অজ্ঞাতবাস ঘর‌ই এখন জগত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অজ্ঞাতবাস ঘর‌ই এখন জগত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০

কৌমার্য গীটার: সুপ্রীতি বর্মন


 

Editorial Note,,,,,,


কৌমার্য গীটার 


Picture Illustration,,,,, 


সুপ্রীতি বর্মন





(( এখন অনেক রাত তুমি বুকের ভিতর ফাটছো ধীরে ধীরে)) 




ব্যর্থ ক্রোধে যখন খোলা শার্টে উন্মুক্ত 

আমার পুরুষালি লোমশ বক্ষ

তখন তুমি কেমন করে ক্লান্ত চরণে 

সমর্পণ করে আঁকড়ে ধরো আমাকে

তোমার স্তন্যে যখন নগ্ন দুই ঠোঁটে কামড়াই শিশুর মতন

তখন উথলিয়ে উঠে দুধসমুদ্র

পাঁজর ভাঙা আঁকড়া দিনে যখন

রুগ্ন গান ছোবল মারতে চায় 

তখন তোমার নখের আঁচড় দুরন্ত অশ্বখুরে হাতড়ায় আমার পিঠের পরে 

নিতে চায় প্রশ্রয়

কাঠফাটা গর্ভিণী রমণী রোদ।।

গিটারের তার খুঁজে যাই পাগল হয়ে আমি

তোমার পিঠের চামরে

জংধরা বিবস্ত্র সেই তার তাই বাজাতে গিয়ে আমার শ্বাসরোধ গলা শুকিয়ে কাঠ।।

শীতলপাটি বুকে তোমার ঢলে পড়া সূর্যাস্তের কামড়ে দেওয়া নগ্নঠোঁটের শীৎকারে

আমার ব্যাঘ্রনখ আরো বেশী উদ্বিগ্ন হয়ে উৎকীর্ণ লিপি করতে চায় খামচে ধরে 

ঐ কাছিমের মতন তোমার উল্টানো পিঠে

সুর উঠে না গোধূলি জর্জর অসুখমোড়া রাতে

তাল যায় ছিন্নপত্রে গড়িয়ে।।

আমি বশ্যতা স্বীকারে অনীহায় থাকা এক সৈনিক রণক্ষেত্রে

আঁচড়াতে থাকি আর তত আমার নিঃসঙ্গ চোয়ালে পড়ে টান 

আমি অন্ধকারে হাতড়াই অমাবস্যার চাঁদ

তাই ছেঁড়া তাঁতে ঐ নগ্নকুম্ভীরকাঁখ কে আরো টেনে ধরি জাপটে খোলা বুকের কাছে

পতঝর সরসরাহট মেহেদি খচিত রাঙা দুটো হাতের উদগ্র কামনার ছোঁয়ায় 

আমার পাঁজরতলি ঘিরে নামে সন্ধ্যার কনসার্ট।।

আর পাঁজরগুলো আগুনে পুড়ে উচ্ছিষ্ট হাড়ে গজাতে থাকে তোমার ঐ দংশনে 

দামাল দন্তের স্বরলিপি 

দুমড়ে মুচড়ে জেগে উঠতে চায় প্রখর খরায় এক দরিয়ায় সম্ভোগের সুর

কিন্তু মাঝির বজ্রবিদ্যুৎ মুষ্টি তখন আঁকড়ে ধরে ভায়োলিন নিহত কৌমার্য আক্রান্ত রজনিতে।।

আমার বুকের হেম মোমদগ্ধ রাতে গলে যেতে থাকে আর তোমার নাভি নিম্নদেশে তখন গভীর অতীতের পিচ্ছিল খাদ

নীচে নামতে বড় ভয় ভয় লাগে যদি তোমাকে হারিয়ে ফেলি 

তাই অস্বীকার করা প্রত্যাখানের ঘ্যোৎ ঘ্যোৎ বুনো শুয়োরের গর্জন তোমাকে করতে চাই না একদম কাছছাড়া 

নখের আঁচড় ও দুরন্ত অসভ্যতা আরো চাগাড় দিয়ে ওঠে আমার পুরানো ক্ষুধা।।

শীর্ণ আমার শরীর গুটিয়ে যেন তখন খোলামেলা শার্টে তোমার স্তনদুগ্ধে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা কোন শিশু 

চুষেই চলেছে দিনরাত্রি চোখ বুজে।। মণিকর্ণিকার ঘাটে বীর্যকল্লোলে তখন সপ্তম সুরের ঝংকারের ঝড় 

উথলিপাথালি আঁচড়ায় তোমার পিঠের পিয়ানোর রেশমি ফাঁসের বন্ধনী 

কন্ঠসংলগ্ন চোষক স্বরথলি অগাধ ভরাট মাংসল স্বরের উজান গাঙে অপভ্রংশ 

আলজিভে প্রখর তৃষ্ণায় তোমার সিঁথির সিঁদুর এর প্রশ্রয় শুধু আমিই দিতে চেয়েছি

যত‌ই উঠুক উন্মাদ জোয়ারের ঝড়।।

তবুও তোমার ঐ অজগরের রোষে অভিমানে আটকে থাকা 

কাঁকড়া চাঁদের জরোয়ার ঝুমকা আমার কন্ঠ আঁকড়ে ধরে থাকে 

তাই শ্বাস নিতে তখন খুব কষ্ট হয়

স্বর বের হয়না স্বরবর্ণ কোথায় অজ্ঞাতবাসে

শুধু মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে

তোমার শিকড়ের সঙ্গমে ক্লান্ত বিশ্রামে এক পরাজিত গায়ক।।

পরাধীন ভোরে আমি আর জাগতে চাই না

যখন দেখি ম্রিয়মাণ মোর ছায়া পথভ্রষ্ট 

নষ্ট আঁধারে মুখ গুঁজে কাঁদে

ঈশ্বরীর নৈবেদ্য থেকে সে সম্পূর্ণ রূপে পরিত্যক্ত অবহেলিত 

এই রাতেই সে আনতে চায় নগ্ন পাগলকরা জ্যোৎস্না।।




রতির কামদেবের পঞ্চবাণের সুর ললিত যাম

আমার বক্ষের উপোসি চিতা-বৈরী-বহ্নিবিষে 

যখন তোমার শরীর টলোমলো তালে ধুনুচি নৃত্যের ঘোরে ঊরুশোণিত কাঁপনে গড়িয়ে যায়

তখন আমার শীতল শোণিত শঙ্খশুভ্রহংসবৃন্তের ডাকে 

তোমাকে আলগা করে জড়িয়ে ধরে সামলাই নাভিমই কস্তুরীরমণমাঠে

আমাকে গ্রহণ করো তুমি 

তুমি আমার বুকের ভেতর ফাটছো ধীরে ধীরে।।

নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের অগ্নিমান্দ্য দুরন্ত ঝাঁপ

যতো উদ্বিগ্ন হয়ে সময়ের কাঁটার দীর্ঘায়িত সুকল্যাণ বাহু কামড়ে কামড়ে খাই

তত সেই অগ্নিশ্বাস ধুম্রলোচন ঘনঘটা 

স্বরের পাকচক্রে দলাইমালাই চালে সৃষ্টি করে নতুন স্বরলগ্ন 

আঁচড়ে আঁচড়ে পিঠের প্রান্তরে

নির্বাসনে জটাজুট জমাট শিলা ছিল 

এতকাল ধরে তোমার রাতজাগা চুলে

পিঠের উপর ছড়ানো উন্মুক্ত কেশরাশি মৃগতৃষ্ণা।।

আজ আমার আঙুলের ক্ষিপ্র চলনে কেশে অঙ্গুলিহেলনে জেগে উঠে মেঘমল্লার

নচ্ছার রোগের সুর ছিঁড়ে আনতে চায় 

তোমার মধুপ ক্লান্ত রণস্বামীকে 

যাতে সে নতুন করে ফেনায়িত দ্রাক্ষারসে 

শামোসেহের জাগাতে পারে নায়ি নবিলী কোই দুলহন কী সোহাগ রাত 

আঁখো কী শামসীর কী রাগ 

তিসরি মঞ্জিল

ত্রিযামার মঞ্জীর কঙ্কন কাঁপন।।




অনুপ্রেরণায় ছবি সৌজন্যে,,,,, 


((শুভায়ুর রহমান এর Facebook Story Line পোস্ট)) 

Classified News##Editorial Segment##সুপ্রীতি বর্মন

 

((সম্পাদকীয়)) 

সুপ্রীতি বর্মন 


((লকডাউনে ঘরবন্দী নাগরিক সংক্রমণ

শীতঘুমের অজ্ঞাতবাসে মৃত্যুর পরিসংখ্যান 

ক্রমবর্ধমান নাগরিক অবক্ষয়))


Current affairs 

(Editorial segment)

News Collected from News 18 Bangla



পরিণয়ের উত্তরণ একসাথে যাত্রায় সিঁড়ির প্রথম ধাপে যখন আছড়ে পড়েছে মৃত্যুরমণক্রিয়ার শোক,,,,, 


তখন সেই শৈবালের গোছানো চাদরে ঘাটে নোঙরের কাছে পরাজিত বশ্যতায় আত্মসমর্পণ করতে লেগেছে গার্হস্থ্য এর সারি সারি নৌকা যেন তাদের যাত্রা এখন আপাতত স্থগিত আছে আর ঘর থেকে বের হবার কোন প্রয়োজন নেই এখন,,,,, 

এখনো তাদের সময় হয়ে আসেনি দেরি আছে,,,, 


মৃত্যুমিছিলের পরিসংখ্যানে বাড়লো আরো একটি অস্থিচর্মসার মনুষ্য শুধু একটি সংখ্যা,,,,,

এখন তার অস্তিত্ব তখন ঝুরো বালির মতন হয়ে যায় আর পায়ের তলার মাটি চলে যায় এক স্ত্রীর তার মৃত স্বামীকে নিয়ে,,,

অশ্লীল নির্লজ্জতায় তখন হাড়গিলেদের ছায়ার কোরিওগ্রাফির অচল মুদ্রার স্থিরচিত্র চতুষ্পার্শে থেকে তৈরী করে এক শ্বাসরোধকর জমাট অন্ধকারের নির্জনবাস,,,,,


দূরে থেকে দাঁড়িয়ে কেবল পৈশাচিক নাগরিক পতঙ্গ শুকতে থাকে মৃত শরীরে সংক্রামক ব্যাধির লক্ষ্মণ,,,,

সেটা আছে কী নেই তার শরীরে তাও এখন এক জটিল ধাঁধা হয়েই থেকে যায়,,,, 


লকডাউনে যখন শাঁখা পলা ভাঙা অশ্রুশিশির ভোরে ধুয়ে যেতে লেগেছে অভিশপ্ত জাগ্রত বিগ্রহ তবুও কুসংস্কারাচ্ছন্ন লুন্ঠিত চাঁদ ঐ খোলা বুকে আছড়ে পড়ে হয়ে যেতে লেগেছে পুড়ে ছাই,,,,, 

তবুও শোকের জীবাণুর গলাধঃকরণ অসমাপ্ত‌ই থেকে যায়,,,,

এক মায়ের পাথর দৃষ্টি প্রতীক্ষায় উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে থাকে শেষ দেখা ছেলেকে দেখাবার জন্য তার পিতার,,,,,,

প্রয়াণে যে পড়ে আছে অজ্ঞাতবাসে প্রবাসে বিদেশ বিঁভুইয়ে কারণ তার আসা কিংবা তার পিতাকে একবার চোখের শেষ দেখা সবকিছুই এক অজন্মাভ্রূণ শোক একেবারেই অসম্ভব এই লকডাউনে,,,, 


সসাগরা ধরিত্রীর গর্ভে যখন লুটিয়ে পড়েছে এক স্ত্রীর ইচ্ছাশক্তি আর সকল মনস্কাম বৈকল্য হয়ে অস্তাচলে আশ্রয় নিতে লেগেছে শেষ আঁধারটুকু শুষে নিয়ে এই হাঙর সময়ে,,,,, 

তখন পর্ণমোচী সম্পর্ক গাঁটছড়ায় নিজেই নিজের স্কন্ধে তুলে নেয় সে মৃত স্বামীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ভার,,,,,

যেন আজ সেই পরিণয়ের মাল্যদানে আটকে থেকে যায় তখন বিধবার কালবেলা,,,,, 


আটঘাট নেই বাঁধা,,,,,

নেই কোন আয়োজন নেই কোন ভিড়ের জমায়েত হবার প্রয়োজন,,,,

শুধু মৃত্যুপ্রহরীর বাঁশি বেজে যেতে থাকে যে সময় হয়ে গেছে আর বিলম্ব নয় এবার নিয়ে যেতেই হবে মরদেহ বেশিক্ষণ ফেলে রাখতে নেই,,,

নেই কোন বিকল্প সহজাত উপায় এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার,,, 



সময় তখন পক্ষাঘাতে গুটিয়ে মড়কলাগা গাছগাছালি যারা শুধু কাঙাল একটু প্রশান্তির ছায়া পেতে রৌদ্রদগ্ধ রাজকার্য সেরে,,,,

আর মনে মনে চলতে থাকে তখন অভিব্যক্তির সেই এক আচরণ হতাশার ঐ স্ত্রীর তার মৃত স্বামীকে ঘিরে যে আমারো পাশে দাঁড়াবে কেউ আছে হাত বাড়ালেই তাকে ছোঁয়া যায় অমোঘ বিশ্বাসে,,,

কিন্তু সবটাই শূন্য হয়ে যায় নাগরিক শৃঙ্খলে জং ধরা স্বভাবসিদ্ধ আচরণে,,,, 

প্রত্যেকেই প্রায় এই অজ্ঞাতবাসে ভয় ও শঙ্কায় গুটিয়ে থাকা ঘরকুনো এক অপ্রচলিত শ্যাওলা যে শুধু নীরব দর্শকের মতন তাকিয়ে দেখবে কিন্তু কিছু বের হয়ে করতে পারবে না এক অকাল কুষ্মাণ্ড এর মতন প্রতিদিন ধরে এক আচরণ নিয়েই থেকে যাবে তারা তাদের সঙ্কোচনশীল গহ্বরে,,,, 


সর্বরোগহর শোক কামনা যা অর্ধসত্য এক প্রচ্ছদে লুকানো ক্ষণস্থায়ী মগ্নতা শীঘ্রই উড়ে যায় যৌবনের মতন,,,,, 

একদিন চুয়াচন্দন‌আতরস্নিগ্ধ ললাটে ললিতসখ্যপ্রণয়লাস্যে এঁকে দিয়েছিলে তুমি সিঁথির আগুনে গৈরিক গোধুলি সন্ধ্যে,,,, 

এখন তা ক্ষয়াটে পাঁজর দুমড়ে মুচড়ে হাড়কাঠ অগুরুচন্দন তোমার দাহে তাই ভয়ে কাঁটা আমার নিঃসঙ্গ শরীর পাশে কেউ নেই শুধু আত্মস্থ হাহাকার ছাড়া,,,,,

ছেলে থাকতেও সে আসতে পারছে না উত্তরাধিকারী সূত্রে তার জন্মসিদ্ধ প্রায়োগিক অধিকার শেষ কার্য করতে পারার অধিকার সঙ্গে নিয়ে,,,, 


চৌদিকে তখন সেই অসহায় গিরিমাটি চোখ রাঙিয়ে ধ্বসে পড়তে লেগেছে ঝুরোমাটি রূপে তবুও প্রখর সহনশীলতায় ধুমাবতীর বিষাদাগ্নির আঁচল পাতা শেষবারের তরে তার স্বামীকে দেওয়া আশ্রয় শুধু একলা পথে চলা একলা একার অভিজ্ঞতা হয়েই থেকে যায়,,,,

দুহাতের করতলের ভাগ্যরেখায় অঝোর ধারায় শ্রাবণে মুখ লুকানো তার শুষ্ক ঠোঁটের চিৎকারে ডাকে সন্তানের শুশ্রূষা কাছে পাবার জন্য কিন্তু কাউকেই নিজের কাছে আশ্রয় হিসাবে পায় না,,,, 

কিন্তু কালিন্দীর গর্ভে শুধুই জমতে থাকে অদৃষ্টের পরিহাসে পোড়া ছাই এর অজ্ঞাতবাস,,,,, 

বিধাতার উত্তরপুরুষ অসহায় সজলধারা চোখে পাথর দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকে কী করুণ এই মৃত্যুর পর মরদেহের দুর্দশা,,,, 

সসাগরা ধরিত্রীর অসুখ হয়েছে কে জানে কবে আবার সে আরোগ্যলাভ করে সুস্থ হয়ে উঠবে কে জানে,,,, 



তখন হঠাৎ এই মুঠো মুঠো অস্থিভস্মছাই এর মোচ্ছবপ্রাতের দৃশ্য ধরা পড়ে ভিডিও কলের মাধ্যমে স্পর্শযোগ্য দুরত্বে থাকা ছেলের কাছে,,,,, 

ছেলে দেখে একলা একা এক স্ত্রীর যাত্রা অগ্নিশিখার কাজলে জেগে উঠেছে যার অভিজ্ঞান শাস্ত্রনিয়মনীতির এক বিরুদ্ধাচরণ হয়ে,,,, 

নিজেই নিজে আগুন দেয় স্বামীর মুখে,,,, 


নিষিদ্ধ তীর্থক্ষেত্রে তখন জাঁকিয়ে বসতে লেগেছে মৃত্যুর হিমশীতলজমাট বাঁধা অবসাদ,,,,

যেখানে অজ্ঞাতবাসের আদিখ্যেতায় স্পর্শযোগ্য দূরত্বে থাকতে গিয়ে অসহায় হয়ে উঠেছে প্রতিটি মানুষের উপচিকীর্ষার মনন,,, 

অল ক্লিয়ার মরণের আকন্ঠ অগ্নিদাহ শরীর মোক্ষ পাবার চাহিদায় কাছছাড়া তৃষ্ণায় ডুকড়ে কেঁদে ওঠে,,,,, 

হয়ত ঐ মৃত ব্যক্তির মনন ও তার অনুরণন নিঃশর্ত সমর্পণ যে আমার আজকে অন্তিম যাত্রায় কেউ নেই কাছে,,,, 

কিন্তু একদিন আমারো ছিল সব 

ছিল এক সুখী গৃহকোণ আজ সে সকল কিছু রয়েছে কাছছাড়া,,,, 

পৃথিবীর অসুখ করেছে আর সেই অসুখ একদিন ঠিক সেরে যাবে মনে মনে বিধাতার উত্তরপুরুষ কে জানায় সে তার অন্তিম প্রার্থনা,,,,,

যে সকলে যেন ভালো থাকে আর তুমি যেন সবাইকে ভালো রেখো এর থেকে বেশি কিছু চাওয়ার নেই আমার,,,,,


আত্মশ্লাঘার কালো ধোঁয়া কুন্ডলী পাকিয়ে মর্ত্য থেকে সংক্রামিত বিষাক্ত ধরিত্রী ছেড়ে স্বর্গে উঠে খুঁজে নিতে চায় অন্য ঠিকানা নতুন করে,,,, 


আর সেই কালো ধোঁয়ার ছাই ধুমাবতীর শরীরে আঁচল হয়ে জড়িয়ে যেতে থাকে দ্বিতীয়বার পুনর্জন্ম নেবার অসম্ভব প্রত্যাশায়,,,,

সমগ্র শরীর তখন শোকতাপদগ্ধ জ্বর শুষে ছুট লাগিয়েছে আবার নতুন করে পেতে সেই সিঁথির বিষাদ শুভ্রজ্যোৎস্না পাগলকরা উল্লাসের পথে,,,,,

এক পেছনে ফেলে আসা অতীতে কিশোরীর জীবনযাপন,,,,,


মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০

যোগনিদ্রায় ল্যাপটপ

 



যোগনিদ্রায় ল্যাপটপ,,,,, 

((Editorial Note)),,,,, 

অজ্ঞাতবাস ((ঘর‌ই এখন জগত)) 


সুপ্রীতি বর্মন,,,, 



কঙ্কালসার কচলাকচলি উচ্চবিত্ত আভিজাত্যের ডিগ্রী 

স্কন্ধচাপা জগদ্দল কড়িকাঠ আত্মদম্ভ অস্তিত্ব 


কচ্ছপের শক্তপোক্ত জমাটশিলার কঞ্জুসির আবরণ ঢাকা 

উল্টো পিঠের হামাগুড়ি চামর 

সহনশীল চাদর


চাপাচাপি কর্মযজ্ঞের মরাকোটাল তখন কটিদেশে পরাধীনতার শৃঙ্খল 

কঠিন সময় এখন তাই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত


Then somehow u r habituated to learn by heart abusive or foul language, 

Bed of thorns,,,(কন্টকশয্যা) 

কোলভরা বন্ধ্যা রমণীর প্রসব যন্ত্রণার অন্ধকার,,,,, 



Circumlocution (কথার মারপ্যাঁচ) tends to be directed to downfall or destruction

No need of maintainance for the expenditure 

It is getting gradually then obsolete 


Pedantic Laptop with wide screen

Becomes lazy and harsh somehow hazy to be transformed into alluvial deposit 


Circumspection gives birth to vanquished mental state of agitation


প্রণয়ের উজ্জ্বল পক্ষীরাজের পল্লবগ্রহীতায় তখন 

পাওনা গন্ডায় উজবুক কিস্তির আলস্য সংবাদ,,,,, 

      পাংশু ঠোঁটে কিংশুক সুখী পলাশ রাতজাগা প্রহরী সাফল্যের চাতক,,,,,

     খুব বেশী করে যেন আজ হয়ে গেছে উৎকট ব্যধি,,,,,

In the midst of bestial darkness of ignorance 

চাই চাই প্রস্তরখন্ডের পাঁচনের মার রাখাল ছেলের গরুচরা মাঠে হাতের কাল যেন কোন চন্ডকাম


Excessive hunger and thirst for high expectations draws u back to the inferno,,,,,,অজ্ঞাতবাস (Home quarantine) 


Where is no need of spell-bound free spirit shower but to live on bare-subsistence,,,,, 


প্রবেশ হিরন্ময় নখের আরশিতে জাগায় স্বর্ণালী কাঞ্চন পান্না (Emerald) 

But in quick moment that is turned into gravel,,,,, 


শনিচক্রের পাঁড়াগেয়ে পাগলাগারদ হবিষ্যি দান,,,,চটকাচটকি পাপপুণ্যের পিন্ডি,,,,, 


পার্শ্বচিত্র (Slide show) তখন অসামঞ্জস্য ক্ষুধার তৈলচিত্রে 

পারম্পর্য পারদর্শীতা রাখার অক্ষুন্ন প্রয়াসে

ছত্রাকঘটিত স্মৃতিচিত্র 

Skip করতে থাকে তখন কর্মক্ষেত্রের কোলাহল ছেড়ে উদ্বিগ্ন অর্থনীতির ধ্বসে পড়া চোরাবালির চরায়

(Betel-leaf) পানপাতার আরামপ্রদ মুখশুদ্ধি 


Laptop এর pigeon-hole এ তখন চরছে বাস্তুদোষে ঘুঘু 

পাথুরে শ্যাওলা সহবাসে তখন ফোটাতে অপারগ স্থলপদ্ম


তবুও পুণ্যাত্মার দীর্ঘকালীন পুণ্য সঞ্চয়ে 

পঞ্চত্বপ্রাপ্তিতে গত হয়ে যায়নি 

প্রতীচীর হাড়কঙ্কাল দেহে বেড়েছে প্রকোপ

 মহামারীর পূর্ণগ্রাস 

পরিব্রাজকের ভিক্ষায় তখন মুখ গুঁজে থাকে 

শ্যাওলাশাড়ির স্বপ্নপ্রণয়িনীর অজ্ঞাতবাস

অপ্রচলিত,,,, 

Reflection of consecration is at a proximate expectation,,,,, 


Self-imprisonment এ যখন করোটির রক্তকরবী

অক্ষরস্রোতের কলকল্লোল ঘটাতে অপারগ

তখন শীর্ণ আঙুলের নৃত্য মুদ্রায় বন্ধ্যা রমণী

চুপচাপ বসে থাকে সময়ের কশাঘাতে কষ্টসহিষ্ণু (Painstaking quick-lime) 


দেওয়ালের আজামাজা পুড়িয়ে কাকবন্ধ্যা শোকে

কাজলবিষাদ‌অগ্নিমেঘে কামড়া-কামড়ি করে

 শিথান শয়ান ব্যর্থ নিরুপায় ক্রোধে 

যাতে জেগে উঠতে পারে অশ্রুবর্ষণ 

কিন্তু উঠবে শুধু তাতে রুক্ষসূক্ষ শিমুল ঝড়

অনিশ্চিত অন্ধকারের অজ্ঞাতবাসে

অপ্রচলিত


তখন প্রতিশ্রুতি দেবার অঙ্গীকারে

কূপমণ্ডুক কেঁচো ঘুড়িয়ে ঘাড় পিছিয়ে পড়ার কেঁচে গন্ডুষ কাজে অপকেন্দ্র হবার কেনাগোলাম হয়ে পড়ে 

অভ্যাসগত শ্লথদশায় অজ্ঞাতবাসে 

যেখানে শুরু সেখানে নেই শেষ সেখান থেকেই আবার শুরু,,,,,It is a kind of treatment of repeated oder of wrangle,,,,, 


ক্ষণভঙ্গুর ক্ষয়ের সমুদ্রশৈবালে যখন থমকে আছে এখন আপামর জন জাগরণ,,,,

তখন ক্ষুধামান্দ্যে খুঁদকুড়োয় অন্ন-সংস্থান

নিরন্ন সকাল যেন অজ্ঞাতবাসে কালাশৌচ যাপন





শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২০

## কবিতা: হয়েছে সময় ## দীপঙ্কর


কবিতা: ◆হয়েছে সময়◆

       দীপঙ্কর


এই ক্ষণে হয়েছে সময় ।

মস্তক মুন্ডন করে, কবিতা চিবিয়ে খেয়ে
ঘুমে-জাগরণে নেচে চন্ডাল নাচ.....
চলে যাবো মাড়িয়ে সব মায়া । অনেক খেলেছি খেলা , দেয়া-নেয়া হয়েছে সারা সবাকার।
চলে যাবো এই বেলা-  ভাসিয়ে বুকের ক্ষত হাত ধরে বুড়ো অশ্বত্থের পাতার ।


ভোরের সূর্য গিলেছি সেই কবে কাঙালের মতো ,
তুলতুলে মেখেছি শিশির ফাটা ঠোঁটে , ধরেছি নাঙল- সোনা ভরেছি গোলায় ।
দুই ডানা মেলে রুধেছি ঝড়- ঘর যাতে না টলকায়।
এনেছি প্রিয়ার বাজু- বাজি রেখে ক্ষমতা অসহায় ।


কেটেছি দু'কান নিজ হাতে , ঘষেছি নাক অপরের অপরাধে , সয়েছি স্নেহের যত অন্যায়।
বিকিয়েছি মাথা ভারি বুটে , সুখ এনেছি খুঁটে খুঁটে ,
ঋণ মিটিয়েছি শোণিতের বিনিময়।

আর নয় , আর নয় দেরি । এইবার ঘরে ফিরি।
আঁচল বিছিয়ে  বসে থাকে বোধিসত্ত্ব -আকুল অপেক্ষায়.....

সব মিছা, সব বৃথা- সব স্বার্থের কাদা মাখা।
দিন গেল-- চেয়ে দেখি  রত্নাকর একা কেঁদে ভাসায়.....

এই ক্ষণে হয়েছে সময়....

ছিন্ন করে সব সুতো হেঁটে যাবো কমন্ডুল হাতে কেতু সনে তারায় তারায়।

ঐ.... ডাকে তথাগত।
আয়....  আয়.....



##অণুগল্প: ভাতের গন্ধ##ভারতী দাস


অণুগল্প: ভাতের_গন্ধ

কলমে : ভারতী দাস



সাত সকালে রিফুইজী ক্যাম্পে চাল ফোটার গন্ধে সুরভিত চারপাশ।
            ছন্নছাড়া উদ্বাস্তু লোকগুলো তীর্থের কাকের মতো চেয়ে আছে জ্বলন্ত উনুন টার দিকে।
               চুলের থেকে শেষ বিন্দু তেল উবে গেছে বহুদিন। কোটরগ্রস্থ পিচুটি চোখে উদাস দৃষ্টি। বদলে যাওয়া পৃথিবী টায় ওরা পরিযায়ী শ্রমিক।

ডালে ফোড়নের গন্ধে কঁকিয়ে ওঠে ছেলেটা। চিল চিৎকারে ছিন্ন হয় নিস্তব্ধতা। অল্পবিস্তর কাশি সবার হলেও, নিরন্ন পেটে শিশুর কান্না যেন অসহ্য!

        কোণায় বসে থাকা অচেনা বৃদ্ধার ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায়........
"বলি  অ বৌ, ছিলাটোকে চুপ করা কেনে। একটুকু বুকের দুধ দে কেনে, চুপ হয়ে যাবেক।"

         ঝাঁঝিয়ে ওঠে অষ্টাদশী , তিনদিন পথ চলার ধকলে অবসন্ন শরীর। জঠর পুড়ছে খিদের আগুনে.......
" দুধ থাইকলে তুমায় বলতেই হইতো না মাসি। বেটা তো আমার, পরাণ আমার হু হু করইছে । এই অভাগা দিনে ভাগ্যের সাথে দুধটোও শুকায়ে গেছে গো। তিন দিন জলও পেট ভইরে জুটে নাই।"

বৃদ্ধার চোখ ভিজে আসে, অপলক তাকিয়ে থাকে উনুনের ছাইয়ের দিকে।

পাত পড়তে শুরু করেছে কাঙালী ভোজনের জন্য।



##অণুগল্প:গৃহযুদ্ধ## ভারতী দাস


অনুগল্প: গৃহযুদ্ধ

কলমে : ভারতী দাস




এই লজ্জা আর প্রাণে সয় না। সামান্য একটা চাওয়া, সেটার জন্য এতো কিছু.......
        রাগে গজগজ করতে করতে এসে বসলুম,চায়ের দোকানে। কি ভাগ্যিস সেটা খোলা ছিল! এতদিনের গৃহবন্দী জীবনে একটু মুক্তির স্বাদ।
        দূরত্ব টা বজায় রেখেছিলুম, পুরো এক মিটার। প্রাণে ভয় সবারই তো আছে!
        দোকানের বেঞ্চির শেষ প্রান্তটা একেবারে জাতীয় সড়কের গা ঘেঁষা। এখন গাড়ি চলাচল নেই বললেই চলে। হরিণ গেলা অজগরের মতো পড়ে আছে রাস্তাটা। ইতিউতি এক দুটো মানুষ চোখে পড়লেও, সংখ্যায় খুবই কম।
        মোহন সবে চায়ের জল বসিয়েছে। আমিও মুঠোফোনে নতুন খবরের সন্ধানে ব্যস্ত। চোখ পড়েনি সড়কটার দিকে। একটা পাগলা হাতি কখন যেন চাকার সাহায্যে এলোমেলো ছুটে আসছে..........
গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কিছুতেই, হুড়মুড়িয়ে এসে পড়লো দোকানের ওপর.......
যন্ত্রণা, অসহ্য যন্ত্রণা........
ককিয়ে উঠে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতেই........
হিমশীতল জলের ঝাপটা চোখে মুখে, সাথে তীক্ষ্ণ বাক্যবাণ বিদীর্ণ হল কর্ণপটহ......

"সারাদিন শুধু পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে, আর স্বপ্ন দেখে চেঁচাচ্ছে। দেখে গা জ্বলে যায়।
           তোমায় যে চা পাতা আনতে বললাম, সেটা না এনে, তুমি দিবা নিদ্রায় মগ্ন!বলি, সংসারটা কি আমার একার? "
        হাজার কথার মাঝেও দেখলুম এককাপ চা বেলা বারোটার সময়েও, সরলা রেখে গেছে আমার জন্য।কোথা থেকে যে সবদিক সামলায়,ঈশ্বর জানেন। বড্ড ভালো বৌ আমার। না, কাল সকালেই সব বাজার করে নিতে হবে, না হলে গৃহযুদ্ধ যে কোন দিন শুরু হয়ে যেতে পারে।।

ঈশ্বর যখন লকডাউনে বন্দী গৃহকোণে##সুপ্রীতি বর্মন


ঈশ্বর যখন লকডাউনে বন্দী গৃহকোণে,,,,,,

(( Picture Illustration)),,,,,,,

ফেসবুক টাইমলাইন পোস্ট,,,,

((Bumba Mukherjee))


((Exclusive))

Editorial Note,,,,

সুপ্রীতি বর্মন,,,,



কাউকে কোনকিছু প্রকাশ করতে না পারাটাই হলো সবচেয়ে বড় অজ্ঞাতবাস আর শাপগ্রস্ত কারাগার তার থেকে বড় নৈঃশব্দ্য যাপন কিছু নেই যেখানে সমানে একে অপরের অপ্রতিরোধ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে মনের ভেতর প্রতিশোধ স্পৃহার গুমোট নিঃশ্বাসে যন্ত্রণার আঁচড়ে রক্তাক্ত আধিভৌতিক অক্ষরে লেপ্টে যায় মনুষ্যত্বের নাকাবপোষ মুখোশের আড়ালে থাকা শয়তান যার সাথে ঈশ্বরের সবসময় চলে খাওয়াখাওয়ি যেমন এক নেউলের সাথে চলে সর্পের খ্যানামনা আঁচড়াআঁচড়ি,,,,
অস্থিচর্মসার হাড় কঙ্কালের ম্রিয়মাণ কুঁচকে যাওয়া সোনাঝুরি পাতায় যখন হাড়পিঙ্গলা রাগে পাঁজরের আঁচড়ে টিকে থাকা দায় আগামী দিনের অনিশ্চয়তার পিচ্ছিল কড়ি কৃষ্ণকলির দ্যোতনায় কী হবে কী হবে ওগো শঙ্করী তখন মনমাঝে যূপকাষ্ঠে হরি হরি কৃষ্ণনাম জপে সখী কবে আসবে আমাকে পার করবে তুমি এই জীবন বড় টালমাটাল,,,,,তাই একা একা টিকে থাকা দায়,,,, দুঃশ্চিন্তার শমনে,,,,,


ওদিকে যখন ঈশ্বর প্রতিটি অট্টালিকার পাষাণপ্রস্তরে চিরঘুমে কালযোগনিদ্রায় মগ্ন আর পঞ্চনাগের লেজের ঝাপটায় উত্থিত মথিত কাঠগরায় থাকা মহামারীর প্রকোপে মুর্মূর্ষু রোগাক্রান্ত ক্ষীণায়মান শরীর উঠবো উঠবো করছে চারকাঁধের সমুদ্রে তখন দশটা পাঁচটা চিন্তা গেছে পগার পার ঘরপোড়া লকডাউনে,,,,,
হিমশীতল জমাট পাথরে মৃত্যুর প্রতীক্ষায় অশৌচ সংসার আশ্রম কিংকর্তব্যবিমূঢ় মিছিলে মিথ মানবী ও মানবের দল প্রজন্ম প্রজন্ম ধরে,,,,
তখন আমার রমণীর ঈর্ষান্বিত উল্লাসে আটপৌরে বিলাসী ভব্য স্বর্ণকাতানের শাড়ির আঁচল ধরে আঁকড়ে কাঁদে আমার ঈশ্বর আর কতো সঞ্চয়ের খুদকুঁড়োয় জীবনযাপন করবো বলো তুমি,,,,
আমি যে আর পারছি না,,,,
তখন ঘোর অমাবস্যায় বাইরে দরজা ধরে স্থৈর্য ও ধৈর্য হারিয়ে ফেলে চিৎকার করে পাষাণপ্রস্তরে আটকে থাকা ঈশ্বরের শালগ্রাম শিলা প্রখর ক্ষুধায় চৈতন্য হারিয়ে প্রায় ভক্তি বাৎসল্য রসের সোহাগ আগুনে পুড়ে পুড়ে অস্থিভস্মছাই দারুব্রহ্ম কাঠ হয়ে,,,,
যেন বলতে চায় উন্মুখ হয়ে আমাকে একটু ভালোবাস তোরা আর কিছুই চাই না রে আমার তার জন্য মন্দিরে দশকাটা জমি ডিঙিয়ে তিনতালগাছ সিঁড়ির পর সিঁড়ি পেরিয়ে ঘটা করে উলঙ্গ চাহিদার ঘটি হয়ে আমার কাছে যাবার কোন দরকার নেই রে,,,,, ঘরে বসেই ডাক নিমন্ত্রণ দিয়ে তাতেই আমি ধরা দেবো তোর কৃতাঞ্জলিমুষ্ঠিতে তার থেকে বেশি কিছু চাই না আমার কারণ আমি শুধুই সোহাগের কাঙাল,,,,,,,


অণুগল্প## ফলন ##প্রদীপ দে


অনুগল্পঃ

 ফলন
     

 প্রদীপ দে
     
•••••••••••••••••••••



আকাশের মুখটা ভার। আবার বারিপাতও নেই। নামতা পড়ার মত মিডিয়ায় আবহাওয়া দপ্তরের ঘোষণা ঘোষিত হয়েই চলেছে - সাবধান! ওই বুঝি প্রলয় আসে! রোদ্দুর সকলেই চায়, কিন্তু সেও তো চায় নিস্তারিতে। নিয়মের ঘানি টেনে চলেন এক অশরীরী হর্তাকর্তা যাকে কেউ কোথাও কোনদিন দেখেনি।

চাষা আবদুলের ও মুখ ভার। অকালের বারি যেন তার ক্ষেতের দৈত্য! মাটির ভিতর থাকা তার চাষের আলুর অকাল প্রয়াণ প্রায়! ক্রোড়ের সন্তান মাতৃসম! হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুজরায়।
মানত করে তার বিবি। দরগায় ছোটে, যদি হাওয়ারে ঘুরায়ে দেন তার প্রাণের আল্লা!

এরকমই তো ঘটেছে এবার। বিবির তলার শরীর ভারি হলো। বিয়ের প্রায় দশবছর বাদ। অনেক মানতের পর দুর্যোগ প্রায় কেটে গেল। সবার কথা অমান্য করি আল্লা বুঝিবা তার বিবির শরীরে সেঁধিয়ে গেল। অসম্ভবকে সম্ভব করে বিবির পেট ভরে উঠলো, গরিবি ঘরের এক ছোট্ট কামনাকে স্বাগত জানাতে।

আট মাস কেটেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র বারবার সাবধান বাণী কানের গোড়ায় শুনিয়ে ছেড়েছে - দেখো বাপু একটু বুঝে শুনে চলো, প্রথম পোয়াতি, একটু নজর দিও। নষ্ট যেন না হয়!

আবদুল তার বিবি জাহানারার প্রতি ভালোই নজর দিত। নিজস্ব চাহিদা গুলোকে বিসর্জন পর্যন্ত দিয়ে দিল। ভয়ে স্ত্রীর সঙ্গে যৌনতার ইচ্ছে ভুলে যেত। তার একটিই মনস্কামনা তাকে তাড়িত করতো তা হলো ঘরের বাইরে ক্ষেতের ফসল যেন ঘরে উঠে আসে।

এইরকম পরিস্থিতিতে বারবার ঘোষণা, ঝড় -জলের আগাম পূর্বাভাস তার অশান্ত মনকে বড়ই বিচলিত করে তুললো। বাইরের ক্ষেত নিয়ে যখন দুর্যোগ তাকে পীড়ন করছে ঠিক তখনই ভিতরে বিপদ তাকে ছোবল বসালো।

জাহানারা বিবি বাথরুমে পড়ে গেল। রক্তপাতের দরুন গর্ভপাতের সম্ভাবনা প্রবলভাবে দেখা দিল। হাকিম এলো, পরীক্ষণের পর দাওয়াই দিল। কিন্তু আশঙ্কা তীব্রতর হলো,যখন গর্ভস্থ শিশুর অস্তিত্ব নিরুপণ করা কষ্টকর হয়ে পড়লো। মহিলা  প্রতিবেশীরা সকলেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল,জান দিয়ে পারলে, সন্তানটিকে বাঁচা‌তে সচেষ্ট হলো।


এদিকে কালোমেঘে আকাশ ছেয়ে গেল। প্রচন্ডভাবে প্রকৃতি তার বায়ু ছোটাতে শুরু করলো - যার নাম ঝড়। বড় বড় গাছগুলো তাদের প্রচন্ড শক্তিতে সেই ঝড়ের সঙ্গে লড়তে থাকলো। আবদুল এ অবধি ঠিক লড়াই চালাচ্ছিল নিজের সঙ্গে,  কিন্তু  একেবারেই ভেঙ্গে পড়লো যখন তীব্র বায়ুর সঙ্গে বৃষ্টির সূচনা সূচিত হলো।

বাইরে প্রকৃতি তার ধ্বংসাত্মক লীলা খেলায় ব্যস্ত। ঝড় -জলে মাটি ধুয়ে গেল, আর আবদুলের বুকের পাঁজর যেন ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে যেতে থাকলো - ফসলের আলু তার আর ঘরে উঠবে না -এই আশঙ্কায়।

ভিতরে তখন হাকিম আর মাসিদের আরো এক লড়াই চলতে থাকলো আবদুলের ফসল কে বাঁচানোর জন্য। আবদুল এতটাই অসহায় হয়ে পড়লো যে আল্লাহর কাছে মানত করার কথা মনেও এলো না।
----------------------


##মৃত্যুর এসরাজ## টুটুল ওয়াহিদ


কবিতা: মৃত্যুর_এসরাজ

টুটুল ওয়াহিদ



আমি তোমাকেই মেনে নিয়েছিলাম যদিও সময়ের কাছে কখনো নিমেষেই মুছে যায় আত্মার নিগূঢ় সম্পর্ক তাই আজ আর আমি কিছু চাইতে আসিনি  ---

ভোগের উন্মাদনায় যখন মৃত্যুর বিন্যাস তখনো সময় চলে সময়ের নিয়মেই অনন্তের পথে --
তবুও আমি তোমাকেই মেনে নিয়েছিলাম !
কিন্তু বার বার স্বপ্নভঙ্গের বাস্তবতা আর আমার নিদ্রাহীন অপলক দৃষ্টি আজ ঐ প্রাসাদ চূড়ায় --
যেথা ভোগের শতরঞ্জি খেলায় স্বপ্নের মাতম বোড়ের অট্টহাসির লেলিহান লালায়।


আমি তোমাকেই মেনে নিয়েছিলাম --
অথচ আজও হালাকু চেঙ্গিসের সিনা টানে আমার দামের চৌকাঠে পড়ে বিষাক্ত নিঃশ্বাস !
তেমনি জাগতিক হিংসা - ভয়াল প্রবঞ্চনা
আর লালসা কাতর রঙিন চোখ
যা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক তা আজ আত্মকেন্দ্রিকতায় কেন্দ্রীভূত হয়ে আরো যেন প্রকট !
আমার সামনে - পিছে - ডানে - বাঁয়ে
শুধু হাত আর হাত --
তাই ক্ষুধার এক অস্পষ্ট প্রতিচ্ছায়া দেখতে পাই আমাকে ঘিরেই অদূরে ,
যদিও এখনো সলতে পোড়া গন্ধে বেড়ে চলেছে গুমোট --
হয়তো আর ক্ষণিক বাদেই বেজে উঠবে মৃত্যুর এসরাজ ! অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মত চারিদিকে --
শুধু একটিই আওয়াজ শঙ্খনিনাদে
ভাত না দিস ফেনটুকুই দে।


আমি তোমাকেই মেনে নিয়েছিলাম --
কিন্তু অবাক বিস্ময়ে যখন দেখি আমার ক্ষুধার উদরেই পোষ্টমর্টেম চলে বারংবার অথচ তাতেও প্রতিধ্বনিত হয় তোমার অমল স্তুতি ছেয়ে যাওয়া পোস্টারে ফেস্টুনে !
হয়তো এমনি করে একদিন তোমার ভাস্কর্যও শোভা পাবে আমার ভস্মীভূত এ নাভিমূলে --
অথচ কি সামন্যই না আমার চাওয়া
স্রেফ একটি ছায়া বৃক্ষ --
যদিও আমার হাতে আজন্ম ভিক্ষার পাত্রই ছিল --
বলতে পারো শূন্যতার অহংকারে এ আমার স্বাধীনতার খোঁজে ফিরা ,
শুধু জেনে রাখো এ এক নতুন সময় নতুন করে জন্ম নিবার --
আক্রোশের দাঁতগুলো যেন সাম্যের গান গেয়ে চলেছ শেষ আশ্রয়ে --
বানের জলের মত ধেয়ে আসা সেই কলকল ধ্বনি তুমি শুনতে পাও বা নাইবা শোনো  --
আসছে বিস্ফোরণ যে আমার রক্তচোষা প্রাসাদ গুড়িয়ে দিবার।


তাই এবার না হয় আমার কবরের মাটিতেই পুঁতে যাবো--
শতবর্ষী নয় এক চিরঞ্জিব বৃক্ষের
চারা।


## ডর লাগে না খিদা লাগে খাতি দে## সুপ্রীতি বর্মন


Classified news segment:

("ডর লাগে না খিদা লাগে খাতি দে"),,,,,

প্রচ্ছদের চিত্র সংগৃহীত মনোজ হালদারের টাইমলাইন থেকে,,,,,


Editorial Note:

Picture Illustration,,,,,

সুপ্রীতি বর্মন,,,,



কঙ্কণে-সিঁদুরে ধন্যা শঙ্করী কাঁধবদল করে সমগ্র সংসারের দিন আনা দিন খাওয়া দিনমজুরের কাজে কপালখাকি খিলানে যখন ছোবলভরা চঞ্চল ভবিষ্যত এর আখের গোছাতে ব্যস্ত সেই সময় শিবের গাজনে শাপগ্রস্ত তালা ঝোলায় লকডাউন,,,,

হাহাকার ক্ষুধার অভিশাপে পৃথিবী যখন গদ্যময় তখন শীর্ণ ঠোঁটে ক্ষিধের চাবুক পঞ্চকন্যার মায়ের পিঠে মারতে থাকে অশ্বক্ষুরের মতন,,,,,
কালশিটে দাগ মাতৃত্বের আঁচল ফুঁড়ে ফুঁসে উঠে ঐ কুটিল হাঙর শরাবী স্বামীর সাথে প্রত্যহ ঝগড়া উঠতে বসতে খরার উপোষে জীবন তখন পোড়াধরা তাল তাল মাটি হয়ে যায় একটু এই আঁকড়া জ্বরের প্রকোপ থেকে বাঁচতে জল চায়,,,,,


যে সোহাগের বীর্যরস শুষে একদিন সন্তানকণিকার জন্ম হয়েছিল রাতের জঠরে যখন প্রখর ক্ষিধে চাগাড় দিয়ে উঠে তখন মহেশ্বরের জটাজুট কেশবল্কলকুঞ্জে আশ্রিতা গঙ্গার কোলে আকন্ঠ-রোষে সমর্পণ করাই শ্রেয় বলে ভাবে এক মাটি হারানো হাভাতে মা,,,,

তাই জঘন্য কুরুচিকর সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হয়নি সেই কোমর ভাঙা মা,,,,,
ছুঁড়ে ফেলে একের পর এক সেই পঞ্চকন্যা কে গঙ্গার বুকে যাতে চিরতরে অন্তর্জলি যাত্রায় জন্মের মতন ঘুচে যায় খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা ধিকিধিকি কাঙাল শরীরের জিয়ন কাঠির সহ্যশক্তি,,,,,


চ্যালাকাঠের কোন প্রয়োজন নেই পঞ্চভূতে আপনা আপনিই হয়ে যাবে গ্রহণ তার কন্যারা,,,,
এইসব সাত পাঁচ ভেবে যখন এক কপালখাকি মাগি চিলচিৎকার ছাড়া আঙুলের ক্ষিপ্র চালে পাঞ্চজন্য বাজিয়ে তোলে নৈঃশব্দ্যের যাপনে শুধুমাত্র একটু শান্তির ঝংকারের ঋণে তখন কেমন করে সেই দৃশ্য চোখে পড়ে যায় গঙ্গার পারে থাকা বিন্দুবিসর্গ না জানা জেলের দলের যারা ক্ষিধের তাগিদে মাছ ধরতে ফেলেছিল জাল যেন তারা ঐ এক‌ই সহমরণের যাত্রী ঐ কপালখাকির সাথে,,,,,,


রাত্রির জঠরে যখন শীতকটিবন্ধে জাঁকিয়ে বসেছে এক মা অসহায় হয়ে এক প্রখর পরাধীনতার শৃঙ্খলে,,,,,
তখন আপন সন্তানদের ধিক্কার ও ঘৃণায় অশ্রুর রজ্জুতে বাঁধা মৃত্যুঝাঁপে ছুঁড়ে মারবে বলে স্বৈরাচারে কেমন করে যেন তার সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে চেপে বসে এক ছিন্নমস্তা মাথা ছাড়া,,,,,
বোধবুদ্ধি কিংবা হিতাহিতজ্ঞান শূন্য,,,,
যার রূপরঙে তখন ঝলসে উঠে এক ক্ষাপাটে ডাইনি যে নিজের ছেলেকে নিজে খেয়ে খলবলিয়ে হেসে উঠে শীঘ্রপতনের অট্টহাস্যে,,,,,
জেলেরা তখন সেই কান্ড কারখানা দেখে ভয়ে শুকিয়ে কাঠ জাল ফেলে পালায় সেই চর থেকে,,,,
ঐ যে কথায় আছে না আপনি বাঁচলে বাপের নাম,,,,,
তাদের অবস্থা ঠিক তখন ঐরকম অনেকটা হয়ে গেছিল যে কী দেখছে কেন বা কী দেখলো কিছুই তাদের মন ও মাথায় ঢোকে না কী বিভীষিকা কান্ড যা ভুলে থাকা যায় না,,,,,


কিন্তু কপালখাকি মা তার ঘরের খিলানগুলো হারিয়ে আর কোন ভরসায় ফিরে যাবে সে নিজের ঘরের চালে কারণ সে এখন সর্বগ্রাসী ক্ষুধার বৈশ্বানরে নিজেকে নিংড়িয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ রূপে কাঙাল হয়ে গেছে,,,,
নতুন করে ফিরে পাবার বা হারিয়ে যাবার কোন ভয় আর নেই তার তাই ঘরে ফেরার কোন তাগিদ তার মধ্যে চাগাড় দিয়ে ওঠে না,,,,


অতন্দ্র প্রহরীরা তখন দৌড়ে আসে সেই জায়গায় আর খানাতল্লাশি চালাতে থাকে কারণ অন্বেষণের জন্য তারা যেন মরিয়া হয়ে উঠে,,,,,
কিন্তু এক পাগল মা তখন মানসিক দ্বন্দ্বে অবসাদে সম্পূর্ণ রূপে অজ্ঞাতবাসী হয়ে গেছে,,,,,
সে তখন অমনোনীত হয়ে গেছে সাংসারিক চাহিদার শোকের থেকে সম্পূর্ণ কাছছাড়া,,,, নিজের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব খুইয়ে এক শনিশ্চরী যার আর নতুন করে কোন আতঙ্ক রেখে তার বৃশ্চিক দংশনের দীর্ঘশ্বাসে প্রতিনিয়ত নিজেকে মেরে নতুন করে জেগে উঠার কোন প্রয়োজন নেই,,,,,,


প্রাসঙ্গিক একটি কবিতার ছেঁড়া চালচিত্র তুলে ধরা হলো,,,,,,,

ভাত দে হারামজাদা

- রফিক আজাদ


ভীষণ ক্ষুধার্ত আছিঃ উদরে, শরীরবৃত্ত ব্যেপে
অনুভূত হতে থাকে- প্রতিপলে- সর্বগ্রাসী ক্ষুধা
অনাবৃষ্টি- যেমন চৈত্রের শস্যক্ষেত্রে- জ্বেলে দ্যায়
প্রভূত দাহন- তেমনি ক্ষুধার জ্বালা, জ্বলে দেহ
দু’বেলা দু’মুঠো পেলে মোটে নেই অন্য কোন দাবী
অনেকে অনেক কিছু চেয়ে নিচ্ছে, সকলেই চায়ঃ
বাড়ি, গাড়ি, টাকা কড়ি- কারো বা খ্যাতির লোভ আছে
আমার সামান্য দাবী পুড়ে যাচ্ছে পেটের প্রান্তর-
ভাত চাই- এই চাওয়া সরাসরি- ঠান্ডা বা গরম
সরু বা দারুণ মোটা রেশনের লাল চাল হ’লে
কোনো ক্ষতি নেই- মাটির শানকি ভর্তি ভাত চাইঃ
দু’বেলা দু’মুঠো পেলে ছেড়ে দেবো অন্য-সব দাবী;
অযৌক্তিক লোভ নেই, এমনকি নেই যৌন ক্ষুধা
চাইনিতোঃ নাভি নিম্নে পরা শাড়ি, শাড়ির মালিক;
যে চায় সে নিয়ে যাক- যাকে ইচ্ছা তাকে দিয়ে দাও
জেনে রাখোঃ আমার ওসবের কোন প্রয়োজন নেই।

যদি না মেটাতে পারো আমার সামান্য এই দাবী
তোমার সমস্ত রাজ্যে দক্ষযজ্ঞ কাণ্ড ঘ’টে যাবে
ক্ষুধার্তের কাছে নেই ইষ্টানিষ্ট, আইন কানুন-
সম্মুখে যা কিছু পাবো খেয়ে যাবো অবলীলাক্রমেঃ
থাকবে না কিছু বাকি- চলে যাবে হা ভাতের গ্রাসে।
যদি বা দৈবাৎ সম্মুখে তোমাকে ধরো পেয়ে যাই-
রাক্ষুসে ক্ষুধার কাছে উপাদেয় উপাচার হবে।
সর্বপরিবেশগ্রাসী হ’লে সামান্য ভাতের ক্ষুধা
ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসে নিমন্ত্রণ করে।

দৃশ্য থেকে দ্রষ্টা অব্দি ধারাবাহিকতা খেয়ে ফেলে
অবশেষে যথাক্রমে খাবো : গাছপালা, নদী-নালা
গ্রাম-গঞ্জ, ফুটপাত, নর্দমার জলের প্রপাত
চলাচলকারী পথচারী, নিতম্ব প্রধান নারী
উড্ডীন পতাকাসহ খাদ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর গাড়ী
আমার ক্ষুধার কাছে কিছুই ফেলনা নয় আজ
ভাত দে হারামজাদা,
তা না হলে মানচিত্র খাবো।


বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০

শাহরিয়ার সোহেল চৌধুরী # কবিতাগুচ্ছ #


১..# শব্দজাত #
----------------

শাহরিয়ার সোহেল চৌধুরী


ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ




পয়গম্বররা বহু আগেই পৌরাণিক শুদ্ধ গ্রন্থে আশ্রয় নিয়ে নিয়েছেন। এই সুযোগে ভুল-ভুলাইয়া অন্ধ অনুগতরা মসজিদ-মন্দির-গির্জা-প্যাগোডাকে রক্তের রঙ্গে সাজাচ্ছে প্রতিদিন।
আর কোনও বলশেভিক মু্ভমেন্ট হবে না। মিলিয়ন মার্চ হবে না মার্টিন লুথার কিংয়ের পায়ে পায়ে। বব মার্লি গাইবে না আর ঝাঁঝালো র্য্যাগে। কোনও এক চে গুয়েভারার চুরুটের অগ্রভাগে জ্বলবে না বিপ্লব।
ভাঙ্গবে না বার্লিন প্রাচীর। প্রতিবাদ-প্রতিরোধে জেগে উঠবে না তিয়েনমান ও তাহিরি স্কয়ার কিংবা অপরাজিত বাংলা মিছিলে মিছিলে।
উন্মাদ,ভাঁড় আর রক্তলিপ্সু দু পেয়ে দানবেরা ক্রমাগত দখল করে নিচ্ছে মানুষের অস্তিত্বকে। গিলে নিচ্ছে মানুষের বাক, শেখাচ্ছে মৌনতা।  গিলে নিচ্ছে বন-বাদাড়, নদী-জল, মৃত্তিকা এমনকি মেঘ ও আকাশ!
আর ওই যে আমরা আম বলি না যাদের সেইসব মানুষ আরোও ক্রমেই কেঁচো হবে, প্যারাসাইট হবে মানুষ। মেরুদন্ড লোপ পাবে বিবর্তনবাদে।
আমরা ভাববাদীরা ভেবে নেবো আমাদের অপারগতায় প্রকৃতি প্রতিশোধ নিচ্ছে করোনা ভাইরাসে। তাই যদি হয় তবে তাই হোক অবলীলায়!...

তারপর কোনও এক আগামীতে শিশুরা সহপাঠ বইয়ে একটা ননসেন্স রাইম পড়বে-
''সৈনিকের হুলে ছিল ঘুম পাড়ানিয়া
অদৃষ্ট কিনেছিল রাজা উৎপাতে,
বিপ্লব গল্পটা শুনেছি ভুলের মাশুল
বিক্রি হয়েছে কোন এক কালোরাতে!''
(দহন)
---------------------------------------------------------------



২..# শব্দজাত #

----------------

শাহরিয়ার সোহেল চৌধুরী



ইদানিং আমি প্রায়শ্চিত্তের ঢেকুর তুলছি-

ফিরে আসা দোয়েল-শালিকের বিচ্যুত পালকে,

ঈষৎ নীলের আঁচড় বেড়ে যাওয়া আকাশের দিকে চেয়ে।

ঘরের কোণে মাকড়সার জাল ঝেড়ে-মুছে

জানান দিচ্ছি আমার ভৌত গাহর্স্থ্য,

বারবার বার্নিশ করছি ধোয়া হাত

শিশুসুলভ প্রিয় স্কেচে রাবার ঘষার ভুল মুসাবিদায়।

ইদানিং আমি জোরপূর্বক আস্তিকতার সঙ্কট জানান নিচ্ছি-

ফেলে রাখা জায়নামাজের পরিপাটি বেশভূষায়,

ধুলোর আস্তরণ মুছে মধ্যযুগের পবিত্র গ্রন্থের অবুঝ আবৃত্তিতে!

হিমবাহ গলা পৌরাণিক অভিশাপের বাষ্পীয় আদলে,

লাল-নীল নির্বাসনে কিংবা অমল-ধবল স্বেচ্ছা কারগারে;

জানি ইদানিং আপনিও ভালো নেই মোটেও।

ভেকধারী হয়েছেন আমার মতোই!

বেঁচে থাকার শর্ত ও সময়সীমা পেরোলেই-

ফের মুখোশ পুড়াবেন কড়াত কাটা গাছের আঁচে,

পবিত্র হবেন সাগর জলে পেট্রল ছিটিয়ে!

--------------------------------------------------------------


৩..# শব্দজাত #
---------------
শাহরিয়ার সোহেল চৌধুরী


⏩⏩

বিলুপ্ত পেঁচারা হঠাৎ ভুতুড়ে ডাক দেয়।
ইট-পাথরের আড়ালে পালায় বিস্মৃত শহুরে শেয়ালের দল। ল্যাম্পপোষ্টের ছায়ায় প্রচ্ছায়ারা দল পাকায়!
তারপর...
বৃহন্নলা পোকা গুনগুনিয়ে শুধায় -
'ভালোবাসা কিনবি কী না বল?'
পতিতার কন্ঠে নেই শীৎকার,
নেই কোনও পিচ্ছিল মনোবল।
(দহন)


⏩⏩

আমি পোড়ার গন্ধ পাই।
হৃদয়ে আউরানো কবিতা পোড়ার ঘ্রাণ।
সে কি এসব টের পায়?
যে গোলাপজলে মিশিয়ে বিকোয়
আমার কবিতা, প্রেয়সীর অপারগতা,
অগুণতি মানুষের মুখ
কিংবা মানচিত্রের অকপটতা।
ছাইভস্মের সুবাসে তোমাকে তাড়াবো হে গন্ধবণিক!
(দ্রোহ)


।।শাহরিয়ার সোহেল চৌধুরী #শর্টকাট#..."সংক্রমণ"।।


#শর্টকাট#
--------------
📌 সংক্রমণ 📌
------------------------


শাহরিয়ার সোহেল চৌধুরী



তসলিম হাঁপাচ্ছে।
মেয়েটার উত্তাল নগ্ন বুক জোড়ার উপর মাথা রেখে এখন জিরিয়ে নিচ্ছে সে।
তার সারা শরীর ঘর্মাক্ত। রমণক্লান্তিতে আর অবর্ণনীয় শরীরি আনন্দের রেশে তার চোখ দুটো বুজে এসেছে।
রাস্তার এক বারবনিতা এত শারীরিক সৌন্দর্যের অধিকারী হতে পারে আর এতটা সুখ দিতে পারে সেটা তার কল্পনাতেও ছিল না। আর মেয়েটা সাড়াও দিয়েছে দুরন্ত উন্মাদনায়। ঘরের বউও এতটা সক্রিয় হয় না!
তসলিম পেশায় ট্রাক চালক। এই জীবনে ভালো-মন্দ, বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে কম মেয়ে মানুষের শরীর তো আর চাখা হয়নি তার। কিন্তু আজকের এই মেয়েটার মতো সে খুব কমই পেয়েছে।
মেয়েটার সাথে তার দেখা আজ রাকে মনতলা ব্রীজের পূর্ব পার্শ্বে। ট্রাক থামিয়ে প্রাকৃতিক কাজ সারতে দাঁড়িয়েই মেয়েটাকে দেখে সে। সস্তা মেকআপের উগ্র সাজ সজ্জাতেই যা বুঝার বুঝে নেয় সে।
রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের ফ্যাকাশে আলোতে অদ্ভুত সুন্দর লাগছিলো মেয়েটাকে। সস্তা লাল শাড়িতে ঢাকা যাচ্ছিল না প্রকটভাবে ফুটে উঠা মেয়েটার শরীরের উন্মাতাল চড়াই-উতরাই। একটা পতিতার দেহ গঠন সিনেমার নায়িকাদের মতো এতটা নিখুঁত হতে পারে তসলিম না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারতো না।
সবচেয়ে অদ্ভুত ছিল মেয়েটার গায়ের রং। কেমন যেন লালচে ভাব। আগুনের আঁচে পোড়া লাল মাংসের মতো! লাল শাড়ী আর লালচে গায়ের রং এ রাতের আলো-আঁধারিতে যেন এই মেয়ে তার অপুর্ব মুখশ্রী আর দেহ গঠনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
মেয়েটাকে ইশারা করতেই সে কাছে এসেছিল। টাকা-পয়সা নিয়ে বনিবনা হতে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি। মাল খালি করে ফেরার পথ বলে হেলপার ছেলেটাকে আগেই নামিয়ে দিয়েছিল। মেয়েটাকে তার পাশের সিটে বসিয়ে ট্রাক নিয়ে রওনা হয়েছিল তসলিম। একটু নির্জন রাস্তা পেতেই ড্রাইভিং সিটের উপরেই সঙ্গমে লিপ্ত হয় তসলিম।
এখন তসলিমের রমণক্লান্ত শরীরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে মেয়েটি। চোখ বুজে চূড়ান্ত সুখের আনন্দটা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছে। মেয়েটার শরীর অস্বাভাবিক রকম উত্তপ্ত। ভেতর-বাহির দুটোতেই যেন উনুনের আঁচ। একজন বাজারে মেয়েকে শারীরিক সম্পর্কের গৌণ সময়টায় এতটা উত্তপ্ত করতে পেরেছে ভেবে তসলিমের আত্মতৃপ্তি আরো ও বেড়ে গেল।
তবে মেয়েটার একটি অস্বস্তিকর বিষয়ও রয়েছে। সেটা হলো তার গায়ের ঘ্রাণ। কেমন যেন মাটি পোড়া তীব্র একটা ভাব। কাঁচা ইট পোড়া গন্ধের মতো।
একজন বেশ্যার কাছে যতটুকু পেয়েছে সেটাই তো তসলিমের চিন্তার বাইরে। গায়ের ঘ্রাণের বিষয়টা বিবেচনার কী দরকার? বাড়িতে ফিরে সাবান দিয়ে ডলে ডলে গোসল তো এমনিতেই করতে হবে! মনে মনে ভাবলো তসলিম।
মেয়েটার শরীর থেকে উঠতে উঠতে তসলিম জিজ্ঞেস করলো - 'কিগো লাল সুন্দরী তোমার নামটাই তো জানলাম না। কী নাম তোমার সই?'
আধশোয়া মেয়েটা খিলখিল করে হেসে উঠলো। চাপাস্বরে বললো- 'ফুলি। চামড়ার রংয়ের লাইগ্যা নানী ছোটবেলায় ডাকতো আগুন ফুলি!'


সেদিন ভোর রাত।
নিজের ঘরে ঘুমের মধ্যে ভয়ঙ্কর এক স্বপ্ন দেখলো তসলিম। আগুন ফুলি নামের মেয়েটার সাথে কোন এক নদীর ধারে ঘুরে বেড়াচ্ছে সে। মেয়েটার শরীরের লাল রং এর শাড়ি তে হঠাৎ কোথা থেকে যেন আগুন ধরে গেল। তসলিম তা নেভাতে চেষ্টা করতে গিয়ে তার শরীরেও আগুন ধরে গেছে।
তীব্র যন্ত্রণা আর দুঃস্বপ্নের ভয়াবহতায় ধড়মড়িয়ে জেগে উঠলো তসলিম। ওর সারাটা শরীরে এক ধরনের জ্বালাপোড়া। কোন মতে ঘরের লাইট জ্বালালো সে। নিজের শরীরের দিকে চেয়ে অাতঙ্কে চিৎকার করে উঠলো। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পোড়া পোড়া ফোস্কা উঠা ঘায়ে ছেয়ে গেছে।
তসলিম তখনো জানে না এই দুঃস্বপ্নটা প্রায়ই দেখবে সে। আর ফোস্কা পড়া পোড়া ঘা আরোও বাড়তে থাকবে। যার সংক্রমণ তাকে মৃত্যু অবধি নিয়ে যাবে।


অন্য আরেক রাত। অন্য আরেক শহর।
পুলিশ হাবিলদার মোজাম্মেল প্রচন্ড রমণতৃপ্তি নিয়ে শুয়ে আছে মেয়েটার ভরাট বুক জোড়ার উপর।
পৌর পার্কের পাশের নদীতে একটা নৌকার ভেতর এই নিষিদ্ধ অভিসারে মেয়েটার সাথে মিলিত হয়েছে সে। অসাধারণ দেহ সৌন্দর্যের অধিকারী বাজারে মেয়েটা তাকে দিয়েছে এক অনাবিল শারীরিক তৃপ্তি।
মেয়েটার শরীরটা আসলেই অদ্ভুত। অকল্পনীয় ফর্সা। ফ্যাকাসে বরফ শুভ্র দুধে আলতার মতো গায়ের চামড়ার রং। শরীরটা যেন বার্নিশ করা মোম গলা পিচ্ছিল। এত মসৃণ আর মিহি ত্বক মানুষের হয় ? গোটা শরীরটা যেন বৃষ্টির ফোঁটার জমাট হিমের মতো। তবে গায়ের ঘ্রাণটা কেমন যেন আঁশটে আঁশটে। ফ্রিজে রাখা মাংসের মতো!
মেয়েটার শরীরের সাদা রংয়ের শাড়ির আঁচল দিয়ে নিজের মুখের ঘাম মুছলো মোজাম্মেল। ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলো- 'কী রে সাদা পক্ষী তোর নামটাতো কইলি না?'
মোজাম্মেলের শরীরের নীচে খিলখিল করে হেসে উঠলো মেয়েটা। জড়ানো কন্ঠের মাদকতায় অস্ফুটে বললো - 'নাম ফুলি। ছোটবেলায় শইল্যের রংয়ের লাইগ্যা নানী ডাকতো বরফ ফুলি!'
----------------------------------------------------------

বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০

লক্ষ্মীকান্ত মন্ডল: প্রতীক্ষার অভ্যাস


নেতিবাচক প্রতীক্ষার অভ্যাস

লক্ষ্মীকান্ত মন্ডল



আগুন ধরতে সময় লাগল কয়েক মুহূর্ত । তারপর আর কিচ্ছু দেখা যায় না । শুধু আগুনের দাউ দাউ শিখা । আমরা যারা বারো বোঝা কাঠ মাথায় বয়ে নিয়ে এসেছি তারা অপেক্ষা করছি প্রিয় মানুষটির মৃতদেহটি পুড়ে যাবার ।  তাঁর শরীর টাকে ছাই করে দিতে কত না আয়োজন  ।  বাতাস দিচ্ছে খুব  -গরম বাতাস  - কিছু লোকের চোখের তলায়  জলের চকচকে দাগ ।  তার সাথে টিপটিপ বৃষ্টি । ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে চেতনার লোম ।  মানুষ এমন একটা প্রাণী যে আগুন জ্বালানোর ভেতর দিয়ে সভ্যতার সূচনা করেছে । আগুনের ওপর তার দখলদারি তে সে আত্মশ্লাঘা বোধ করে । কিন্তু পারে কই ?


ভোলা বলল - এত তাড়াতাড়ি পুড়ে যাচ্ছে কেন ? একজন ঈশ্বর যদি থাকতো  - তাকে খুব ভালোবাসতাম ।
শ্মশানযাত্রী আমরা । এসময় আমাদের ক্ষুধা নেই ,  তৃষ্ণা নেই , ভালোবাসাও নেই ।  শুধু জিজ্ঞাসা কাজ করছে  ।  কেন আমরা মরে যাই ,  কেন আমরা বেঁচে থাকি আর কেনই বা জন্মাই এ ভুবনে ?
উত্তর দেওয়ার দায় নেই আগুনের ।  দুমড়ে মুচড়ে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা শিরদাঁড়াকে সে শুধুই পোড়ায় । ছাই করে দেয় ।


ভাবনাটাকে দীর্ঘ করার জন্য  ' ভুবন ' শব্দের বানান ' ভূবণ ' লিখে তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ ।  চোখে দেখি, কানে দেখি, ত্বকে দেখি, নাকেও দেখি । সব মিলিয়ে মিশিয়ে ঠাকুর্দার চোখ । কিন্তু ভেতরে এক অব্যক্ত বোধ জন্মায় । তা মোটেই চিত্রকল্প নয় । অথচ একটি প্রেমের কবিতা লিখতে চেয়েছি আজীবন ।  হচ্ছে না হচ্ছে না কিছুতেই  -


হে বিশ্বরূপ , আমি আপনাকে বহু বাহু,  বহু উদর , বহু মুখ ও অনেক নয়ন বিশিষ্ট দেখিতেছি বটে,  কিন্তু আপনার অন্ত মধ্য অথবা আদি কিছুই দেখিতে পাইতেছি না ।


এর পরেই  নিসর্গ শব্দটা আসে । ঝিঁঝিঁডাক বাড়তে থাকে ।  তখন শুধু নীল কিংবা সবুজ মেটাফোর  - সবুজ রঙের গাছ - ধূসর রঙের আলো , নীল আকাশ ঈষৎ ঝুঁকে ছুঁয়ে থাকে নীল জল । শেয়াল দরজার জুতো নিয়ে  পালায় , শকুনেরা ভেজা গামছায় ঠোঁট মুছে , গাছের ডালে কুচকুচে কালো কাকের ডাক তো আছেই  - কিন্তু জল কাদায় ভুলে যাই গ্রিন হাউস ইফেক্ট ।

বিমলদা গুম হয়ে বসে থাকে ।  হঠাৎ চোখ মেলে বলে - আচ্ছা রাজলক্ষ্মীর সাথে ইন্দ্রনাথের আলাপ নেই কেন ?


কিছুদিন পাউরুটি প্রিয় পিঁপড়েরা মুড়ির গন্ধ পাচ্ছিল না । তারা সাপ খেতে শুরু করেছিল। সাথে আরশোলা ব্যাঙ প্রভৃতি । ফলস্বরূপ  বেড়েছে সাইক্রিয়াটিস্ট । সে কারণেই  কিছুই মনে করতে পারছে না । না নদীর নাম, না ফুলের রং । কেবল এক বিবর্ণ ছত্রাকে ঢেকে যাচ্ছে শরীর।  বুকে সবুজ রঙের ট্যাটু । আহা কী ব্যঞ্জনা !  মানুষ নির্মিত সৌন্দর্যই তাঁর আরাধ্য বিষয় , প্রকৃতি নয়। প্রিয়ার সুন্দর মুখের ভেতর কুৎসিত কঙ্কালের উপস্থিতিও তিনি দেখে নিচ্ছেন। বুদ্ধির কোমল কেন্দ্রে তিনি মাখছেন মেধার লোশন । নক্ষত্ররা হাসছেন মিটমিট ।

রাস্তায় চলাচল বাড়ছে । উপেক্ষা করছি পড়ার ঘর । ধ্যানস্থ বুদ্ধকে সর্বভুক উইপোকা কুরে খায় । বেরিয়ে পড়ে ফাটলের জ্যামিতিক চিত্র ।  হাঁফ ধরে বাতাসের । এটাই সুনিশ্চিত।

জ্বর আসে । জ্বর বলি না আর  - বলি গায়ের তাপ । সহ্য করছি পার্থেনিয়ামের সংক্রমণ ।  ঘনঘোর অন্ধকার সহ্য করতে শিখে যাচ্ছি ।  শিখে যাচ্ছি হাড়ের ক্ষয়  - পক্ষাঘাত ।

কবি নিতাই মাইতির কবিতা পড়ছি  - ' কেউ কাউকে বুঝে উঠতে পারিনি  / রাস্তার দুপাশে দু' জন / শতাব্দী সেরা বট ও অশ্বত্থ  '।



অঞ্জন ঘোষ রায়: মৃত্যুর প্রহর


Editorial Note,,,

সুপ্রীতি বর্মন,,,,,


Picture illustration,,,,

অঞ্জন ঘোষ রায়,,,,,

((Selected from Chandramukhi Facebook Group))



শৈল্পিক মুহূর্ত খুব বেশী অমূল্য পোড়ামাটি হিরন্ময় জ্যোৎস্না
শিল্পী নতমুখে জড়িয়ে আঁকড়ে ধরতে চায় মৃত্যু ভাস্কর্যলতা


"Indesensible desire to be phenomenal
Supreme reach beyond infinity
But an ordinary man somehow completely becomes a neglegible quantity,,,,
so small in front of death that the Supreme power wants to make u slave to dominate"


শিল্পী শুনতে পায় পুনশ্চঃ পুনর্জন্ম কর্মকীর্তির সর্বনাশা আত্মরতির ক্ষয়
কাকের ক্ষুধায় উজার করা মাংস কিংবা হাড় তখন সন্ত্রাসী কঠোর চিবুকের আড়াল করা মুখোশ সংক্রামিত হবার ভয়
বৈদুর্যমণি তে শঙ্খচূড় মৃত্যু শুভ্র কাফন নিয়ে জড়িয়ে থাকে ফণা তুলে আষ্টেপৃষ্ঠে
বোধের মগডালে তখন শুধু ঊষর মরুতে চাগাড় দিয়ে ওঠে
তোমার আত্মামণিবন্ধের ঘোলাটে চাঁদ
ললাটে প্রোথিত ছড়ানো সোহাগ আত্মজনের ক্রন্দন
গোবরজলে অন্তিম চৌকাঠে প্রক্ষালন
অবগাহনে তখন আত্মস্থ ক্ষুধা চীৎকার করে
কেমন যেন এক গোঙানি কাছছাড়া নিঃসঙ্গ শূন্যতায়
বলাকা তখন সরু ঠ্যাঙে অতীতের খাদ তৈরী করে মহাপ্রয়াণের প্রস্থানে
বলে উঠে শঙ্খচিল শিল্পী তোর সাথে শুধুই দোসর তোর ঘটানো শিল্পরমণসঙ্গতি
বাকি সব থেকে যাবে অবশেষ বারবেলা সত্যের অহর্নিশি খোঁজ তোর পদাঙ্ক করবে অনুসরণ
অথচ কায়াকল্প তখন অতীতের দেহদাহশিলা
তাই শুনতে যত‌ই পাস মৃত্যুর প্রহর
দেখতে থাকিস নত মুখে অবহেলায় মরণ
তবুও মৃত্যুর প্রহরে তোর তো নৈঃশব্দ্যের সলতে পাকানো অমরত্বের শিখা সঙ্গেই আছে
তুই তো জ্বলতেই থাকবি চির জাজ্বল্যমান ক্ষুধার্ত রবি,,,,,
ক্ষণ ক্ষণ হবে তোর কারণ সুধায় পুনর্জন্ম,,,,



বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০

শিহরণ: রোনক ব্যানার্জি


////শিহরণ////
 ————————

((অজ্ঞাতবাসে অদৃষ্টের শিহরণে অপরাহ্ন এ খান্ডবদহনের ব্যর্থ চিৎকারে গৃহস্থের শ্রী হরণ করে নিয়ে গেছে মর্গের খোলা দরজায় অপেক্ষা রত মৃত্যু))



রোনক ব্যানার্জী



একটি ঘন বনে অসংখ্য গাছ,মর্মর পাতার ক্যাকোফোনি
দুটো গাছের স্পর্শে আগুনের শিহরণ,
ছায়াহীন একটি দুপুরে নিঃসঙ্গ হেঁটে গেছে সারস।


পাশের ফ্ল্যাটে  ধামসা-মাদল বাজছে,
বিচ্ছিন্ন কাচের টুকরো, গরম মশলার প্যাকেট থেকে বেরিয়ে আসছে বাৎসল্য ও কুমারীত্ব;
একটি কলোকিয়্যাল মৃত্যু,
স্বার্থান্বেষী কাক আগে থেকে মর্গের দরজা খুলে রেখেছে।


শিহরিত জলাশয়, একটি সাঁতারু ও মৎসকন্যার অবৈধ প্রেম
সেফটি ল্যাম্প নিয়ে আমরা 'কুরুক্ষেত্রে' রাত কাটাচ্ছি!
তানপুরায় 'ভীমপলশ্রী' র আরোহণ চলছে,
মনে পড়ছে 'খান্ডবদহনের' ব্যর্থ চিৎকার।


অপরাহ্নে একটিও পাখি উড়ে যায়নি,
শাঁখ বাজেনি তুলসীমঞ্চে,
একটি তাঁবুতে হাসনুহানার পাশে শুয়ে আছি,
এক ভীষণ জেদি সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢুকে গেছে আশাব্যঞ্জক স্থপতি,
আসমানি মুদ্রা অদৃষ্টের শিহরণে উল্টে তালুতে পড়ছে,
বন্ধ কলের মুখ থেকে জলের শেষ ফোঁটার অপেক্ষায় আছে মাটি,
নিজেকে রোমাঞ্চিত আলোড়িত করার তাগিদে 'শ্রী' কে হরণ করে নিয়ে গেছেন শিল্পী ও আগ্নেয় শিলা।

               
          

যেভাবে সন্ধ্যা আসে: রোনক ব্যানার্জি



///যেভাবে সন্ধ্যা আসে///
  —————————————

((অজ্ঞাতবাসের গুমোট সন্ধ্যা শঙ্খযন্ত্রণা গৃহস্থের অস্তগামী একটি দিনের প্রয়াণ,,,,
 আগামীর দিকে জড় পদার্থের যাত্রা))


রোনক ব্যানার্জী



বিষণ্ণ পথ অবসাদের ঘড়ি ভেঙে এসেছো সনাতন,
দুয়ারে দাঁড়িয়ে চিরন্তন কালবেলা, পার্থক্যসূচক সাঁঝবাতি;
স্থবির দীর্ঘ সূর্যাস্ত বাইনোকুলারের কাঁচের মতো দৃশ্যমান,স্ফটিক জলে
চিঁড় ধরা কাঁচের মতো নীলিমায় ক্ষতচিহ্ন,বিদ্যুৎলেখার দাপট,অভব্য অভিব্যক্তি।


ছাপোষা আঁধার নামে গেরস্থের বুকে,দিকবিদিক সমুদ্রগর্জন,
একরোখা পায়চারি,বিশ্বস্ত গুমর ভাঙে ছিনির শব্দে;
কারা যেন ফিরে ফিরে যায় নিরাপদ দূরত্বে, অস্পৃশ্য ছাঁচ
পিছনে ফিরে তাকালেই উধাও,ভূত প্রেত নাকি জাদুকর।


কার্নিশে কার্নিশে বাড়ি-ঘর দিয়ে উঁকি দেয় নির্মোক ছায়ামূর্তি
বাদামি ঘুম,ইমন বেহাগের টপ্পা ঠুংরি শুনতে অভ্যস্ত
নারকেল গাছের মাথার ওপর নোলকের মতো ধ্রুবতারা
দূরে অরণ্যে প্রলাপ বকে যায়, তারকাখচিত সোহাগি উঠোন।


সন্ধ্যারতি হয়, শাঁখ বাজে তুলসীতলায়, কিছুটা আনন্দের সময়
কূপমন্ডূকতা ছেড়ে জেগে ওঠে নিশাচর,মায়া প্রপঞ্চময়
তালগাছ সুপুরিগাছের শলা পরামর্শ,ছাদে স্বর্গবাতি,
পূর্বপুরুষের ঘ্রাণ নেমে আসে শরীরের ভাঁজে, ঝুমঝুমি বাজে।


খেলনার দোষ নেই, সময়ের দোষ, ভ্রূক্ষেপ নেই,
উত্থান থালা, যেভাবে সন্ধ্যা আসে, নাবিকের মতো,
সুবাসের মতো,ভেসে ভেসে,কন্যার মতো,চৌকাঠ ললাটে।