সোমবার, ১১ মার্চ, ২০১৯

অভিজিৎ দত্ত

অগ্নিবীণার_সন্ধানে।।(another Valentine)

 অভিজিৎ_দত্ত।।


আকাশ হতে খসে পরা তারাগুলি
ফের ঘোড়দৌড় লাগিয়ে দিয়েছে আকাশপানে,
কিছু জ্বলন্ত উল্কার খোঁজে ।

দোজখের পাটাতনে বসে
আমি তখন খোয়াব দেখে যাচ্ছি মধুচন্দ্রিমার।

এবং জ্যোৎস্নামাখা অঙ্কুরোদ্গম বীজের দল
চেষ্টা চালাচ্ছে, রোদ ঘেঁটে চুষে নেওয়া
গর্ভিণী ধানের জঠরে মুখ লুকোনোর প্রচেষ্টায় ।

সিলিন্ডারে বিষবাষ্প ভরে ছড়িয়ে দিলাম
প্রেমের জঠর গহ্বরে
আর তাই দেখে বুক ফুলিয়ে
জলের মাঝে হেঁটে চলেছে
একজোড়া পানকৌড়ি।

ভালোবাসা উতার যাও।
নাভিদেশ আর তলপেটের অরণ্যে মুখ লুকিয়ে
ভালোবাসা তখন স্পর্শ করেছে ভিসুভিয়াসের বিস্ফোরণ।

এইমাত্র ভারতীয় বিমানবাহিনী
শত্রুব্যূহ ধ্বংসের লক্ষ্যে টমহকদের ছুঁড়ে দিল
রামধনু রঙ দিগন্তরেখা বরাবর।

মোম জ্যোছনায় গলে পড়ছে
আমার ভালোবাসার উত্তাপ
এবং স্ট্রম্বোলির উষ্ণতায় বাষ্পীভূত হয়ে
বায়বীয় আকার ধারণ করল অগ্নিবাণের সন্ধানে।

সর্ব্বাণীন্দ্রিয়কর্মাণি প্রাণকর্মাণি চাপরে।
আত্মসংযমযোগাগ্নৌ জুহ্বতি জ্ঞানদীপিতে

রাজু কর্মকার


জয়োস্তু জওয়ান (another Valentine)

         রাজু কর্মকার

নিয়ন্ত্রণ রেখায় বীর জওয়ানদের,
                              মেলে ধরা সাহসী বুক ।
আর নিশ্চিন্ত নিরপত্তা বেষ্টনী মাঝে,
                         আমাদের পরম সুখ।

রাতের কালো সামিয়ানা -তলে,
                         নরম বিছানায় নাক ডাকে ।
ওদের হাতে হাতিয়ার,ত্যাগের বিনিদ্র রজনী,
                            কাটে নিষ্পলক চোখে।

প্রেয়সীর চোখে অবিশ্রান্ত জলধারা,
                      "কবে তুমি আসবে ফিরে !?"
ও প্রান্তে ধরা গলা সামলিয়ে ,"খুব তাড়াতাড়ি "
                               অস্ফুটে শান্ত্বনার সুরে।

সপরিবারে উৎসবের দিনগুলি ,
                       আমাদের কাছে বর্ণময় ।
পরিবার ছেড়ে বহু দূরে ওরা তখন,
                       যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়।

অতর্কিতে হানা দেয় উগ্রপন্থীর দল,
                           অপ্রস্তুত সীমান্ত রেখায় ।
বেইমানের জল্লাদী গোলা বারুদে,
                           বেঘোরে বহু প্রাণ যায় ।

পিছু হঠেনি তবু অকুতোভয়
                            আমাদের বীর জওয়ান ।
বুক চিতিয়ে মাতৃভূমি আগলেছে,
                         বিনিময়ে অসংখ্য প্রাণ ।

কথা রাখেনি ঘরের ছেলে ,
                        "তাড়াতাড়ি ফিরবো বাড়ি ।"
পাড়াময় বাকরুদ্ধ,ফিরলো 'দেহ',
                            তেরঙ্গায় মোড়া গাড়ি !

সেইসব প্রকৃত বীরদের তরে এসো,
                              দুফোঁটা চোখের জল ফেলি ।
হৃদ্ মাঝারে চির ঠাঁই দিয়ে ,
                            মুখে "জয়োস্ত  জওয়ান" বলি ।

উজান উপাধ্যায়


ফুৎকার (another Valentine)
উজান উপাধ্যায়

যুদ্ধ থামার পরে
যুদ্ধ থামেনা।
রক্তের সরোবর থাকে...
শিশুর জন্য থাকে
পরমাণু বিষ--

চারদিক নিঃঝুম
তবু
ঘুমের ভিতরে
সন্দেহ জেগে থাকে।
মেয়েদের লাশ, গাছেদের দীর্ঘশ্বাস-
ছেলেদের নাভিকুম্ভে নিহত ফাগুন লেগে থাকে-

যুদ্ধবিরতি আসলে সিন্থেসিস লালাভর্তি চাঁদে

গুপ্ত সন্ত্রাস নাটকীয় মৈত্রীর ফাঁদে।

সংকট নিভিয়ে দেওয়ার মত
কোন " ফুঃ "কে
সমর্পিত অস্ত্রের গোলাপি পাপড়ি আর
পায়রাডানায় লেখা লোভী উজ্জ্বলতা
রণডঙ্কা গর্ভগৃহে  ধারণ করে না ।

সোনালী মন্ডল আইচ


মাঘ শেষের আয়না
সোনালী মন্ডল আইচ


তোমার অন্য মানে ছিল
শীত শেষের অন্যরকম ছায়া
মাঝরাতের খ ভেজা চাঁদনী

মায়াময় অন্ধকার প্রথম পুরুষ
কমলা রঙের কৃষ্ণচূড়ার বালখিল্য
পশমি পোশাকের বিদায় ক্ষণ

আমার আধেকলীন মৃত চামড়া
খোলস ছেড়ে সর্পিল দেহ
হিসহিস শব্দে বুকে হাঁটে

তোমার গা ঘিনঘিনে ঘেন্না
তোমার নীল বিষের ভয়
অতএব পিছিয়ে যায় মুহূর্তরা  ...



সঞ্জীবনীর খোঁজ
সোনালী মন্ডল আইচ


যখন ছেলেটির একনিষ্ঠতার শৃঙ্খলায় একটা বাহ্যিক ভাব জীবনযাত্রায় এলো
তখন বেনেবউ মনে বুকচেরা স্নেহ উথলে ওঠে----
সে বৃষ্টি নামলে পালক ভেজায়, নোলক দোলায়, কাছে ডাকলে হরিণীর মতো ছুটে আসে।

কিছুদিন পর ছেলেটি বায়না করে মেয়েটি যেন বিড়াল পায়ে হাঁটে, মিউমিউ ডাকে ------

 আরও অভিব্যক্তি বা সাংকেতিক চিহ্নে সে চায় এমন ছাইভস্ম লিখে একগাদা বন্ধুত্ব করে বা কর্মরত হয়ে লোকের প্রশংসা কুড়ানোটা তার পক্ষে যারপরনাই চক্ষুলজ্জার ,কেননা সে একজন পদস্থ ।

এসব তার একমাত্র বিশেষ শত্রু হয়ে ওঠে ,  অতএব ব্যক্তিজীবনের যা কিছু অনাব-সনাব সম্পূর্ণ কেটেছেটে বাদ দেবার পর মেয়েটির  হাতে রইলো ---
লোহার শিক দেওয়া প্রকান্ড পর্দাতোলা জানলা,মেঝের ঝকঝকে প্রসার ,তাজা ফুল, পারফিউম শাড়ি গয়না --- অথচ বেনবউ-এর কাছে এসব অতি নিকৃষ্ট, সে আতিপাতি খুঁজে চলে মৃত দিনকে বাঁচিয়ে তোলার অনুঘটক...




তিথি-নক্ষত্র যখন
সোনালী মন্ডল আইচ


কমলালেবুর কোয়া মরশুমি স্বাদে
লক্ষ্মীছাড়া সাহসী ঠোঁট

লোকমুখে নিন্দা বা প্রশংসা
কিচ্ছু তোয়াক্কা না করে

কাটা হিরের দ্যুতির ছটায়
জেদি লিপস্টিক মুছে যায়...




একটি সাক্ষাৎকার

আসলে নয় অশঙ্কিনী
নরম গ্রীবা নিয়ে
হরিণীর মতো ছোটা
ধুলো মাটির কাছে
কোথাও তৃণ নেই
অথচ ক্ষিধে দিলে

তোমার ক্ষিধে আমি
লাগাতার হিংস্র তাড়া
আমার শুকনো বুক
জলাধারে ওঁৎ পাতা
থাবায় থেঁতলে যায়
তোমার গ্রাসে রক্তমাংস

স্বপ্নের দেয়ালা নয়
ঘটনাটা হত্যা দৃশ্য
অথচ প্রমান নেই
চারশো বিশ স্কোয়ারফিটে
কেবল দেয়াল চৌকাঠ
পাল্লা বন্ধ কোলাপসিবল
জানালায় লোহার শিক

কাঁধে হাতের স্পর্শ
চমকে দেখি ছায়া
ক্লান্ত চোখে দাঁড়িয়ে
এই তো জীবন
দাঁতের চাপে ঠোঁট থেকে
রক্ত গড়িয়ে নামে ...

আরিয়ন প্রিয়স পাল

আরিয়ান প্রিয়স পাল'এর কবিতা

সে মুখে সহস্র বিভীষিকা রক্ত লালে আব্রু জানালার কাঁচের গায়ে মরিচ দানার মতো কুয়াশা জমিয়ে ফেলে।

নীহারিকা ঐশ্বরিক ভগ্নাংশ শরীরে  যখন বিন্দু জল ক্রমাগত গভীর থেকে গভীরে এগিয়ে চলে।ঠোঁটের আহত উষ্ণতা বেড়ে উঠে ক্লান্ত যোনিগর্ভে পিচ্ছিল কাদাটে আদরে মিশে যেতে শুরু করে ।

কৃপা সিন্ধু নারীর প্রস্ফুটিত বক্ষে ললাটি কাপড়ে অবিক্রীত স্তন ছুঁয়ে নেয় নীল বিষ অমৃত স্বাদের উদ্দেশ্যে

ভারী হয়ে ওঠে লুকোনো চাহিদাগুলো।যৌন আলিঙ্গনে শিরার রক্তচাপ রক্তক্ষরণের পিপাসায় মুখ রেখে দিনরাত্র-গত কাব্য সুবাস মেখে নেয় বীর্য স্পর্শ সম্মুখের প্রেয়সী নারীর গর্ভে লুকিয়ে রাখা অমরত্ব সুখের কাম্য যন্ত্রণা প্রদানের লক্ষ্যে।

সময়ের সঙ্গে ছিনিয়ে নেওয়া ধৈর্য্য বিলাপ মন্থন রা কাটে সৈকত সিক্ত জরিপ তন্দ্রা খেয়ালি আস্তরণে জমাটি প্রলেপ ঢেকে দিতে কোমরের অলঙ্কৃত বাঁধন ছিড়ে শোক শিহরনে আনচান করে তোলে।

পঙ্কজ কাননে যৌবন কোঠারি উদ্ধৃত ছাঁই মাখা দেহে ওপর নিজ শরীরে দাগ কেটে ফেলা অস্থিমজ্জায় অনুরণন করা লিঙ্গ পেশন অখণ্ড তৃপ্তি পারদে নিয়ন্ত্রণের ভরসাটুকু জাগিয়ে তোলে সামান্য দুরত্বে। অ্যাস্ট্রে ভর্তি ছাই যৌবন যন্ত্রণায় কাতরে ওঠে নীল শরীরে মিশে যেতে শুরু করে দুর্বল কোমরের আদরে....

আর তুমি তৃপ্তি স্বাদে সুখের আর্তনাদে গোটা ঘরে রোমাঞ্চ ফুটিয়ে তোলো আর আমি তখন ক্রমাগত পাশবালিশ বীর্য ক্লান্তি নিংড়ে ফেলতে শুরু করি একের পর এক পরিস্থিতির শিকারে ।।

সন্দীপ পিপলাই


কঙ্কালের_প্রেমগাঁথা
            সন্দীপ_পিপলাই

      উলঙ্গ শরীর ভিজে আছে !
        চোখের আগুনে ধোয়াশার পর্দা...
             চারপাশে কথার পাহাড় !
        গোড়ালির আত্মহনন রূপকথা।
           মনের ভাঙ্গা কাঁচে অজস্র ছোপ
                  চামড়ার গন্ধে শুধু ক্ষোভ...

     কালের দূষণে অভিসন্ধি
   স্পন্দনের অঙ্কুশ ,দুর্নিবার আপোষ
         অশ্রুপাত অবহেলিত গন্ডি
       শ্মশানের কাঠে দিনলিপি আঁকা
          সময়ের চাদরে মৃতদেহ ঢাকা।

              ছুটছে নদী ...
                নাভির ফাঁকে প্রণামি ছাতা
               কলঙ্ক আজ আলেয়া
      অনুভবের আড়াল ঘিরে বিস্মিত গলি
         প্রণয় স্টেশনে হলুদ আলো
হৃদ সমুদ্রের বালিতে আঁটকে মন পাখি,
    বঞ্চিতের ইতিহাসে আগামীর নির্দেশ ---
      চিতাতে শায়িত কঙ্কালের প্রেমগাঁথা ...



প্রাপ্তি
  সন্দীপ_পিপলাই

   মনের প্যারামিটারে নিশ্চুপ তরঙ্গ...
         তোর মাঝে আমার প্রতিবিম্ব
ঘাসে ভেজা শিশির ছুঁয়ে তোকে চেনা
     ভোরের নরম আলো, কলেবর এলাইতো আদর
       স্নিগ্ধ পরাগে মিশে শীতের চাদর।

     সিন্ধুর পারে উত্তাল আলোড়ন...
  শরীর তীরে অমলিন সমর্পণ
        চুলের গন্ধে বন্য আবেশ
             উদ্দাম কামে পরম আবেগ।
               ঠোঁটের মধু চুষে তীব্র চুম্বন
                   কাম আঁচে মননের গুঞ্জন।

          গলার ভাঁজে আলতো কামড়
    শিহরিত স্পন্দনে বিগলিত চামর
        বুকের পরে উষ্ণায়ন...
             লেহন সুখে মত্ত অধ্যয়ন।
        দেহ পট মন্থনে অনুষঙ্গ অনুরাগ
            অমোঘ খোঁজ সৃষ্টি পারাপার।

  উন্মোচিত পদ্ম মাঝে মোহের আতর
     অবারিত স্রোত একাকীত্বে কাতর
          একক বিন্দু ,দুটি আত্মা
   সম্মোহনী মলাটে প্রাপ্তির বার্তা ...

শনিবার, ৯ মার্চ, ২০১৯

মোহাম্মদ জসিম

কবিতা,,,,
মোহাম্মদ জসিম


(আমি উপাসনা করছি একটি যোনির
আমি আরাধনা করছি সেই স্বর্ণখনির)

দুটো পাঁপড়ি-খয়েরি পালক অথবা চড়ুইয়ের ডানা নিয়ে নক্ষত্রের মতো ফুটে আছে কামপুলক ফুল। এতটা সুন্দরে এলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, জলতেষ্টা পায়,,,,,

উবু হলে জলের দিকে
চিতশোয়া সেই ঝর্ণাটিকে--

মাখন-মধু জলের শরীরে নুন,‌আগুন আগুন বাষ্পের ধোঁয়া ছোঁ মেরে টেনে নেয় মাথা, তারপর সম্পূর্ণ দেহটিকে গিলে গিলে খায় ক্ষুধার্ত সাপের মতো।

সাপ--একটি উজ্জ্বল ত্বকের টাকিমাছ গিলছে!

মাছের আনন্দ হলো খুন হতে হতে! একবার ঢুকে যায়, একবার লাফ দিয়ে মুখের বাইরে এসে ডাকে,সাবানের মতো করে গায়ে মাখে সাগরের ফেনা!

দুইপাড়ে ঢেউ উঠে
দুই পাড় ভাঙে--

সাগরকে জল দেয় সাগরের নাঙে,,,,,,





সমকামী ইশতেহার:02
মোহাম্মদ জসিম


মেয়েটিকে খুলছে অবিকল অন্য এক মেয়ে--
দুলে ওঠে জোড়া নাশপাতি, খুলে যায় মুগ্ধ ঝিনুক!

মখমলে মখমলে ঘষে আগুন জ্বালাতে শিখি
 এইভাবে শরীর আজ নিজেদের শরীর চিনুক--

 আমরাও যাদু জানি, জানুক পুরুষ,,,,,,





মেলোডি অব মাস্টারবেশন 02
মোহাম্মদ জসিম


মুঠোয় আগুনকাঠি--উঠতেছিলাম নামতেছিলাম ঘোর-

সম্ভাব্য জলের দিকে-একাকী পুরুষসুন্দর!

মৃদু ও মসৃণ টান, যেমন সুঁইয়ের ফোঁড়,কুচকাওয়াজে পা......

ফোঁটা ফোঁটা টাপটুপ জলের রচনা--

ছুটে যায় জলস্রোত- মিটে যায় নাচ,শিশ্নটি নরম

মন্থর মেলোডি বাজে

ওঁম শান্তি,ওঁম.....

মোহাম্মদ আরিফ

অলমতি
মোহাম্মদ আরিফ

ভুলে যেতে চাই তোর পায়ের নীচে আকাশ।
ভুলে যেতে চাই তোর মিছিল-মথিত প্রেম।
ভুলে যেতে চাই তোর চিবুক ঘেঁষা তিল।
কবে যেন চায়ের নিমন্ত্রণ তোর চোখা চোখা বুকে?
গোলাপ, শিউলি, রডোডেনড্রন আর চাপ চাপ শহুরে।
সে ছিল বহল ফলের আঠায় আম-‌আঁটির ভেঁপু,
কিশোরী ফ্রকে অনেকটা দুর্গা, দুর্গা।
শুধু মৃত্যুকালীন যন্ত্রণা ঝপ্ করে
গভীর জলে পড়ে তরঙ্গায়িত নিত্য দুখ-
আবার না-ছোড় অতি বাম।
ভুলে যেতে চাই, ভুলে যেতে চাই।

কাল ছিল ভেজা দুপুর, তোর খোলা চুলে
রজঃ ক্লান্তি। আমি এক পা বাড়াই
দু-পা পিছোই, মাথায় আছে চায়ের নিমন্ত্রণ।
রাজনীতির উড়ো খৈ, হঠাৎ করে শেয়ার-পতন।
ইডেন-গার্ডেনে শেষ চুম্বন।
হতে পারবি কি সাধন-সঙ্গিনী?
তবে সব ভুলে আয় পঞ্চবাণে ঝাঁপাই
কুম্ভক ভুলে ডাহুক ক্রিয়ায় দুই আত্মার সমীকরণে
হৃদয়ে পদ্মে উলট-পুরাণ-লম্ফঝম্প পায়ের
নীচে মেদিনী ভজে শুধু দোঁহারে।

রথযাত্রা
মোহাম্মদ আরিফ

রশিতে দিই টান---
ঝেঁপে আসে মেলার উৎসব, তোর ভেজা চুলে
সুগন্ধি তেল। দাদুর হাতে অসীম ভরসা।
মুখ জুড়ে জিলিপির রসালাপ,বাদাম দানার
তাথৈ নাচ। কৈশোর খোঁজে আঁতিপাতি
মেলা জুড়ে তোর দু চোখ।
তখন ভেজা চুলের সুগন্ধী ক্ষণ
হঠাৎ যৌবন বুকের ভেতর ধুকুরপুকুর
হৃদয়পেশী কাতর হয়।

রশিতে পড়ে টান----
অন্ত্রের যুগপৎ যুগোপযোগী সাধন,
হৃদয়পেশী কাতর হয়।
অনির্দেশের পথে চলে এ দেহরথ,
সটান, দোদুল্যমান, হাঁটে, ভাসে,ওড়ে
লুকায়, হারায়, খোঁজে--
বহু আকাঙ্খিত ভবিষ্যত, বহু প্রতিষ্ঠিত বর্তমান
মেলা ফেরত কাদা-পা অতীত।
প্রচেষ্টার অহরহ রকমফের, নিজেকে ভেঙেচুড়ে
ভাঁড় সদৃশ অন্তঃক্ষরণ।
পথ কতটুকু দিলেম পাড়ি?  শুধুই চক্রমণ।
যদিও ভাবি গালভরা স্বয়ংসিদ্ধ।
অবয়ব হল না সমাধা। তাই রয়ে আছি
একমেব ঠুঁটো জগন্নাথ।


এ বসন্তে
মোহাম্মদ আরিফ

পুলকিত ফাগ তনু অভিসার অনলে,
পলাশ বিস্ফারে বুঝি যুগ - বিপ্লব করালে! খোঁজো তুমি ছোঁয়াচে হাওয়ায়,
বিদারক আকাশে, এলায়িত নদীতটে।
আমি তো তোমার‌ই আছি,
চুম্বনপ্রদাহী আগ্নেয় প্রক্ষালনে।


পল্লব রায়


আজ এই অন্ধকা‌রে  চ‌লো এই অন্ধকা‌রে

                  পল্লব রায়


‌বো‌ধের উষর ভূ‌মি‌তে জ্বে‌লে দিই  ফস‌লের উপাখ্যান এ‌সো ঠোঁ‌টের গভী‌রে ডু‌বি‌য়ে ঠোঁট দুজনায় হ‌য়ে উ‌ঠি দুজ‌নের ভাষাহীন কথার পাঠক

চ‌লো সারা গায় মে‌খে নি‌য়ে আদর আতর

অসম‌য়ে ডে‌কে আ‌নি প্রে‌মের বতর,

চ‌লো সা‌ধের সু‌তোয় বেঁ‌ধে দুঃখ উড়াই

পৃ‌থিবীর প‌থে প‌থে পিরিতের আগুন ছড়াই!

ভুল‌ো না তোমার কথায় উজাড় ক‌রে‌ছি সব নি‌ষে‌ধের গন্ধ
দ্বিধার কাঁটাতার মা‌ড়ি‌য়ে এ‌সো সমুদ্র সঙ্গ‌মে ভে‌সে যাই ফেনায় ফেনায় !

যেমন আঁছ‌ড়ে প‌ড়ে শান্ত নদীর জ‌লে দমকা বাতাস

তেম‌নি আঁছ‌ড়ে প‌ড়ো আমার প্রা‌ণে !

প্রে‌মের শি‌শি‌রে ভিজুক চিবু‌কের ক‌চি ক‌চি ঘাস

চ‌লো আঙু‌লে আঙুল ছুঁ‌য়ে

ক‌রি কিছু বৈ‌দিক ভা‌লোবাসা চাষ!

খু‌লে দাও খু‌লে দাও বু‌কের বোতাম

আ‌মি সু‌ডৌল হিমাল‌য়ে পুঁ‌তে দেই হিজ‌লের গাছ!

চ‌লো ‌পাল‌কে পালক ঘ‌ষে উ‌ড়ে যাই
ভে‌ঙে দি‌য়ে ঋতুমতী মে‌ঘে‌দের লা‌জের দেয়াল

দু-হা‌তে কু‌ড়ি‌য়ে নেই জীব‌নের নিগূঢ় মা‌নে !

য‌দি ডু‌বে যায় চাঁদ

সমস্ত নক্ষত্র বা‌লিকারা নি‌ভি‌য়ে দেয় আকাশ প্রদীপ

তু‌মি হতাশার রুমা‌লে মু‌ছো না দুচোখ

তোমায় রা‌ঙি‌য়ে দেব দুহা‌তে উজাড় ক‌রে প্রণয় আ‌বির !

চ‌লো রা‌তের গহীন খুঁ‌ড়ে খুঁজে আ‌নি রো‌দের মি‌ছিল

চ‌লো রা‌ত্রি সাজাই মিল‌নের উৎক‌র্ষে

তু‌মি আকা‌শের ম‌তো মে‌লে ধ‌রো নি‌জে‌কে

আ‌মি হই দুরন্ত এক বু‌নো চিল!




যখন মধ্যরাত

পল্লব রায়

এখন মধ্যরাত
এ সময় সস্তা বেশ্যার হৃদ‌য়েও হেঁ‌টে যায় প্রে‌মি‌কের ফুটপাত
এ সময় প্রে‌মের চে‌য়ে প্রকট হ‌য়ে ও‌ঠে দু-ই‌ঞ্চি জ‌মি‌নের অ‌ধিকার,
এ সময়  অ‌লৌকিক বর্ষাফল‌কের ম‌তো বেয়াড়া আঙুল ভেদ করে চ‌লে অন্ধকার
মুকু‌লের অ‌ন্বেষায় উ‌ন্মো‌চিত হয় দে‌হের ত্রি‌পিটক
আ‌মি ধ্যানমগ্ন হই ক‌ল্পিত বোধিবৃ‌ক্ষের ছায়ায়
‌হেলায় মা‌ড়ি‌য়ে চ‌লি‌ প্রেমহীন পৃ‌থিবী ও মানু‌ষের ঈশ্বর!

শ‌া‌ড়ির আড়াল ভে‌ঙে তু‌মি উন্মুক্ত হ‌লে
আমার না বলা কথারা ঠোঁট থে‌কে চুম্বন হ‌য়ে খ‌সে প‌ড়ে
অন্তঃস‌লিলা নদীর ম‌তো তোমার আজলা ভরা বিশ্বাস
বুক থে‌কে ভা‌সি‌য়ে নি‌য়ে যায় বেদনার খড়কু‌ঁটো
ভা‌সি‌য়ে নি‌য়ে যায় ব‌ধির পাথর !
আ‌মি  জীবন রোপণ ক‌রি তোমার না‌মে আগ‌লে রাখা শূন্যতায়
প্রচ‌লিত সম‌য়ের ফ্রে‌মে বাঁধা নিয়ম ভে‌ঙে
‌পোকা ধরা রক্ত ও কল‌মের ডগায় মে‌খে নেই
প্রণ‌য়ের নগ্ন আদর!

রাখাল ঋতুর হাত ধ‌রে
শুক‌নো পাতার ম‌র্সিয়া মু‌ছে হেঁ‌টে আ‌সে বসন্ত বিপ্লব
তখন তোমার পাহা‌ড়ি  বু‌কের নির্জন উপত্যকায় বিস্তীর্ণ
নারী‌ত্বের বন্ধুর প‌থে হাঁট‌তে ভা‌লো লা‌গে
ভা‌লো লা‌গে ‌আর একটু জ্বালা পোড়া
তোমার ‌বেগতিক নিঃশ্বা‌সে ‌বে‌ড়ে যাওয়া কামনার আঁচ!

এখন মধ্যরাত
বু‌কের বা‌লিশ ব‌ন্দি ই‌চ্ছের চুপসা‌নো শিমুল জা‌নে
আমার কৃ‌ষি প্র‌তিভা বিলুপ্তির ইতিহাস,
ভীষণ  ই‌চ্ছে ক‌রে
‌তোমা‌কে আকণ্ঠ পান ক‌রে
‌মিল‌নের শেষ স্তবক থে‌কে তুলে আ‌নি দিব‌সের নতুন আলো!
ভীষণ ই‌চ্ছে ক‌রে মধু‌পের মতো

আ‌মিও ফু‌লের ব‌নে যাই
রা‌তের গতর থে‌কে খু‌লে নিই বির‌হের পু‌রো‌নো পোশাক!

সুব্রত চক্রবর্তী


সঙ্গম সহবাস
সুব্রত চক্রবর্তী


সঙ্গম সহবাস আত্মশুদ্ধিরও পথ হয়।
হয়তো মোমবাতি গলে যায় ,
ক্যাকটাস ঝোপে ফোটে পারিজাত ফুল।
কর্ণের জন্ম কথা লেখা হয় সৌর ঔরষে।
#
সঙ্গম সহবাস কেবলই ক্রীড়া কৌশল !
অক্ষত ফলে দাঁতের কামড় !
ব্যভিচারী ঠিকানায় বর্ণ বিভ্রাট !
চৌষট্টি কলায় জীবন খাজুরাহো।
কামসূত্রে কলাশাস্ত্র আঁকেন বাৎস্যায়ন।
শীতের বিকেলে সমুদ্র শান্ত হয়,
ঝিনুকের দল শিখে নেয় মুক্তা আহরণ।
#
 সঙ্গম সহবাস রাতের আঁধার মাখা হায়নার হাসি !
জঙ্ঘাদে‌শে অশ্রু সজল নদী !
ভাদুরে রোদে দল বেঁধে
অনিচ্ছুক কুকুরীর পিছু লালসার কুঁই কুঁই !
সমর্পিত বিশ্বাস জিরেন কাঠে চুঁইয়ে পড়ে।
মাটির হাঁড়িতে থিতোয় খেজুরিয়া প্রেম।
সমুদ্র মন্থন শেষে দেবলোকে অমৃত উৎসব।
#
সঙ্গম সহবাস শেষে শুঁয়োপোকা গুটি ভাঙে প্রজাপতি পাখা মেলে,
ফুলে ফুলে ওড়ে প্রজাপতি মন।
'' যদিদং হৃদয়ং তব তদিদং হৃদয়ং মম। ''
সঙ্গম সহবাস অগ্নিসাক্ষী থাকে
অনিরুদ্ধ প্রেমের উচ্চারণে।

সোমবার, ৪ মার্চ, ২০১৯

সুতনু হালদার


এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর

সুতনু হালদার


ছবিটা খুব সুন্দর ছিল, খুব উজ্জ্বল; আমি ততটা মরিয়া ছিলাম না বলে ক্যাথোড রশ্মির বিকিরণের তেজস্ক্রিয় ঘুমে আচ্ছন্ন হতে পারলাম না! তবে যখন থেকে ছবিটাতে আমি নিজেকে দেখলাম, তখন থেকে ওটাতে সাতরঙা বর্ণালীর ছোঁয়াচে প্রেম তোমার চিকণ দুই ঠোঁটের প্রথম উপহার, আমার তো তোমাকে লালরঙা পোশাকেই বেশি ভালো লাগে দেখতে; বলেওছিলাম তোমাকে - ক্লাসরুমে সদ্যোজাত মরীচিকা স্নান করানোর সেই মুহূর্তগুলো যেন সমুদ্রের মতো প্রবল ঢেউ হয়ে তোমায় চুমু খেত! আমিও স্থির থাকতে পারিনি তখন, রিকটার স্কেলের উত্থিত যৌবন তোমার বুক ববারর একটা আঁচিল দেগে দিয়েছিল; তখন কিন্তু বুঝিনি ওই আঁচিলেই লেখা আছে আমাদের ভবিতব্য! বর্ণমালার ডায়ালিসিস হয়ে যখন ওই আঁচিলে মিশত তখন আমাদের শোবার খাটে কিছু বেহিসাবি কুয়াশা হামাগুঁড়ি দিত, সেই কুয়াশার অন্তরাতে লেখা থাকত - ' এ ভরা বাদর মাহ ভাদর শূন্য মন্দির মোর'..



আলাপচারিতা

সুতনু হালদার


শীৎকারের বলিরেখাগুলো মাঠের আলপথ ধরে
দ্রুততার সঙ্গে যেমন নিষেকের সাক্ষাৎকার নিতে
চায় তেমনভাবেই কুয়াশার যোনিজ মোহ পরাগের
ডানপিটে ছলনাকে চিনে ফ্যালে

দহনের জ্বালা মিশতে মিশতে দাম্পত্য পরিণত হয়ে ওঠে; সমস্ত সততা মেহগনি সামর্থ্যানুযায়ী সারণীবদ্ধ,
কারুকার্যের বায়বীয় মাধুর্যে কোথাও প্রেমিকার সুতীব্র চুম্বন...

দাবালনের আগুনে প্রেমের ধুনুচি নৃত্য-
বনফুলের ফ্যাজেলীয় চলনের মধ্যচ্ছদায়
সমস্ত প্রেমী-যুগল মহাকর্ষীয় ত্বরণকে চিনে ফ্যালে

কেঁপে ওঠে নাদব্রহ্ম!
নাভিকুণ্ডের দৈহিক সমতায় আয়নার প্রতিবিম্ব
           আলস্যের ফানুসে নৈব্যক্তিক আলাপচারিতা

রবিবার, ৩ মার্চ, ২০১৯

অভিজিৎ দাসকর্মকার


অতিচেতন-২

কৌতুহলী ট্রাউজার

অভিজিৎ দাসকর্মকার

একা আমি
অন্তঃসত্ত্বার ভিতরে
লাল ত্রিকোণ
চতুষ্কোণি ক্ষারবিন্দুতে
নারীকূল সা রে গা মা পা -র ছন্দে-

   টাটকা তাকনো ছেঁড়াপাতার ক্যানভাসে
বান্ধবীগাছটির লালিত্যসুখ
একটি কুঁড়ি পানসে শিমুলগাছে
জলসাঘর লেখে
লুকোচুরি লেখে ফাগুন আঁচড়
      রাতের শুক্রাণুরা বিছানা ছাড়েনি
         রাজসুখ
                 হৃদ-ঘাম-পিণ্ড
     নিশ্চিন্ত লোমকূপে
                ছটফটে ফুসফুস
আর আমার কৌতুহলী ট্রাউজার


অতিচেতন-৮

স্রোতস্বিনী জলের শব্দনাচ

অভিজিৎ দাসকর্মকার

একটু পর বাতিটির আলো থেকে পাতিলেবু অন্তোদ্বয়সীমার কাছে বিশ্লেষণ করবে আমার কোরা কাগজ আর ক্লিওপেট্রার মনকেমনকরা ফিকে চোখ। চাঁদের অ্যানিমিক আলো লোহিত কণিকা জোগাড়ে ব্যস্ত। শরীরের সিলেবাসে মধুমালতীর পদক্ষেপ। দেহতত্ত্বের গহ্বরে স্যাক্সোফোন বাজায় স্রোতস্বিনী জলের শব্দনাচ। সিম্ফনি তোলে সিগারেটের তন্বী মেয়েটির গালে।
অস্রাব্য ভাষা বিলাস বাগান ফুল বিধবার নগ্নবুকে কার্বনধ্বনিত সিঁদুর খেলা আর
শ্রীরাধার কোলে পারদ হয়ে শুয়ে আছে কালোশ্যামের বাঁশি...*


একটু অন্যরকম

অভিজিৎ দাসকর্মকার।

ধ্যানস্ত পুরুষটিকে আমার পেনদানির প্রতিটি পেন চিনে নিয়েছে
পাশে ফোল্ডিং কাঁচি আর নেল-কাটার
পালিশ করে পৌরুষ বলিরেখা

লাল পেন=অহংকারী রূপকথার রাজকুমার
নীল পেন=হিংসার ষোলআনার পানাজল

বজ্রসভার রম্ভা বল-ড্যান্সে কথা বলে
পায়ের নিচে নোটিফিকেশন টোন আর
ঐরাবতের পিঠ
হিপ-হপ্ ককটেলে ভাঙাতে চায়
শৈলজ দৃঢ়তা

গাঢ়ত্বের হাতে গুরুত্ব দিয়ে নাম লেখে নটরাজ নাচা পেন্সিলটি
কানে রথযাত্রার উল্টোনো রিমিক্স গান শোনে

ঝকমকি আলোজ-নগরে পড়ে থাকা
উলঙ্গ সামাজিক-রাত=ধ্যানমগ্ন টাকা
অগুন্তি রেকর্ডিং শব্দ= জাতকের কাহিনী।*

অতিচেতন-২৩

বিছের জ্বালা

অভিজিৎ দাসকর্মকার

আরেকটা শরীর ঝাঁপিয়ে পড়লে
আমার শরীরে পরাগমিলন হয়।
অসম্ভব ব্যাথায় কেঁদে ওঠে পলাশফুল
দুপায়ের মাঝে
তখনও নায়াগ্রা আর নাইট ক্যুইন,

যমুনাবাঁধে শ্রীপদি রাধা গীতগোবিন্দ ভুলে
শুকপাখির ঘরে ঢোকে
আর-
গুগলপেজে স্ট্যাটাস দ্যাখে
জিরো বাউন্ডারির জাড্য ঝাড়া কুলীন মেয়েটি
        কোমরে বিষাক্ত বিছের জ্বালা
        চোখে মাসকারা মাখানো ক্লান্তি
        ক্লিভেজ জুড়ে ঠোঁটের গন্ধ...

আবহ সঙ্গীতে
ফুল ফোটা বাউলের
ঘুঙুর-লহরী,আর-
ভালোবাসা আর্চি-স গ্যালারি হয়ে যায়।***

সিরিজ:2
সংখ্যা।

অভিজিৎ দাস কর্মকার।

বেদ সমগ্র

ধুলো খেলায় মেতে থাকা মেয়েটি কিশোরীবেলায় আজ
আগলখোলা বটঝুরিও সংযমী
রক্তকরবী আ-ঘ্রাণ মেখে
বন্দি থাকা কারাগার কবি মুক্তি পাবে
একমুঠো মরচে ধরা রোদ।


ঋতুরাজ

আমাকে চুরি করা যদি যায়
প্রতিষ্ঠিত দেওয়াল থেকে শ্যাওলা ঝরে পড়বে
অসমাপ্ত অমাবস্যা মানেই আরো একটি জ্যোৎস্নার জন্ম নেবে চাঁদের ভরা পোয়াতি বেলায়।

সাতসাগর

সারা শরীর ময় অশরীরী গন্ধ লাগে
চুল থেকে উড়ে আসে কচুরিপানার জঞ্জাল আর জলজ জট
খুলে ফেলা হুক বাইরে তাকায় বুকের না-ফোটা অবগাহন।

পলাশ মজুমদার


কালচিতি

পলাশ মজুমদার


রোদের আঁচলে চুল শুকোচ্ছে বাতাসীর মা। পারুল। এই সময়গুলোতে প্রথম স্বামীর কথা মনে পড়ে আবছা। পারুলের গায়ে পড়া স্বভাব। সদ্য বিয়ে হয়েছে তখন। গাঁয়ের ছেলে - ছোকরাদের সাথে কি ভাব, কি ভাব! ঘরে ডেকে এটা-ওটা খাওয়ায়। হেসে হেসে কথা কয়। অনিলের সহ্য হতো না মোটে।

'বউ তো নয়, কালনাগিনী ঘরে এনেছি বিয়ে করে!' - অনিল আপন মনে বিড় বিড় করতো মাঝে মাঝে। তখন বাতাসী সবে এক। একদিন সকালে অনিল কাজে গিয়েছিলো মাঠে। আলের উপর শুয়ে রোদ পোহাচ্ছিলো এক কালচিতি। লক্ষ্য করেনি অনিল। লেজের উপর পা পড়তেই কেল্লা ফতে। মুখ থেকে অনেকটা গ্যাঁজলা উঠেছিল। জানাজানি হতে গাঁয়ের লোক ধরাধরি করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছিল। উপেন ডাক্তার অনেকক্ষণ নাড়ি টিপে টিপে জবাব দিয়ে যান।

কিছুদিন বোবা হয়ে গেছিলো পারুল। দিন ফুরোলে মিইয়ে যায় বিগত। ঝাপসা হয়ে আসে বেদনার রং। শোক বৃদ্ধ হলে ঝিমিয়ে পড়ে। খোসার আড়ালে উশখুশ করে কবেকার খিদে। ওৎ পেতে বসে থাকা পুনর্জীবন খিলখিলিয়ে হাসে। সেই উৎসবে পারুলকে পালিয়ে বিয়ে করেছিল মুকুন্দ। তারপর পাশের গাঁয়ে ঘর বেঁধেছে। বাতাসী তখন দুই। এখন আঠেরো।

পুকুরে জাল ফেলে গোটা দুই চিতল ধরেছে বাতাসীর সৎ বাপ। আজ ছিল হাটবার। সকালে রথতলার হাট থেকে বটিতে ধার দিয়ে এনেছে মুকুন্দ। অষ্টাদশী আপনমনে নাড়িভুঁড়ি টেনে বার করছে চিতল মাছের পেট থেকে। বাতাসীর পেটের উপরের দিকটায় একটা কালশিটে কামড়ের দাগ আছে। গতবার দোলে অষ্টপ্রহর বসেছিল গাঁয়ের রাধাগোবিন্দ মন্দিরে। পাল বাড়ির জামাই-মেয়েও এসেছিলো।

পালের মেয়ে কীর্তন ভালোবাসে। এক খিলি জর্দা পান মুখে পুরে আসরের সামনেই বসেছিলো সে। নদীয়া থেকে দল এসেছে গাইতে। যে ছেলেটি বাঁশি বাজায়, কয়েকবার চোখাচোখি হয় দুজনার। ওর বাঁশিতে জাদু আছে। খোল, করতালের কলরব এড়িয়ে পালের মেয়ে রাতভর মজে থাকে চোখের মায়ায়, সুরের জাদুতে।

জাদু জানে পালের জামাই। হাতে আগুন। চোখে মন্থনের ডাক। মাঝরাতে থিতিয়ে আসে ভীড়। অখন্ড মাদুরে ওরা তখন জনা কয়েক। পাশেই একমনে গান শুনছে বাতাসী। সেই কখন থেকে বুকে জড়ানো রংচটা ওড়নাটা স্থানচ্যুত হয়ে পড়ে আছে অনাদরে! দিক-বিদিক, ছন্নছাড়া! বাতাসীর তপ্ত বুকে শীতল মায়া। কে কাকে ফুসলেছিলো রাধামাধব জানে!

'বাতাসী আগুন খেলবি? আয়, পেছনের গোয়াল ঘরের পাশে বিচালি রাখা আছে, কোথাও কেউ নেই, তুই আর আমি!' - কথাগুলো কানে কানে বলেই জামাই দাঁড়িয়ে ছিল পেছনে জামরুল গাছের গোড়ায়। ঘুঁটঘুঁটে আন্ধার। পা টিপে টিপে, কাঁপা কাঁপা বুকে বাতাসী এসে দাঁড়ায়। ঠোঁট, চুল ছুঁয়ে দিতেই নিঃশ্বাস ঘন হয়ে আসে। বাতাসী ছুটে গিয়ে ওৎ পেতে শুয়ে পড়ে শুকনো বিচালি শয্যায়। যেমন করে কালচিতি আরামে রোদ পোহায় আঁলের ওপর।

মন্থন শেষে উঠে দাঁড়ায় জামাই।
'তুই একটু পরে আয় বাতাসী' - একদলা কফ গিলে নিয়ে জামাই হনহন করে হেঁটে যায় আলোর দিকে।

পাতে চিতল মাছের এক টুকরো পেটি আর মাথা। মধ্যাহ্নের আহার সারছে মুকুন্দ। মা-মেয়েতে পরে বসবে। ঘর থেকে ভয়ার্ত গলায় হাঁক পাড়ে বাতাসী,
'মা, ওহ্ মা ঘরে সাপ ঢুকেছে!'
'কি সাপ? কি সাপ?'- রান্নাঘর থেকে সমস্বরে জবাব আসে।

'ধরন - ধারন যা, মনে হয় কালচিতি!'