

ঘন্টা খানেক এভাবেই আটকে সড়ক,  ভাঙা সেই পুল।

গ্রামের মানুষ ছুটে এলো মোবাইল নিয়ে

ভিডিও করতে হবে যে, মানুষ মরেছে।

এদিকে মেয়ে চিন্তায়, ফোনে রিং হচ্ছেনা

বাবাকে সে ফোনে পাচ্ছে না।

সকালের সেই হাসি মুখ ভেসে ওঠে চোখে

মেয়ে তো! চোখের কোনায় জল ছেপে ওঠে,

প্রেসের ভিড় জমেছে,

বাস ডুবেছে, পাশের ঘরে নিউজ হেডলাইন

ভেসে ওঠে, মৃতের সংখ্যা ঊনত্রিশ,

নালার জলে ভাসছে বিয়ের কার্ড।



আম্রমাধুরী সংখ্যা- ৭



১..

গরিব গরিব

---সবর্না চট্টোপাধ্যায়




শুকনো গাছের মুঠো হাত

চেয়ে আছে জ্যোৎস্নার দিকে...
করাতের মুখে বোবাদের আর্তনাদ
গরিবের পেটে খিদে।

পাতার ঘরে বন্ধ সালোকসংশ্লেষ
রেশনের চালে পোকাদের চড়ুইভাতি
দিনবোজা আলোয় পথে নামে
রামরমিহের অভাগী মা...

মিছিলে মিছিলে ঢেউ
থিকথিকে মাঠ...হাততালি
মিটিংয়ের পর একে একে বাড়ি ফিরে

যায় ভাতডাল খাওয়া হাওয়া।
শুধু কবেকার মত ট্রাফিক সিগনালে
দাঁড়ানো গাড়ির দিকে,
হাত বাড়িয়ে থাকে অভুক্ত ভারত।

রোজকার নিয়মে সন্ধ্যার চাঁদ মাখোমাখো
মুখে পেট টান....
মার্কাকারা হোটেলে লিপস্টিক চোষে আর
বুলবুলি নাচ দেখে
ফ্রিতে দিয়ে যায় কাঁচাগালি বেশ্যাকে...

বস্তির মানুষ না স্যানিটারি প্যাড?
কিচ্ছু এসে যায় না নোটবন্দী হলেও..
পাশাপাশি বেড়ে ওঠা খিদে
চিবোনোর লড়াই , দুমুঠো দুবেলায়
হাভাতের ঝাড় বিইয়ে চলেছে
জাতপাতহীণ গরিব বংশপরম্পরায়...


২....


বাগদীর সোহাগী বউ

---সবর্না চট্টোপাধ্যায়


পাথর শরীরে শ্রমের খোদাই
কালো মিশমিশে পেটাই পেটে মোটাচালের
ভাত কেটে কেটে
স্বরলিপি লিখছে বাগদী বউ।
কালো পিঠ ফেটে লালপাড় শাড়ি
উঁচুদুটো বুক ঢেকে তালপাতার উনুন জ্বালে।
কয়লা লেপতে লেপতে কড়াইয়ের তলা
ঘষছে কালোবেড়াল।
মরদের সারাগায়ে খোয়াইয়ের ঢেউ
মাথায় শালপাতার মুকুট...
তীর ধনুকের ছিলা টেনে শিকার করছে
হরিণীর তীক্ষ্ণ চোখ।
পাথরকাটা শরীরে ছেনি চালিয়ে দেওয়া খিদে
ফলিয়ে নেয় রোজকার জ্যোৎস্নার চাঁদ।
দুবেলা নিজে হাতে লাঙল চালিয়ে সংসার জ্বালে বাগদী বরবউ...
গাছতলা দুপুরে খোলা টিফিনক্যারিয়ারে
সুখের ডালরুটি তুলে দেয় দীনে বাগদীর নিটোল
সোহাগী বউ...



৩.....


এমনভাবে দেখোনা প্লিজ

---সবর্না চট্টোপাধ্যায়



এমনভাবে দেখছো যেন ব্লাউজের ফাঁকে লুকিয়ে রেখেছি একটা ব্রহ্মান্ড...
রহস্যের আড়াল থেকে এখুনি ছুটে বেরোবে একঝাঁক জোনাক..
বলিহারি তোমায় পুরুষ। সবেতেই ছড়িয়ে ফেলছ চটচটে নিঃশ্বাস।

আমার বয়স যখন চার,
বটগাছ পুঁতবে বলে পিসিরছেলে মাটি কুপিয়েছিল।
হাসি পায় জানো,  তুমি এখনও নিজেকে পুরুষ মনে করো?

আমার বুকে তো কোনও এভারেস্ট নেই...
যে দুহাত ছড়িয়ে চেঁচিয়ে উঠবে বিজয়ীর মত...
কিংবা কোন নিশান গেঁথে দিয়ে বলবে, 'কেড়ে নিলাম সব অহংকার'।
অহংকার বুঝি তোমার শিশ্নে গাঁথা ধুতরোরফুল?

আমি আমি তোমার জন্মদাত্রী, তোমার স্ত্রী,
ভালোবাসতে পারি।

আবার, ছিঁড়ে নিতে পারি ঐ শিশ্নসর্বস্বঅহংকার।

তুমি যতই নিজেকে সাধু বলো না কেন, আমার আড়ালে কি একবারও চিরে দেখোনি ঘামে ভেজা পিঠ, কিংবা কোমরের ভাঁজ ?
তাকাওনি কি  উঁকি দেওয়া অন্তর্বাসে?
কিংবা ক্লিভেজের বেড়া ডিঙিয়ে গভীর গিরিখাতে...

তুমি যদি বিকিয়ে দিতে পারো সমস্ত পুরুষত্ব বীর্যের সস্তা বাজারে, তবে আর যাই হোক এবার থেকে নিজেকে পুরুষ বলো না আর.....

তবে যে কোন এক সময় ঘুমন্ত সন্তানের মুখও আঠালো খাবার মনে হবে...!

শনিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৮

আম্রমাধুরী সংখ্যা- ৬



১. ভাইরাস /  বিধান শীল

স্মার্ট ফোনের ভয়ানক অ্যাপসগুলো মাথা তুলে গ্রাস করছে মূল্যবান সময়
নৈতিক বোধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নানান শিষ্টাচার
প্রতি মুহূর্তে ভাইরাসে নীল হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড  জীবন

 মসৃণ আয়নায় যাবতীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শারীরিক
কোন অ্যান্টি ভাইরাস কাজে দেয় না প্রাত্যহিক কাজ কর্ম ।

আনলিমিটেডে প্যাকের আড়ালে যৌনতার সুড়সুড়ি
ফোর জি স্পিডে  ডাউনলোড হয় যাবতীয় কৌতূহল ।

প্রবল বঞ্চনায় সিদ্ধ হয় রান্নাঘরে প্রবঞ্চনার ভাত
আমিষ ছাড়া গলা দিয়ে পার হয় না দুপুরের খাবার

বিশাল যজ্ঞের হোমে নিজেকে ফোকাস করে ধর্মগুরু
আমিও পাকা ডুবুরির মতো জলতলে খুঁজি ঝিনুকে  মুক্তো ।

আমার গোটা শরীরে পাক দিয়ে থাকে বিষধর সাপ
বিষে বিষ কাটে ;  লোহাতে লোহা
ফুলের সুগন্ধে জ্যোৎস্নারা চুমু দেয় পদ্মের বোঁটায় ।

ভাইরাসের বিপুল আয়োজনে আক্রান্ত কোষ অসাড়
হাত-পা বেঁধে আমরা ঝুলছি অদৃশ্য হাওয়ায় ।



২. দর্শন  / বিধান শীল

কোন এক গভীর রাত্রে চাঁদ দেখতে গিয়ে গলা অবধি আগুন খেয়েছিলাম । সময়ের প্রতি মুহূর্ত আজ পুড়িয়ে মারে আমায় । কী অলুক্ষণে জ্যোৎস্নার নেশা মাতাল করেছিল অরণ্য । বেঘোরে ঘন্টার পর ঘন্টা ভিজেছিল রাস্তা ।

কবিতার নেশা মদ , গাঁজা , হেরোইন এর চেয়ে বেশি । বিছানায় নিদ্রা যাবার আগে এক গ্লাস শব্দ পান না করলে তৃপ্তি আসে না কবির । কাঁটাছেঁড়া চালায় দক্ষ ডাক্তার মতো । সূচ সুতোয় সেলাই করে তৈরি করে বর্ণময় পোশাক । মুক্তির আনন্দে  বিজন বাতাসে ডানা মেলে উড়ে পাখি ।

কোন একদিন প্রেমপত্রে বানান ভুল ধরার জন্য প্রেমিকা রাগে কুটিকুটি করে ছিঁড়ে মুখে উপর ছুঁড়ে মেরেছিল প্রেমপত্র । মুখে একটুও আঘাত লাগে নি , লেগেছিল হৃৎপিন্ডে । আঠা দিয়ে জড়াতে চেয়েছিলাম টুকরো টুকরো কাগজ । অলুক্ষণে বাতাস এসে উড়িয়ে নিয়ে গেছে দূরত্বের দেশে ।

কোন এক গভীর রাত্রে চাঁদ দেখতে গিয়ে গলা অবধি আগুন খেয়েছিলাম । এখনও দাউ দাউ করে জ্বলছে অরণ্যের ভিতর । হাজার লিটার জল ঢেলেও নিভে না বনে লাগানো আগুন । দমকল আসে , ফিরে যায় ।

ধীরে ধীরে অলসতা গ্রাস করছে কবিমন ।  দুর্দিনের কুটিরে নেমে আসছে অভাবী মেঘ । কালো আকাশ দেখে ভীত হয়ে পড়ছে ব্যক্তি স্বাধীনতা । কবি প্রতিজ্ঞা করে আর কখনো সে চাঁদ দেখবে না । অন্ধকার কুটিরে আবদ্ধ থাকতে পারবে কি কবি ?

আম্রমাধুরী সংখ্যা- ৫



১. কবিতা: ◆ উপেক্ষিত ঝড় ◆
                   **পল্লব কর্মকার।

ছুঁয়ে দেখার আগ্রহে
বামনের হাত লম্বা হতে থাকে চাঁদের দিকে,
ভুল করে সেও,
   স্পর্শকে ভালোবাসা ভেবে।

সেকাল থেকে একাল...
চন্দ্রের প্রতি আকর্ষণটা বামনের'ই হয়তো
সবচেয়ে বেশি।

মাসভক্ষনকারী কিলবিলে পোকাগুলো
ছড়িয়ে আছে গোটা দেহেজুড়ে
ভালোবাসা হয়ে।

 মেন্সট্রাল সাইকেল পূর্ন করে ঝড়ে যায় কৃষ্ণচূড়া,
বোরখা পড়া গৌর মুখখানিতে
রহস্য হয়ে থেকে যায় প্রেম...

তপ্ত কাঞ্চন ডুবে নাইট্রিক অ্যাসিডে
হয় খাঁটি, তবে সে অ্যাসিডে কাঞ্চন ফুলের দশা...

ফালতু চঞ্চু নিবেশ
ঝড় থামলেই আকাশ আবার ঝাঁ চকচকে...


২. কবিতা:
     ভাম
পল্লব কর্মকার।

তখন আমি চাঁদ অন্ধকারে ভিজছি,
ভাই বললো দাদা বাইরে ভাম বেরিয়েছে
এই ভাম টা যে আদেও কি!
অন্ধকারে পুরুষত্বের হায়না হাসি
সেভ করেনা বোধয় খুব ভয়ানক দেখতে
নাকটা নাকি মানুষের থেকেও তীব্র
শরীরের গন্ধ খোঁজে ব্যাস্ত রাজপথে
রাজভোগের লোভে ছানাবড়া চোখ
আর লকলকে জিভ কাঁপে লালাস্রোত সাথে
আমরা কেউই ভাম দেখিনি কোনোদিন
তবু বুড়ো ভাম দেখি প্রতিদিন…



৩. কবিতা: *অগোছালো*
পল্লব কর্মকার।

তুমি আসার পর থেকে অনেকটা অগোছালো হয়ে গেছি আমি
আগে বাঁশিটা থাকত দেওয়াল আলমারিতে
এখন সে ছলেবলে আমার বিছানায় করেছে স্থান
জামাগুলো মার্চ করতো আগে
আলমারির তাকে
এখন যুদ্ধ মিটে গেছে বোধহয়
তাই মার্চপাস্ট ছেড়ে আলনায় বানর ঝোলা ঝুলছে
হারমোনিয়ামটা টেবিলে খোলাই পড়ে থাকে
হঠাৎ হঠাৎ তার বুকের রিডে হাতের ছোঁয়া দিতেই
মধুর আর্তনাদে বলে ওঠে তোর নাম নিস্তব্ধ ঘরে
বইখাতা গুলো বুক সেল্ফের শীতঘুমের পরিবর্তে
বাঁকাচোরা ঢঙে শুয়ে আছে টেবিলে
টেবিল ল্যাম্পটার রেগে মাথা গরম হয়ে আছে
হবেনা! প্রায় তিন মাস একভাবে হাসছে সে
এত কি কেউ হাসতে পারে!
পরিপাটি সেই ছেলেটা এক ঝলক স্বর্গ দেখতে
আলুথালু পোশাকেই ছুট দেয় পাড়ার মোড়ে
কলারটা উপরে তুলে উড়নচন্ডী হয়ে
চুমু খায় অপেক্ষারা চায়ের ভাঁড়ে
তুমি এসে কালারটা ঠিক করে দিয়ে বলবে
"কী হচ্ছে তোমার একটু ঠিক করে থাকতে পারো না?"
হয়তো ওটা শোনার জন্যই…
অগোছালো হতে ভালোবাসি খুব।


আম্রমাধুরী সংখ্যা- ৪



কবিতা:১
সজল রায়।

ভাঙ্গা সাইকেল চেপে অনুপম/
পাহাড়তলির দিকে চলে গেছে/
কে তাকে থামাবে, কার অধিকার/


ভুঁইপিঁপড়ের মতো বালকের দল/
ভেল্কি দেখায় গাঁয়ে-ঘরে/
মুঠো হাত ছুঁড়ে দিলে
ধুলো আঁকে নিসর্গের ছবি/
বাগানবাড়ির দিকে/
বিনিদ্র ব্যাধির মতো ঝিঁঝিঁ ডাকে/
কে তাকে থামাবে, কোন জাদুকর/


ভুল দশমিকে শুধু ব্যবধান দীর্ঘতর হয়/
বারান্দায় ঝুঁকে পড়ে প্রকান্ড শহর/
সিলিং পাখার মতো /
গুমোট সন্ধ্যায় ঘোরে চাকা/
পাহাড়তলির দিকে নেমে যায়/


কে তাকে ফেরাবে , শূন্য ঘর
আর ভাঙ্গা বুকের পাঁজর ।


কবিতা:২
সজল রায়।

দানাপানি অনন্তখামার/
কোচোয়ান জানে/
আছে তার বুদ্ধিমেধাবোধ/
ছলনায় তীক্ষ্ণধার সুস্থিত লাগাম/


বিপন্ন ঘোড়াটি বাতাসবিহারী/
আস্তাবলে ইন্দ্রজাল বোনে/
স্বর্ণচাঁপার মতো কেশদাম/
ফুলে ফুলে ওঠে
                  সংকল্পে,সাহসে/
নির্বিকার ছুটে যায়
                 সম্মোহনে, ধ্যানে/
অগ্নি যেমন ছোটে
               মহামন্ত্রে বোধিদ্রুম/
ঘৃতাহুতি যজ্ঞের কাঠে/


হতবাক কোচোয়ান , ধবল জ্যোৎস্নায়/
প্রজ্ঞার ওপারে দ্যাখে , হ্রেষা নয়/
পারমিতা পুড়ে যায় প্রেমের রেকাবে।

আম্রমাধুরী সংখ্যা- ৩



১. কবিতা:

উৎসমুখে দাঁড়াও

শুভঙ্কর দাস

উৎসমুখে দাঁড়াও,নরম জঙ্গল পেরিয়ে খাদ
যে খাদের পারাপারে ঈশ্বর থেকে মানুষ আর
মানুষ থেকে ঈশ্বর হওয়ার যাত্রাপথ।
জন্মদ্বার, যেকোনো মন্দির বা মসজিদের গর্ভগৃহের চেয়ে সহস্রগুণ সুন্দর,প্রশ্নহীন অলৌকিক।
পাথরের জন্য ধূপ-ফুল-পাতা,তসবি-তাবিজ,মোমবাতি আনতে পারো,
অথচ যার উন্মোচন ও প্রসারণের জন্য
এই ঈশ্বর, জগৎ,সন্তান এবং অসংখ্য আমির প্রবেশ
যার সামনে মাথা নত করা উচিত,চিরকাল
সেখানে করছ জমা,কুঠার,দা,করাত ও কোদাল!

মৃত্যুকে হারাতে চাও,একহাতে বা বহুহাতে,হারাও
তার আগে উৎসমুখে দাঁড়াও,

সেখানে কেউ নেই,আকাল।
----------------+-------------------+-------

২. কবিতা:

নকশিকাঁথা

শুভঙ্কর দাস

মুগ্ধতারর কোনো বয়স হয় না।

যে চোখে নিজের আয়না খুঁজে পেয়েছিলে,
সেই চোখের নদীতে করতে পারনি,পারাপার!
এ তো নয় অবতারের গল্প,জন্মান্তর,উদ্ধার।

যে হাতকে বৃক্ষের ছায়া ভেবে শরীরের নৌকার
বেঁধেছিলে নোঙর,খরস্রোতাকে পাওনি ভয়,
প্রেমের পায়ে চলা পথে কোথাও নেই বরাভয়!

যে পায়ের চিহ্নকে ভেবেছিলে গৃহের আলপনা
যার প্রতিটি শব্দ ছিল বিনত অনুসরণকারী
আসলে পশুত্ব,সকলেই কমবেশি গোপন শিকারী!

মুগ্ধতার কোনো বয়স হয় না সত্য
কিন্তু বয়স কি ইচ্ছেমত মুগ্ধ হতে পারে!
-----------------+-------------+----------


৩. কবিতা:

উনচল্লিশ বয়সের কোনো এক রবিবার

শুভঙ্কর দাস

দরজাকে আমার সবসময় আলিদিনের আশ্চর্য প্রদীপ মনে হয়,
খুললেই দিনরাত এত বেশি মুখ,মুখোশ,হাসি-কান্না ঘষেমেজে নেয় যে,নিজেকে মনে হয় বন্দী কোনো জিন
যার কোনো জন্মে মুক্তি নেই!
এই তো নরম হাতের ওপর হাত,অথচ আমার কেন সেই হাতে আগুন কম লাগে!
এই তো ঠোঁটের প্রতিঘরে পৌঁছাতে পেরেছি চুম্বনের দাগ,আমার কেন সেই দাগ মনে হয় অনুরাগহীন!
এই তো ফুলের শয্যায় নিজেকে উপুড় করে দেখেছি সন্তানের চিরসুন্দর মুখ,আমার কেন মনে হয়,সন্তান কি শুধু মিলনের উপহার!

দরজা খুলে দাও,
প্রিয় বান্ধবীরা আসুক,যাদের আমি কল্পনায় মেঘদূতম্ শুনিয়েছি,শেষের কবিতা পড়েয়েছি,আর কপালকুণ্ডলার পরিণতি জানিয়েছি

এত পরেও বসয়টা সহসা রবিবার হয়ে যায়!
এবং কোনো এক সকালে নিজের শরীরে হাত দিলে মনে হয়,এতো পরকীয়া

আত্মসমর্পণ ছাড়া কিছুতেই ফিরে যাবে না!

-+++-----------------------++++++--------


আম্রমাধুরী সংখ্যা- ২



অযৌক্তিক
             অন্তরা চ্যাটার্জী

পৃথিবী ভাঁজ হলে রিক্ত দোয়াতে
পুড়ে যায় কিছু আলো-বীজ।
বাস্তবতায় চাবুক বসায়
দলছুট সত্যেরা।

সত্তম পঙক্তি, কম্পন...মানেনা কখনো।
ভেজা চামড়ায় ডুবে থাকে
নিষাদের কালো ঘ্রাণ।

ভেবে দেখো একবার,
মুক্তির প্রস্তাবে
রীতি নিভে গেছে ঠিক কতবার!
আরো কতবার,
ঈশ্বর হয়েছে মুহ্যমান
মাটির তলায়!

নখে নখে পোষা যত
অবুঝ অভ্রান্ত অনিয়ম,
মুক্তির আঙুলে বিঁধে যায়
লুকানো দস্তুর;
গোড়ায় গোড়ায় গোপন গোঁড়ামি।

এবং বাকিটা....
ইতিহাস জানে সব।



বিশ্বাসঘাতক
        অন্তরা চ্যাটার্জী

উল্টানো থালায় সাজানো গরল
আমি প্রেম ভেবে খেয়েছি, বিশ্বাসে।
আরো কতবার কৌতুহলে
আঙুল দিয়েছি, হিসেব রাখিনি।
নির্লজ্জ মন ভ্রূণের ভেতর করেছে
আত্মহত্যা,
ঘোলাটে কুয়াশা তবু
ঈশ্বর দেখাতে পারেনি কখনো।

আমি ভুলে যায় বারবার,
এক রেখায় মানুষ হাঁটেনা কখনো।
তাই, বিষ খেতে ভালোবাসি
আমরা প্রত্যেকে।

ঘুম ভাঙলেই শুনি
আধুনিক খিলখিল সংলাপ।
সরলে জটিল মেশে
শ্রেণীভাগ কষ্ট পায় ভীষণ।
অন্ধকারে চোখ পোষে
মৃত সান্ধ্যভাষা;
আর পৃথিবী তখন মিথ্যেকথার আসর।

আম্রমাধুরী সংখ্যা-১



এলকোলাহল

বিশ্বজিৎ সাহু



আমার এলকোহল চোখে সমস্তই দৃষ্টিনন্দন ।

ইচ্ছে-ছবি রং চড়ে ক্যানভাসে
মনে জাগে ধূসর পাণ্ডুলিপির মতো সমস্ত
নিটোল সার্থক , হয়তো বা নিশ্চিত জেনে
শারীরিক মনে জেগে ওঠে নিছক পাগলামি

শুভারম্ভ সুর অসুরের মন-শরীরের লড়াই
নিশিযুদ্ধ ...

কিংবা জেগেও জাগরণ বৃথা
অথবা আমার কিছু ছিল অবশেষ ?
অথবা রাত্রি ছিল বাকি !

উপসংহারে নিশ্চিন্ত হই
মন তো কেবল শরীরের নয় , মনেরও !

-------/////////--------

অনুতাপ
© বিশ্বজিৎ সাহু

তোমায় নিঙড়ে খেতে খেতে
কবেই ডুবে গেছি একবুক গভীরে
অম্ল ক্ষার মেশা সে এক অসম্ভব প্রেত সমুদ্র
সাঁতার দিচ্ছি তুলে রাখতে চাইছি চিবুক

আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে
স্ত্রী সন্তান আরো যারা কাছের
আবছা হয়ে আসছে শক্তি

কেবল দাঁতের মতো গুরুত্বহীন স্মৃতিই
বিদ্যুতের চকমকি হয়ে হাসছে মগজে
নিরুপায় দুর্বল আমি...
-----------------------------////--------------------------

.অন্তরার কৌতূহল
© বিশ্বজিৎ সাহু

অন্তরার কৌতূহল ব্যাপক , টানটান
মায়াবী জিজ্ঞাসার মাস্তুল পূর্ণতার পথ ফুরোতে
সর্ষে অভিসারে দ্রুতযান

ঘামের মোহে স্বেদ , লালার রসনায় ঠোঁট
সর্পিল চলন পেলে মনভোগে তৃপ্ত চাতক

দীর্ঘ পিপাসা অমন চরিতার্থ হলে পর
পলস্তারা খুলে ফ্যালে নির্মোক

সেভাবেই উদ্বায়ী সকল রোদ-ভালোবাসা
অন্তরার কৌতূহল থাকে যেভাবে !
----/------------/////;------------////-------------//;;---


আম্রমাধুরী সংখ্যা



সম্পাদকীয়:

বৈশাখ জৈষ্ঠ্যের আম্রমাধুরী অম্লান থেকে যায় আমাদের হালফিল আপকামিং ফ্যাশানেবল জগতে কোল্ডড্রিংকসে। এ যেন দুধের সাধ ঘোলে মেটানো। তবুও তার মাধুর্য্যে আমাদের অন্তর্লীন উপলব্ধি অক্ষুণ্ণ থাকে।

ঠিক তেমনি এমন অনেক কবি ও লেখক আছেন তাদের লেখনী এরকম মিষ্টতা আমাদের স্বাদকোরকে রাখতে সক্ষম। তাই অনেক সময় তাদের নিজেদের দেওয়া বা তাদের টাইমলাইন থেকে সংগৃহীত লেখনী "আম্রমাধুরী" সংখ্যায় সারপ্রাইজ প্যাকেজ হিসাবে তুলে ধরা হল। যা পাঠক মন চুরি করতে সর্বোপরি সক্ষম হবে এই আশা করি।

সুপ্রীতি বর্মন।