রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০

দুজনের অতি ব্যক্তিগত: বিনয় মজুমদার

 


বিনয় মজুমদার,,,,, 


কবিতা: দুজনের অতি ব্যক্তিগত,,,,,, 



((নৈঃশব্দ্য সন্ধ্যা এলোকেশী ঈশ্বরী সঙ্গমচন্দ্রিমা চকোর মীনচক্রবৎ ঘূর্ণন

মধুমক্ষিকা জ্যোৎস্না রমণ সঙ্গম

সুধাযাপন নিঃসঙ্গ যন্ত্রণা সঙ্গোপণ ঈশ্বরী 

সর্বান্তঃকরণে সমর্পণ ক্ষুধার নিত্যতা সূত্রে রাঙা সোহাগ অগ্নিমান্দ্য দুরন্ত শোক চরণ

আশ্রয় নির্লিপ্ত যাপনে 

তোমার বক্ষের অনন্ত বিভাজিকায় আমার রাত্রি

আমার মণিকর্ণিকার ঘাট নোঙর ফেলার সংস্থাপন রতি))



বিশ্লেষণী প্রেক্ষাগৃহ 


সঙ্গমসৌন্দর্যচন্দ্র মোহ ((করবাচৌথ)) 


সুপ্রীতি বর্মন




যখন গ্রহের ফেরে ও কপালদোষে অপভ্রংশ হয়ে যায় জৈবিক চাহিদা ও জীবনযাপন বাধ্য হয় কঠোর হতে,,,,

তখন রূঢ় আলিঙ্গনে থেকে যায় শিথিল কোমলতার স্পর্শ সুখ,,,,,

পাঁজরগুলো দুশ্চিন্তার জটে পাকানো আত্মদহনের অগ্নিতে ভস্মীভূত হতে থেকে ধোঁয়ার সাথে তোমার ওষ্ঠে মিলিয়ে যেতে থাকে,,,,, 

তবে এক্ষেত্রে আমার নেশা কিছু আলাদা বৈচিত্র্যময় সঙ্গম তোমার সাথে আমার,,,, 



বিশ্বাস করো এই অনুরক্ত হয়ে যাওয়া তোমার,,,, 

আমার বুকে নির্ভয়ে শুয়ে রতিস্নিগ্ধ কবচে দিয়ে যেতে থাকো অবচ্ছিন্ন সঙ্গম,,,,

যদিও তা সম্ভব নয় দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হ‌ওয়া কারণ অবিশ্রান্ত লাঙলকর্ষণে ঘাম ঝরতে থাকে দেহে,,,,,

পুরুষালি সহ্য শক্তিতে ঘুণ ধরায় ক্লান্তি যা সুন্দর কন্ঠলগ্ন বিরতি টানে আলপথে,,,,,

তুমি যেন আরো বেশী আঁকড়ে ধরো আমায়,,,,, 



নিঃস্ব ও নিঃসঙ্গ যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যখন এই শীর্ণকায় শরীর লুকাতে লেগেছিল তোমার কোলের কাছে এই বোধে যে আমার আজ কিছু নেই,,,,, 

তখন আমার আশ্চর্য লাগে তোমার শিথিল কোমলতার মতন আমার বুকের উপর শুয়ে থাকা নির্ভার ও নির্ভয়ে যেন তোমার একমাত্র ঈশ্বর আমি শুধু আমি,,,,,

তখন সেই পরমার্থ জ্ঞান নিশ্চয়তা পেয়ে আমি আত্মতৃপ্তি পাই,,,, 



তখন কেমন করে যেন সকল বোধের ভিতর রতি রক্তিমতা দিয়ে প্রীতি বোধে আসক্তি জেগে উঠে,,,, 

অনীহার ঝুলে থাকা বিষাদের কালো মেঘ সরে গিয়ে সঙ্গমক্রিয়া সব কার্য সম্পাদন করে,,,,

আমরা শুধু অক্লেশে আত্মসমর্পণে তার কাছে হাতের পুতুল হয়ে আজমাইশ হতে থাকি,,,,,,




দ্বৈত পারিবারিকতা: বিনয় মজুমদার

 



বিনয় মজুমদার,,,,,, 

দ্বৈত পারিবারিকতা,,,, 


((নৈঃশব্দ্য সন্ধ্যা এলোকেশী ঈশ্বরী সঙ্গমচন্দ্রিমা চকোর মীনচক্রবৎ ঘূর্ণন
মধুমক্ষিকা জ্যোৎস্না রমণ সঙ্গম
সুধাযাপন নিঃসঙ্গ যন্ত্রণা সঙ্গোপণ ঈশ্বরী 
সর্বান্তঃকরণে সমর্পণ ক্ষুধার নিত্যতা সূত্রে রাঙা সোহাগ অগ্নিমান্দ্য দুরন্ত শোক চরণ
আশ্রয় নির্লিপ্ত যাপনে 
তোমার বক্ষের অনন্ত বিভাজিকায় আমার রাত্রি
আমার মণিকর্ণিকার ঘাট নোঙর ফেলার সংস্থাপন রতি))


বিশ্লেষণী প্রেক্ষাগৃহ 

সঙ্গমসৌন্দর্যচন্দ্র মোহ ((করবাচৌথ)) 

সুপ্রীতি বর্মন



কাকচক্ষু জ্যোৎস্না যখন নিঃসঙ্গ নিকষ অন্ধকার অমাবস্যার মতন বক্ষের মাঝে জগদ্দল পাথরের স্থবিরতার মতন চেপে বসতে থাকে,,,,,
তোমাকে কাছে না পেয়ে ছটফট করে আত্মহত্যার জটে পাকানো শিকড় কামড়ে ধরে তখন এই জীবনযাত্রা বহন অসহনীয় হয়ে যায় তার জন্য অন্তহীন সঙ্গমের প্রয়োজন,,,,, 
সকল জড়ত্ব ভেদ করে সরস আশ্বাস ও নিরাপত্তা বোধ নিয়ে আসতে যাতে করে অভিশপ্ত জীবন উপভোগ্য হয়,,,,, 


সেই কারণের জন্য অনেক ঋণ প্রয়োজন তোমাকে  নিজের করে কিছু দেওয়ার থেকে,,,, 
যাতে তুমি পরিশোধ করে দিতে চাও অতিষ্ঠ ঈপ্সা রেখে আমাকে আপ্যায়ন করে,,,,   
কিন্তু তুমি রূপে গুণে এক রমণমালিকা যেন এক অপরূপ ঐশ্বর্য চাঁদ,,,,
তাই তোমাকে হাতের মুঠোয় করে নিজের কাছে পেতে গেলে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সাধ্য সাধনার প্রয়োজন,,,,,, 
এই নীরব বিশ্ব অক্ষম সবকিছু নিষ্প্রয়োজন,,,,,,
শুধু তুমিই আমার একমাত্র যক্ষের ধন,,,, কোনকিছুর সাথে আমার প্রয়োজন নিছক অপ্রাসঙ্গিক এখন,,,,


তাই তোমাকে পুলকরাগে নিজের খুব কাছে যেচে পেতে চেয়ে উন্মাদিত করার প্রচেষ্টায় থাকি,,,, 
সব রকম সম্পদ দিয়ে তোমাকে উত্তাল করে রাখি,,,,, 
আমার শুধু একটাই চাহিদা কালঘাম ছোটানোর শেষে যে তুমি নিজে থেকে উদ্যোগ নিয়ে ও অতিষ্ঠ ঈপ্সায় প্রচন্ড ভয়াল করে ঠাপ নিতে চাও শুধু আমার কাছ থেকে,,,,, 


তখন বিনিসুতো শীর্ণশরীরী মালার এই প্রণয়ের গাঁটছোলায় তোমার চারপাশে প্রশান্তির শীতল আশ্বাসে বীর্যের আঠালো ঘ্রাণে এক মনোহরা তীব্র সঙ্গমের মদনোচ্ছ্বাসে মদ্যপের নৈশিল ঘোরের বাতাবরণ সৃষ্টি হবে,,,,, 
যা আমাকে শিথিল কোমলতা দিয়ে সঙ্গোপণে নিমজ্জিত করবে,,,,,
শুধু এইটুকুই আমার চাওয়া কিংবা পাওয়া বলতে পারো আর তো কিছুই চাই না আমি তোমার কাছে,,,,,,,




বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০

চক্ষুকর্ণের বিবাদভঞ্জন (সুপ্রীতি বর্মন)

 


বিজয়া দশমী ((সম্পাদকীয়)) 


চক্ষুকর্ণের বিবাদভঞ্জন


দুর্গে দুর্গতিনাশিনী 


কাঞ্চনবর্ণেই কৃষ্ণবর্ণা 


আদ্যাশক্তির রূপান্তরকামী


((Controversial issues arising from this structure of Goddess for leaving the conventional structure of Durga)) 



সুপ্রীতি বর্মন


Editorial Segment 


((Philosophical Interpretation)) 



বক্ষের পাঁজরভাঙা প্রত্যাশায় ঠোঁটের আজন্মপালিত মা মা ডাকেও রাত্রির নৈঃশব্দ্য ভাঙতেই চায় না কিছুতেই।। শিমুলতুলোর অন্তঃসারশূন্য কাঙালি শরীর আছাড়িপাছাড়ি করে হাঁকে ক্ষুধার্ত হাঁ এ এবং চিবুকের পূর্ণচ্ছেদের লালিত্যে যে মা তুই কেন আমাকে ছেড়ে চলে গেলি জন্মের মতন এক মহাপ্রলয় ঘটিয়ে আমার আকাঙ্খার দরদালানে যেখানে আমি অন্ধ ভক্ত হয়েই বসে আছি তোর চির সনাতনী কালো রূপের মোহে।।।।সেই কৃষ্ণবর্ণা রূপায় আমার ক্লান্ত হিজল অজস্র ঝুরি নামিয়ে তপস্যার শুধু তাকেই মগ্নচৈতন্যে জড়িয়ে জাপটে ধরে রেখেছে নিজের কাছে কুক্ষিগত করে।।।। আমার অস্তিত্বের সঙ্কোচনশীল গহ্বরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আক্রোশে সেখানে তাই তোর তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা ধরা দিতেই চায়নি কারণ আমিই হয়তো ছিলাম সম্পূর্ণ রূপে দৃষ্টিকোণের শাপদগ্ধ খিলান ভাঙা অচ্ছুৎ পিপাসায় জরান্ধ হয়ে তোর কালো রূপের মোহে ।।।।।। 

মৈনাক অন্ধত্ব যেন ভর করেছিল আলতা রাঙা প্ররোচনায় অর্ধ‌উন্মাদ তোর পাগল ছেলে সেই অনূঢ়া কুসুম সেই পদ্মরাগ মনি কুমারী কে নতুন করে চিনে উঠতে পারেনি আমার অন্তরে যে লুকিয়ে ছিল দীর্ঘকাল ধরে।।।।। 

তোকে শুধু নিজের সর্বস্বপণ করে ধরে রাখা সংরক্ষণ করার আভিজাত্য অহংকার আলস্যে কোন এক সপ্তডিঙা হয়ে ছিলাম আমি এই পার্থিব মন্দিরের ভগ্ন চৌকাঠে প্রতীক্ষায় এক অতন্দ্র প্রহরায়।।।।।

তোর আসল স্বরূপ কী তাকে খুঁজতে না চেয়ে যা দেখে আসছি যা বুঝেছি সেই অবশিষ্টের উচ্ছিষ্ট যাপনে থেকে গেছি তাই আমার অজান্তেই রাতের লাস্যময়ী বিভঙ্গে নাভিপদ্মে জেগে উঠা কুমারী কে চিনে উঠতে পারিনি যে সেই আসলে তোর বিশ্বজননী রূপংদেহির অন্তরসত্য ছিল।।।। পুরুষোত্তম শরীরের অভ্রান্ত ভ্রূণাধারে জেগে উঠে এক প্রখর নিঃসঙ্গ অসুখ ও যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ যার আড়ালে প্রহর ভাঙছে তার‌ই স্পর্ধায় থাকা অশ্রুধারার আষাঢ়স্য মেঘে অশরীরী আগুন যে সে কিছুতেই তোকে ছেড়ে অপর কোন দেবী কে অঞ্জলি দিয়ে পুজো করতেই চায় না ।।।।।।

পার্থিব দাহ্য ধুলো শরীরের অগ্রাহ্য করা সত্তায় বলে উঠে সে চরম তাচ্ছিল্য এর চিৎকারে রগরগে ছাগলতাড়ানির সোহাগের বর্ষণে যেখানে চুপটি করে পয়মন্তী কুমারী অজ্ঞাতসারে লুকিয়ে আছে তার খুব কাছের পুত্রের স্নেহে যে "তুই কী চক্ষুকর্ণের মাথা খেয়ে বসে আছিস মা,, 

আমি যে এতো করে তোকে ডেকে যাচ্ছি বুঝে উঠতে পারছিস না"।।।।। 

"কেন তুই মা আমাকে ছেড়ে জন্মের মতন পগার পার হয়ে চলে গেলি,,

এক মা হয়ে তোর যতো আদিখ্যেতা আমি কেন সহ্য করে যাবো বল"?????

সন্তান ও মায়ের দেখা ও দেখায় কিংবা আলো ও আলেয়া এর এক রূপান্তরকামী জীবাশ্ম দেহে মধ্যবর্তী এক অদৃশ্য ও কঠোর দেওয়াল এর জন্মজন্মান্তর সংঘর্ষের প্রাচীর হয়ে থেকে গেছে এই মা ও ছেলের সম্পর্ক চিরাচরিত প্রথায়।।।।।।





পরিযায়ী শ্রমিকের অকর্মণ্য জীবন যাপনের যান্ত্রিকতার কোলাহলে শীর্ণ পাটকাঠি শরীরের লাঙল পীড়নে উপেক্ষিত দীর্ঘশ্বাসে রুগ্ন পায়ের পাতা কোনদিন কী প্রতিষ্ঠিত দৈবী কায়ায় জেগে উঠতে পারে লৌকিকতার নিষ্প্রাণ প্রস্তররমণী রূপে?????

তাই শুধু শুধু আর স্তনসন্ধির শাড়ির আটপৌরে খুঁটের আঁচল ফেলে রমণীয়শৈলীলাবণ্যময়ীর‌ঐন্দ্রিলার অপরাজেয় ক্ষিপ্র চালে নিরুদ্বেগ লৌকিকতায় আর ধরতে চায় না ত্রিশূল অসুরের বক্ষ বিদীর্ণ করে ঐতিহ্যময়ীর সেই মান্ধাতার আমল থেকে দিয়ে আসা উপরিউপর আঘাত তার জমকালো জাঁকিয়ে বসা ঐশ্বর্যের ঘামতেল আম্রস্তনের কাঁচামিঠে রোদ্দুর পৌরুষের ঘ্রাণে কনককাঞ্চনা হয়ে।।।।।

এবার তবে বছর ঘুরে এক জাহ্নবীর পুণ্যিপুকুর পুরুষ্টু কমন্ডুলের ক্ষিধে না মিটাতে থেকে এক শিল্পীর শৈল্পিক ক্ষুধার মধুমক্ষিকার স্তুতি কিংবা স্তোত্র ও শ্লোকপ্রেমপাঠের মন্ত্রৌচ্চারণে দিকে দিকে জেগে উঠে অলকান্দার নিমজ্জিত অর্ঘ এর প্রকৃত ছাড়পত্র।।।। 

তখন এক অভাবী মায়ের শরীরে জেগে উঠে মহামায়া তার উরুমাছ ভাস্কর্য আটপৌরে সংযম ও সিঁদুরে চুল ছাড়া উড়ো সংলাপ প্রত্যাশায়।।যখন পুরুষালির শুক্রাণুর জোর গেছে কমে সেই পরিস্থিতিতে তার উদাসী চুলে রাত্রিকালীন অগোছালো সরীসৃপ সম দুঃশ্চিন্তার চীর হরণে দামাল ছেলে পিলেকে কাঁখে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোন বিকল্প থাকে না।। অরণ্যানীর পদমূলের শৃঙ্খলে এক মহাপ্রলয় জাগিয়ে দুর্গতির সংহারে এক মা জেগে উঠে।।।। তার বোবা চৌকাঠে জংধরা সিঁদুরে মেঘ এবং ঠোঁটে উপোসি জাহ্নবী চোয়ালে গুমর ভাঙে এই জগতের সেই চিরাচরিত গৌরচন্দ্রিকার মাৎস্যনায় এর বিরুদ্ধাচরণে এক রূঢ়কায়াকল্পে।।।। 


তাই ঘুরে তাকানো জেগে উঠা দশপ্রহরণধারিণী বিনা অস্ত্র এ বিনা  লৌকিকতায় তার পাঁজরের প্যাঁকাল মাছের ঝাপটে আর ঝালাপালা ঢঙ মারা গায়ে গতরের লাবণ্য ও শিল্প সৌকর্য ঘামতেল ছেড়ে দিয়ে সে বজ্রপাত এর মতন নির্ভীক দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ নির্ভীক চিত্তে ঘুরে দাঁড়ায় মাতৃঋণযাপন স্বরূপা হয়ে।।। তার ওষ্ঠদ্বয়ের হিমাঙ্কে জমতে লেগেছে দৈন্যকাতরতার ব্যুমেরাং।।।।।অর্থনীতির শিকারে জরাগ্রস্ত কঙ্কালসার দেহে হাঁপড় টানা দীর্ঘশ্বাস এ রহস্যিক খননে তখন জেগে উঠে অগ্ন্যুৎপাত এর অসহ্য লালার উদ্গিরণে ক্ষুধার্ত জ্বালাপোড়া দুটি চোখ।।ঐ দৃষ্টির করালগ্রাস যার ছোবলে হোঁচট খেতে বাধ্য হবে এই ঘরকুণো সোহাগ নিষেকে জন্ম নেওয়া লক্ষ লক্ষ বঙ্গসন্তান।।।।।।


জননীর চিরন্তন ঐতিহ্যের শ্রীময়ীর রূপ আদ্যাশক্তি ধরা দিক আজ আমাদের আলিঙ্গনে তার চেনাজানা চিরন্তন চিরপরিচিত মমতাময়ী মায়ের শাসনের চোখরাঙানির প্রাণপ্রতিষ্ঠার জাগরণে এবং তার নিকষ অন্ধকার এর ছেঁড়া ছেঁড়া বাঙালি দেউলিয়া কাঙালিনীর কাপড়ের আভূষণে সেই চির পরিচিত রূপে সেটাই বেশি আলো লাগে।।।।।।

মোহময়ী লাগে তোমাকে মা অনেক বেশি "রূপং দেহি,,জয়ং দেহি,, যশো দেহি,, দ্বিষো জহি"।।।।।।।

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০

যোগনিদ্রায় ল্যাপটপ

 



যোগনিদ্রায় ল্যাপটপ,,,,, 

((Editorial Note)),,,,, 

অজ্ঞাতবাস ((ঘর‌ই এখন জগত)) 


সুপ্রীতি বর্মন,,,, 



কঙ্কালসার কচলাকচলি উচ্চবিত্ত আভিজাত্যের ডিগ্রী 

স্কন্ধচাপা জগদ্দল কড়িকাঠ আত্মদম্ভ অস্তিত্ব 


কচ্ছপের শক্তপোক্ত জমাটশিলার কঞ্জুসির আবরণ ঢাকা 

উল্টো পিঠের হামাগুড়ি চামর 

সহনশীল চাদর


চাপাচাপি কর্মযজ্ঞের মরাকোটাল তখন কটিদেশে পরাধীনতার শৃঙ্খল 

কঠিন সময় এখন তাই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত


Then somehow u r habituated to learn by heart abusive or foul language, 

Bed of thorns,,,(কন্টকশয্যা) 

কোলভরা বন্ধ্যা রমণীর প্রসব যন্ত্রণার অন্ধকার,,,,, 



Circumlocution (কথার মারপ্যাঁচ) tends to be directed to downfall or destruction

No need of maintainance for the expenditure 

It is getting gradually then obsolete 


Pedantic Laptop with wide screen

Becomes lazy and harsh somehow hazy to be transformed into alluvial deposit 


Circumspection gives birth to vanquished mental state of agitation


প্রণয়ের উজ্জ্বল পক্ষীরাজের পল্লবগ্রহীতায় তখন 

পাওনা গন্ডায় উজবুক কিস্তির আলস্য সংবাদ,,,,, 

      পাংশু ঠোঁটে কিংশুক সুখী পলাশ রাতজাগা প্রহরী সাফল্যের চাতক,,,,,

     খুব বেশী করে যেন আজ হয়ে গেছে উৎকট ব্যধি,,,,,

In the midst of bestial darkness of ignorance 

চাই চাই প্রস্তরখন্ডের পাঁচনের মার রাখাল ছেলের গরুচরা মাঠে হাতের কাল যেন কোন চন্ডকাম


Excessive hunger and thirst for high expectations draws u back to the inferno,,,,,,অজ্ঞাতবাস (Home quarantine) 


Where is no need of spell-bound free spirit shower but to live on bare-subsistence,,,,, 


প্রবেশ হিরন্ময় নখের আরশিতে জাগায় স্বর্ণালী কাঞ্চন পান্না (Emerald) 

But in quick moment that is turned into gravel,,,,, 


শনিচক্রের পাঁড়াগেয়ে পাগলাগারদ হবিষ্যি দান,,,,চটকাচটকি পাপপুণ্যের পিন্ডি,,,,, 


পার্শ্বচিত্র (Slide show) তখন অসামঞ্জস্য ক্ষুধার তৈলচিত্রে 

পারম্পর্য পারদর্শীতা রাখার অক্ষুন্ন প্রয়াসে

ছত্রাকঘটিত স্মৃতিচিত্র 

Skip করতে থাকে তখন কর্মক্ষেত্রের কোলাহল ছেড়ে উদ্বিগ্ন অর্থনীতির ধ্বসে পড়া চোরাবালির চরায়

(Betel-leaf) পানপাতার আরামপ্রদ মুখশুদ্ধি 


Laptop এর pigeon-hole এ তখন চরছে বাস্তুদোষে ঘুঘু 

পাথুরে শ্যাওলা সহবাসে তখন ফোটাতে অপারগ স্থলপদ্ম


তবুও পুণ্যাত্মার দীর্ঘকালীন পুণ্য সঞ্চয়ে 

পঞ্চত্বপ্রাপ্তিতে গত হয়ে যায়নি 

প্রতীচীর হাড়কঙ্কাল দেহে বেড়েছে প্রকোপ

 মহামারীর পূর্ণগ্রাস 

পরিব্রাজকের ভিক্ষায় তখন মুখ গুঁজে থাকে 

শ্যাওলাশাড়ির স্বপ্নপ্রণয়িনীর অজ্ঞাতবাস

অপ্রচলিত,,,, 

Reflection of consecration is at a proximate expectation,,,,, 


Self-imprisonment এ যখন করোটির রক্তকরবী

অক্ষরস্রোতের কলকল্লোল ঘটাতে অপারগ

তখন শীর্ণ আঙুলের নৃত্য মুদ্রায় বন্ধ্যা রমণী

চুপচাপ বসে থাকে সময়ের কশাঘাতে কষ্টসহিষ্ণু (Painstaking quick-lime) 


দেওয়ালের আজামাজা পুড়িয়ে কাকবন্ধ্যা শোকে

কাজলবিষাদ‌অগ্নিমেঘে কামড়া-কামড়ি করে

 শিথান শয়ান ব্যর্থ নিরুপায় ক্রোধে 

যাতে জেগে উঠতে পারে অশ্রুবর্ষণ 

কিন্তু উঠবে শুধু তাতে রুক্ষসূক্ষ শিমুল ঝড়

অনিশ্চিত অন্ধকারের অজ্ঞাতবাসে

অপ্রচলিত


তখন প্রতিশ্রুতি দেবার অঙ্গীকারে

কূপমণ্ডুক কেঁচো ঘুড়িয়ে ঘাড় পিছিয়ে পড়ার কেঁচে গন্ডুষ কাজে অপকেন্দ্র হবার কেনাগোলাম হয়ে পড়ে 

অভ্যাসগত শ্লথদশায় অজ্ঞাতবাসে 

যেখানে শুরু সেখানে নেই শেষ সেখান থেকেই আবার শুরু,,,,,It is a kind of treatment of repeated oder of wrangle,,,,, 


ক্ষণভঙ্গুর ক্ষয়ের সমুদ্রশৈবালে যখন থমকে আছে এখন আপামর জন জাগরণ,,,,

তখন ক্ষুধামান্দ্যে খুঁদকুড়োয় অন্ন-সংস্থান

নিরন্ন সকাল যেন অজ্ঞাতবাসে কালাশৌচ যাপন





শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২০

## কবিতা: হয়েছে সময় ## দীপঙ্কর


কবিতা: ◆হয়েছে সময়◆

       দীপঙ্কর


এই ক্ষণে হয়েছে সময় ।

মস্তক মুন্ডন করে, কবিতা চিবিয়ে খেয়ে
ঘুমে-জাগরণে নেচে চন্ডাল নাচ.....
চলে যাবো মাড়িয়ে সব মায়া । অনেক খেলেছি খেলা , দেয়া-নেয়া হয়েছে সারা সবাকার।
চলে যাবো এই বেলা-  ভাসিয়ে বুকের ক্ষত হাত ধরে বুড়ো অশ্বত্থের পাতার ।


ভোরের সূর্য গিলেছি সেই কবে কাঙালের মতো ,
তুলতুলে মেখেছি শিশির ফাটা ঠোঁটে , ধরেছি নাঙল- সোনা ভরেছি গোলায় ।
দুই ডানা মেলে রুধেছি ঝড়- ঘর যাতে না টলকায়।
এনেছি প্রিয়ার বাজু- বাজি রেখে ক্ষমতা অসহায় ।


কেটেছি দু'কান নিজ হাতে , ঘষেছি নাক অপরের অপরাধে , সয়েছি স্নেহের যত অন্যায়।
বিকিয়েছি মাথা ভারি বুটে , সুখ এনেছি খুঁটে খুঁটে ,
ঋণ মিটিয়েছি শোণিতের বিনিময়।

আর নয় , আর নয় দেরি । এইবার ঘরে ফিরি।
আঁচল বিছিয়ে  বসে থাকে বোধিসত্ত্ব -আকুল অপেক্ষায়.....

সব মিছা, সব বৃথা- সব স্বার্থের কাদা মাখা।
দিন গেল-- চেয়ে দেখি  রত্নাকর একা কেঁদে ভাসায়.....

এই ক্ষণে হয়েছে সময়....

ছিন্ন করে সব সুতো হেঁটে যাবো কমন্ডুল হাতে কেতু সনে তারায় তারায়।

ঐ.... ডাকে তথাগত।
আয়....  আয়.....



##অণুগল্প: ভাতের গন্ধ##ভারতী দাস


অণুগল্প: ভাতের_গন্ধ

কলমে : ভারতী দাস



সাত সকালে রিফুইজী ক্যাম্পে চাল ফোটার গন্ধে সুরভিত চারপাশ।
            ছন্নছাড়া উদ্বাস্তু লোকগুলো তীর্থের কাকের মতো চেয়ে আছে জ্বলন্ত উনুন টার দিকে।
               চুলের থেকে শেষ বিন্দু তেল উবে গেছে বহুদিন। কোটরগ্রস্থ পিচুটি চোখে উদাস দৃষ্টি। বদলে যাওয়া পৃথিবী টায় ওরা পরিযায়ী শ্রমিক।

ডালে ফোড়নের গন্ধে কঁকিয়ে ওঠে ছেলেটা। চিল চিৎকারে ছিন্ন হয় নিস্তব্ধতা। অল্পবিস্তর কাশি সবার হলেও, নিরন্ন পেটে শিশুর কান্না যেন অসহ্য!

        কোণায় বসে থাকা অচেনা বৃদ্ধার ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায়........
"বলি  অ বৌ, ছিলাটোকে চুপ করা কেনে। একটুকু বুকের দুধ দে কেনে, চুপ হয়ে যাবেক।"

         ঝাঁঝিয়ে ওঠে অষ্টাদশী , তিনদিন পথ চলার ধকলে অবসন্ন শরীর। জঠর পুড়ছে খিদের আগুনে.......
" দুধ থাইকলে তুমায় বলতেই হইতো না মাসি। বেটা তো আমার, পরাণ আমার হু হু করইছে । এই অভাগা দিনে ভাগ্যের সাথে দুধটোও শুকায়ে গেছে গো। তিন দিন জলও পেট ভইরে জুটে নাই।"

বৃদ্ধার চোখ ভিজে আসে, অপলক তাকিয়ে থাকে উনুনের ছাইয়ের দিকে।

পাত পড়তে শুরু করেছে কাঙালী ভোজনের জন্য।



##অণুগল্প:গৃহযুদ্ধ## ভারতী দাস


অনুগল্প: গৃহযুদ্ধ

কলমে : ভারতী দাস




এই লজ্জা আর প্রাণে সয় না। সামান্য একটা চাওয়া, সেটার জন্য এতো কিছু.......
        রাগে গজগজ করতে করতে এসে বসলুম,চায়ের দোকানে। কি ভাগ্যিস সেটা খোলা ছিল! এতদিনের গৃহবন্দী জীবনে একটু মুক্তির স্বাদ।
        দূরত্ব টা বজায় রেখেছিলুম, পুরো এক মিটার। প্রাণে ভয় সবারই তো আছে!
        দোকানের বেঞ্চির শেষ প্রান্তটা একেবারে জাতীয় সড়কের গা ঘেঁষা। এখন গাড়ি চলাচল নেই বললেই চলে। হরিণ গেলা অজগরের মতো পড়ে আছে রাস্তাটা। ইতিউতি এক দুটো মানুষ চোখে পড়লেও, সংখ্যায় খুবই কম।
        মোহন সবে চায়ের জল বসিয়েছে। আমিও মুঠোফোনে নতুন খবরের সন্ধানে ব্যস্ত। চোখ পড়েনি সড়কটার দিকে। একটা পাগলা হাতি কখন যেন চাকার সাহায্যে এলোমেলো ছুটে আসছে..........
গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কিছুতেই, হুড়মুড়িয়ে এসে পড়লো দোকানের ওপর.......
যন্ত্রণা, অসহ্য যন্ত্রণা........
ককিয়ে উঠে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতেই........
হিমশীতল জলের ঝাপটা চোখে মুখে, সাথে তীক্ষ্ণ বাক্যবাণ বিদীর্ণ হল কর্ণপটহ......

"সারাদিন শুধু পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে, আর স্বপ্ন দেখে চেঁচাচ্ছে। দেখে গা জ্বলে যায়।
           তোমায় যে চা পাতা আনতে বললাম, সেটা না এনে, তুমি দিবা নিদ্রায় মগ্ন!বলি, সংসারটা কি আমার একার? "
        হাজার কথার মাঝেও দেখলুম এককাপ চা বেলা বারোটার সময়েও, সরলা রেখে গেছে আমার জন্য।কোথা থেকে যে সবদিক সামলায়,ঈশ্বর জানেন। বড্ড ভালো বৌ আমার। না, কাল সকালেই সব বাজার করে নিতে হবে, না হলে গৃহযুদ্ধ যে কোন দিন শুরু হয়ে যেতে পারে।।

ঈশ্বর যখন লকডাউনে বন্দী গৃহকোণে##সুপ্রীতি বর্মন


ঈশ্বর যখন লকডাউনে বন্দী গৃহকোণে,,,,,,

(( Picture Illustration)),,,,,,,

ফেসবুক টাইমলাইন পোস্ট,,,,

((Bumba Mukherjee))


((Exclusive))

Editorial Note,,,,

সুপ্রীতি বর্মন,,,,



কাউকে কোনকিছু প্রকাশ করতে না পারাটাই হলো সবচেয়ে বড় অজ্ঞাতবাস আর শাপগ্রস্ত কারাগার তার থেকে বড় নৈঃশব্দ্য যাপন কিছু নেই যেখানে সমানে একে অপরের অপ্রতিরোধ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে মনের ভেতর প্রতিশোধ স্পৃহার গুমোট নিঃশ্বাসে যন্ত্রণার আঁচড়ে রক্তাক্ত আধিভৌতিক অক্ষরে লেপ্টে যায় মনুষ্যত্বের নাকাবপোষ মুখোশের আড়ালে থাকা শয়তান যার সাথে ঈশ্বরের সবসময় চলে খাওয়াখাওয়ি যেমন এক নেউলের সাথে চলে সর্পের খ্যানামনা আঁচড়াআঁচড়ি,,,,
অস্থিচর্মসার হাড় কঙ্কালের ম্রিয়মাণ কুঁচকে যাওয়া সোনাঝুরি পাতায় যখন হাড়পিঙ্গলা রাগে পাঁজরের আঁচড়ে টিকে থাকা দায় আগামী দিনের অনিশ্চয়তার পিচ্ছিল কড়ি কৃষ্ণকলির দ্যোতনায় কী হবে কী হবে ওগো শঙ্করী তখন মনমাঝে যূপকাষ্ঠে হরি হরি কৃষ্ণনাম জপে সখী কবে আসবে আমাকে পার করবে তুমি এই জীবন বড় টালমাটাল,,,,,তাই একা একা টিকে থাকা দায়,,,, দুঃশ্চিন্তার শমনে,,,,,


ওদিকে যখন ঈশ্বর প্রতিটি অট্টালিকার পাষাণপ্রস্তরে চিরঘুমে কালযোগনিদ্রায় মগ্ন আর পঞ্চনাগের লেজের ঝাপটায় উত্থিত মথিত কাঠগরায় থাকা মহামারীর প্রকোপে মুর্মূর্ষু রোগাক্রান্ত ক্ষীণায়মান শরীর উঠবো উঠবো করছে চারকাঁধের সমুদ্রে তখন দশটা পাঁচটা চিন্তা গেছে পগার পার ঘরপোড়া লকডাউনে,,,,,
হিমশীতল জমাট পাথরে মৃত্যুর প্রতীক্ষায় অশৌচ সংসার আশ্রম কিংকর্তব্যবিমূঢ় মিছিলে মিথ মানবী ও মানবের দল প্রজন্ম প্রজন্ম ধরে,,,,
তখন আমার রমণীর ঈর্ষান্বিত উল্লাসে আটপৌরে বিলাসী ভব্য স্বর্ণকাতানের শাড়ির আঁচল ধরে আঁকড়ে কাঁদে আমার ঈশ্বর আর কতো সঞ্চয়ের খুদকুঁড়োয় জীবনযাপন করবো বলো তুমি,,,,
আমি যে আর পারছি না,,,,
তখন ঘোর অমাবস্যায় বাইরে দরজা ধরে স্থৈর্য ও ধৈর্য হারিয়ে ফেলে চিৎকার করে পাষাণপ্রস্তরে আটকে থাকা ঈশ্বরের শালগ্রাম শিলা প্রখর ক্ষুধায় চৈতন্য হারিয়ে প্রায় ভক্তি বাৎসল্য রসের সোহাগ আগুনে পুড়ে পুড়ে অস্থিভস্মছাই দারুব্রহ্ম কাঠ হয়ে,,,,
যেন বলতে চায় উন্মুখ হয়ে আমাকে একটু ভালোবাস তোরা আর কিছুই চাই না রে আমার তার জন্য মন্দিরে দশকাটা জমি ডিঙিয়ে তিনতালগাছ সিঁড়ির পর সিঁড়ি পেরিয়ে ঘটা করে উলঙ্গ চাহিদার ঘটি হয়ে আমার কাছে যাবার কোন দরকার নেই রে,,,,, ঘরে বসেই ডাক নিমন্ত্রণ দিয়ে তাতেই আমি ধরা দেবো তোর কৃতাঞ্জলিমুষ্ঠিতে তার থেকে বেশি কিছু চাই না আমার কারণ আমি শুধুই সোহাগের কাঙাল,,,,,,,


অণুগল্প## ফলন ##প্রদীপ দে


অনুগল্পঃ

 ফলন
     

 প্রদীপ দে
     
•••••••••••••••••••••



আকাশের মুখটা ভার। আবার বারিপাতও নেই। নামতা পড়ার মত মিডিয়ায় আবহাওয়া দপ্তরের ঘোষণা ঘোষিত হয়েই চলেছে - সাবধান! ওই বুঝি প্রলয় আসে! রোদ্দুর সকলেই চায়, কিন্তু সেও তো চায় নিস্তারিতে। নিয়মের ঘানি টেনে চলেন এক অশরীরী হর্তাকর্তা যাকে কেউ কোথাও কোনদিন দেখেনি।

চাষা আবদুলের ও মুখ ভার। অকালের বারি যেন তার ক্ষেতের দৈত্য! মাটির ভিতর থাকা তার চাষের আলুর অকাল প্রয়াণ প্রায়! ক্রোড়ের সন্তান মাতৃসম! হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুজরায়।
মানত করে তার বিবি। দরগায় ছোটে, যদি হাওয়ারে ঘুরায়ে দেন তার প্রাণের আল্লা!

এরকমই তো ঘটেছে এবার। বিবির তলার শরীর ভারি হলো। বিয়ের প্রায় দশবছর বাদ। অনেক মানতের পর দুর্যোগ প্রায় কেটে গেল। সবার কথা অমান্য করি আল্লা বুঝিবা তার বিবির শরীরে সেঁধিয়ে গেল। অসম্ভবকে সম্ভব করে বিবির পেট ভরে উঠলো, গরিবি ঘরের এক ছোট্ট কামনাকে স্বাগত জানাতে।

আট মাস কেটেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র বারবার সাবধান বাণী কানের গোড়ায় শুনিয়ে ছেড়েছে - দেখো বাপু একটু বুঝে শুনে চলো, প্রথম পোয়াতি, একটু নজর দিও। নষ্ট যেন না হয়!

আবদুল তার বিবি জাহানারার প্রতি ভালোই নজর দিত। নিজস্ব চাহিদা গুলোকে বিসর্জন পর্যন্ত দিয়ে দিল। ভয়ে স্ত্রীর সঙ্গে যৌনতার ইচ্ছে ভুলে যেত। তার একটিই মনস্কামনা তাকে তাড়িত করতো তা হলো ঘরের বাইরে ক্ষেতের ফসল যেন ঘরে উঠে আসে।

এইরকম পরিস্থিতিতে বারবার ঘোষণা, ঝড় -জলের আগাম পূর্বাভাস তার অশান্ত মনকে বড়ই বিচলিত করে তুললো। বাইরের ক্ষেত নিয়ে যখন দুর্যোগ তাকে পীড়ন করছে ঠিক তখনই ভিতরে বিপদ তাকে ছোবল বসালো।

জাহানারা বিবি বাথরুমে পড়ে গেল। রক্তপাতের দরুন গর্ভপাতের সম্ভাবনা প্রবলভাবে দেখা দিল। হাকিম এলো, পরীক্ষণের পর দাওয়াই দিল। কিন্তু আশঙ্কা তীব্রতর হলো,যখন গর্ভস্থ শিশুর অস্তিত্ব নিরুপণ করা কষ্টকর হয়ে পড়লো। মহিলা  প্রতিবেশীরা সকলেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল,জান দিয়ে পারলে, সন্তানটিকে বাঁচা‌তে সচেষ্ট হলো।


এদিকে কালোমেঘে আকাশ ছেয়ে গেল। প্রচন্ডভাবে প্রকৃতি তার বায়ু ছোটাতে শুরু করলো - যার নাম ঝড়। বড় বড় গাছগুলো তাদের প্রচন্ড শক্তিতে সেই ঝড়ের সঙ্গে লড়তে থাকলো। আবদুল এ অবধি ঠিক লড়াই চালাচ্ছিল নিজের সঙ্গে,  কিন্তু  একেবারেই ভেঙ্গে পড়লো যখন তীব্র বায়ুর সঙ্গে বৃষ্টির সূচনা সূচিত হলো।

বাইরে প্রকৃতি তার ধ্বংসাত্মক লীলা খেলায় ব্যস্ত। ঝড় -জলে মাটি ধুয়ে গেল, আর আবদুলের বুকের পাঁজর যেন ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে যেতে থাকলো - ফসলের আলু তার আর ঘরে উঠবে না -এই আশঙ্কায়।

ভিতরে তখন হাকিম আর মাসিদের আরো এক লড়াই চলতে থাকলো আবদুলের ফসল কে বাঁচানোর জন্য। আবদুল এতটাই অসহায় হয়ে পড়লো যে আল্লাহর কাছে মানত করার কথা মনেও এলো না।
----------------------


##মৃত্যুর এসরাজ## টুটুল ওয়াহিদ


কবিতা: মৃত্যুর_এসরাজ

টুটুল ওয়াহিদ



আমি তোমাকেই মেনে নিয়েছিলাম যদিও সময়ের কাছে কখনো নিমেষেই মুছে যায় আত্মার নিগূঢ় সম্পর্ক তাই আজ আর আমি কিছু চাইতে আসিনি  ---

ভোগের উন্মাদনায় যখন মৃত্যুর বিন্যাস তখনো সময় চলে সময়ের নিয়মেই অনন্তের পথে --
তবুও আমি তোমাকেই মেনে নিয়েছিলাম !
কিন্তু বার বার স্বপ্নভঙ্গের বাস্তবতা আর আমার নিদ্রাহীন অপলক দৃষ্টি আজ ঐ প্রাসাদ চূড়ায় --
যেথা ভোগের শতরঞ্জি খেলায় স্বপ্নের মাতম বোড়ের অট্টহাসির লেলিহান লালায়।


আমি তোমাকেই মেনে নিয়েছিলাম --
অথচ আজও হালাকু চেঙ্গিসের সিনা টানে আমার দামের চৌকাঠে পড়ে বিষাক্ত নিঃশ্বাস !
তেমনি জাগতিক হিংসা - ভয়াল প্রবঞ্চনা
আর লালসা কাতর রঙিন চোখ
যা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক তা আজ আত্মকেন্দ্রিকতায় কেন্দ্রীভূত হয়ে আরো যেন প্রকট !
আমার সামনে - পিছে - ডানে - বাঁয়ে
শুধু হাত আর হাত --
তাই ক্ষুধার এক অস্পষ্ট প্রতিচ্ছায়া দেখতে পাই আমাকে ঘিরেই অদূরে ,
যদিও এখনো সলতে পোড়া গন্ধে বেড়ে চলেছে গুমোট --
হয়তো আর ক্ষণিক বাদেই বেজে উঠবে মৃত্যুর এসরাজ ! অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মত চারিদিকে --
শুধু একটিই আওয়াজ শঙ্খনিনাদে
ভাত না দিস ফেনটুকুই দে।


আমি তোমাকেই মেনে নিয়েছিলাম --
কিন্তু অবাক বিস্ময়ে যখন দেখি আমার ক্ষুধার উদরেই পোষ্টমর্টেম চলে বারংবার অথচ তাতেও প্রতিধ্বনিত হয় তোমার অমল স্তুতি ছেয়ে যাওয়া পোস্টারে ফেস্টুনে !
হয়তো এমনি করে একদিন তোমার ভাস্কর্যও শোভা পাবে আমার ভস্মীভূত এ নাভিমূলে --
অথচ কি সামন্যই না আমার চাওয়া
স্রেফ একটি ছায়া বৃক্ষ --
যদিও আমার হাতে আজন্ম ভিক্ষার পাত্রই ছিল --
বলতে পারো শূন্যতার অহংকারে এ আমার স্বাধীনতার খোঁজে ফিরা ,
শুধু জেনে রাখো এ এক নতুন সময় নতুন করে জন্ম নিবার --
আক্রোশের দাঁতগুলো যেন সাম্যের গান গেয়ে চলেছ শেষ আশ্রয়ে --
বানের জলের মত ধেয়ে আসা সেই কলকল ধ্বনি তুমি শুনতে পাও বা নাইবা শোনো  --
আসছে বিস্ফোরণ যে আমার রক্তচোষা প্রাসাদ গুড়িয়ে দিবার।


তাই এবার না হয় আমার কবরের মাটিতেই পুঁতে যাবো--
শতবর্ষী নয় এক চিরঞ্জিব বৃক্ষের
চারা।


## ডর লাগে না খিদা লাগে খাতি দে## সুপ্রীতি বর্মন


Classified news segment:

("ডর লাগে না খিদা লাগে খাতি দে"),,,,,

প্রচ্ছদের চিত্র সংগৃহীত মনোজ হালদারের টাইমলাইন থেকে,,,,,


Editorial Note:

Picture Illustration,,,,,

সুপ্রীতি বর্মন,,,,



কঙ্কণে-সিঁদুরে ধন্যা শঙ্করী কাঁধবদল করে সমগ্র সংসারের দিন আনা দিন খাওয়া দিনমজুরের কাজে কপালখাকি খিলানে যখন ছোবলভরা চঞ্চল ভবিষ্যত এর আখের গোছাতে ব্যস্ত সেই সময় শিবের গাজনে শাপগ্রস্ত তালা ঝোলায় লকডাউন,,,,

হাহাকার ক্ষুধার অভিশাপে পৃথিবী যখন গদ্যময় তখন শীর্ণ ঠোঁটে ক্ষিধের চাবুক পঞ্চকন্যার মায়ের পিঠে মারতে থাকে অশ্বক্ষুরের মতন,,,,,
কালশিটে দাগ মাতৃত্বের আঁচল ফুঁড়ে ফুঁসে উঠে ঐ কুটিল হাঙর শরাবী স্বামীর সাথে প্রত্যহ ঝগড়া উঠতে বসতে খরার উপোষে জীবন তখন পোড়াধরা তাল তাল মাটি হয়ে যায় একটু এই আঁকড়া জ্বরের প্রকোপ থেকে বাঁচতে জল চায়,,,,,


যে সোহাগের বীর্যরস শুষে একদিন সন্তানকণিকার জন্ম হয়েছিল রাতের জঠরে যখন প্রখর ক্ষিধে চাগাড় দিয়ে উঠে তখন মহেশ্বরের জটাজুট কেশবল্কলকুঞ্জে আশ্রিতা গঙ্গার কোলে আকন্ঠ-রোষে সমর্পণ করাই শ্রেয় বলে ভাবে এক মাটি হারানো হাভাতে মা,,,,

তাই জঘন্য কুরুচিকর সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হয়নি সেই কোমর ভাঙা মা,,,,,
ছুঁড়ে ফেলে একের পর এক সেই পঞ্চকন্যা কে গঙ্গার বুকে যাতে চিরতরে অন্তর্জলি যাত্রায় জন্মের মতন ঘুচে যায় খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা ধিকিধিকি কাঙাল শরীরের জিয়ন কাঠির সহ্যশক্তি,,,,,


চ্যালাকাঠের কোন প্রয়োজন নেই পঞ্চভূতে আপনা আপনিই হয়ে যাবে গ্রহণ তার কন্যারা,,,,
এইসব সাত পাঁচ ভেবে যখন এক কপালখাকি মাগি চিলচিৎকার ছাড়া আঙুলের ক্ষিপ্র চালে পাঞ্চজন্য বাজিয়ে তোলে নৈঃশব্দ্যের যাপনে শুধুমাত্র একটু শান্তির ঝংকারের ঋণে তখন কেমন করে সেই দৃশ্য চোখে পড়ে যায় গঙ্গার পারে থাকা বিন্দুবিসর্গ না জানা জেলের দলের যারা ক্ষিধের তাগিদে মাছ ধরতে ফেলেছিল জাল যেন তারা ঐ এক‌ই সহমরণের যাত্রী ঐ কপালখাকির সাথে,,,,,,


রাত্রির জঠরে যখন শীতকটিবন্ধে জাঁকিয়ে বসেছে এক মা অসহায় হয়ে এক প্রখর পরাধীনতার শৃঙ্খলে,,,,,
তখন আপন সন্তানদের ধিক্কার ও ঘৃণায় অশ্রুর রজ্জুতে বাঁধা মৃত্যুঝাঁপে ছুঁড়ে মারবে বলে স্বৈরাচারে কেমন করে যেন তার সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে চেপে বসে এক ছিন্নমস্তা মাথা ছাড়া,,,,,
বোধবুদ্ধি কিংবা হিতাহিতজ্ঞান শূন্য,,,,
যার রূপরঙে তখন ঝলসে উঠে এক ক্ষাপাটে ডাইনি যে নিজের ছেলেকে নিজে খেয়ে খলবলিয়ে হেসে উঠে শীঘ্রপতনের অট্টহাস্যে,,,,,
জেলেরা তখন সেই কান্ড কারখানা দেখে ভয়ে শুকিয়ে কাঠ জাল ফেলে পালায় সেই চর থেকে,,,,
ঐ যে কথায় আছে না আপনি বাঁচলে বাপের নাম,,,,,
তাদের অবস্থা ঠিক তখন ঐরকম অনেকটা হয়ে গেছিল যে কী দেখছে কেন বা কী দেখলো কিছুই তাদের মন ও মাথায় ঢোকে না কী বিভীষিকা কান্ড যা ভুলে থাকা যায় না,,,,,


কিন্তু কপালখাকি মা তার ঘরের খিলানগুলো হারিয়ে আর কোন ভরসায় ফিরে যাবে সে নিজের ঘরের চালে কারণ সে এখন সর্বগ্রাসী ক্ষুধার বৈশ্বানরে নিজেকে নিংড়িয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ রূপে কাঙাল হয়ে গেছে,,,,
নতুন করে ফিরে পাবার বা হারিয়ে যাবার কোন ভয় আর নেই তার তাই ঘরে ফেরার কোন তাগিদ তার মধ্যে চাগাড় দিয়ে ওঠে না,,,,


অতন্দ্র প্রহরীরা তখন দৌড়ে আসে সেই জায়গায় আর খানাতল্লাশি চালাতে থাকে কারণ অন্বেষণের জন্য তারা যেন মরিয়া হয়ে উঠে,,,,,
কিন্তু এক পাগল মা তখন মানসিক দ্বন্দ্বে অবসাদে সম্পূর্ণ রূপে অজ্ঞাতবাসী হয়ে গেছে,,,,,
সে তখন অমনোনীত হয়ে গেছে সাংসারিক চাহিদার শোকের থেকে সম্পূর্ণ কাছছাড়া,,,, নিজের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব খুইয়ে এক শনিশ্চরী যার আর নতুন করে কোন আতঙ্ক রেখে তার বৃশ্চিক দংশনের দীর্ঘশ্বাসে প্রতিনিয়ত নিজেকে মেরে নতুন করে জেগে উঠার কোন প্রয়োজন নেই,,,,,,


প্রাসঙ্গিক একটি কবিতার ছেঁড়া চালচিত্র তুলে ধরা হলো,,,,,,,

ভাত দে হারামজাদা

- রফিক আজাদ


ভীষণ ক্ষুধার্ত আছিঃ উদরে, শরীরবৃত্ত ব্যেপে
অনুভূত হতে থাকে- প্রতিপলে- সর্বগ্রাসী ক্ষুধা
অনাবৃষ্টি- যেমন চৈত্রের শস্যক্ষেত্রে- জ্বেলে দ্যায়
প্রভূত দাহন- তেমনি ক্ষুধার জ্বালা, জ্বলে দেহ
দু’বেলা দু’মুঠো পেলে মোটে নেই অন্য কোন দাবী
অনেকে অনেক কিছু চেয়ে নিচ্ছে, সকলেই চায়ঃ
বাড়ি, গাড়ি, টাকা কড়ি- কারো বা খ্যাতির লোভ আছে
আমার সামান্য দাবী পুড়ে যাচ্ছে পেটের প্রান্তর-
ভাত চাই- এই চাওয়া সরাসরি- ঠান্ডা বা গরম
সরু বা দারুণ মোটা রেশনের লাল চাল হ’লে
কোনো ক্ষতি নেই- মাটির শানকি ভর্তি ভাত চাইঃ
দু’বেলা দু’মুঠো পেলে ছেড়ে দেবো অন্য-সব দাবী;
অযৌক্তিক লোভ নেই, এমনকি নেই যৌন ক্ষুধা
চাইনিতোঃ নাভি নিম্নে পরা শাড়ি, শাড়ির মালিক;
যে চায় সে নিয়ে যাক- যাকে ইচ্ছা তাকে দিয়ে দাও
জেনে রাখোঃ আমার ওসবের কোন প্রয়োজন নেই।

যদি না মেটাতে পারো আমার সামান্য এই দাবী
তোমার সমস্ত রাজ্যে দক্ষযজ্ঞ কাণ্ড ঘ’টে যাবে
ক্ষুধার্তের কাছে নেই ইষ্টানিষ্ট, আইন কানুন-
সম্মুখে যা কিছু পাবো খেয়ে যাবো অবলীলাক্রমেঃ
থাকবে না কিছু বাকি- চলে যাবে হা ভাতের গ্রাসে।
যদি বা দৈবাৎ সম্মুখে তোমাকে ধরো পেয়ে যাই-
রাক্ষুসে ক্ষুধার কাছে উপাদেয় উপাচার হবে।
সর্বপরিবেশগ্রাসী হ’লে সামান্য ভাতের ক্ষুধা
ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসে নিমন্ত্রণ করে।

দৃশ্য থেকে দ্রষ্টা অব্দি ধারাবাহিকতা খেয়ে ফেলে
অবশেষে যথাক্রমে খাবো : গাছপালা, নদী-নালা
গ্রাম-গঞ্জ, ফুটপাত, নর্দমার জলের প্রপাত
চলাচলকারী পথচারী, নিতম্ব প্রধান নারী
উড্ডীন পতাকাসহ খাদ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর গাড়ী
আমার ক্ষুধার কাছে কিছুই ফেলনা নয় আজ
ভাত দে হারামজাদা,
তা না হলে মানচিত্র খাবো।


বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০

শাহরিয়ার সোহেল চৌধুরী # কবিতাগুচ্ছ #


১..# শব্দজাত #
----------------

শাহরিয়ার সোহেল চৌধুরী


ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ




পয়গম্বররা বহু আগেই পৌরাণিক শুদ্ধ গ্রন্থে আশ্রয় নিয়ে নিয়েছেন। এই সুযোগে ভুল-ভুলাইয়া অন্ধ অনুগতরা মসজিদ-মন্দির-গির্জা-প্যাগোডাকে রক্তের রঙ্গে সাজাচ্ছে প্রতিদিন।
আর কোনও বলশেভিক মু্ভমেন্ট হবে না। মিলিয়ন মার্চ হবে না মার্টিন লুথার কিংয়ের পায়ে পায়ে। বব মার্লি গাইবে না আর ঝাঁঝালো র্য্যাগে। কোনও এক চে গুয়েভারার চুরুটের অগ্রভাগে জ্বলবে না বিপ্লব।
ভাঙ্গবে না বার্লিন প্রাচীর। প্রতিবাদ-প্রতিরোধে জেগে উঠবে না তিয়েনমান ও তাহিরি স্কয়ার কিংবা অপরাজিত বাংলা মিছিলে মিছিলে।
উন্মাদ,ভাঁড় আর রক্তলিপ্সু দু পেয়ে দানবেরা ক্রমাগত দখল করে নিচ্ছে মানুষের অস্তিত্বকে। গিলে নিচ্ছে মানুষের বাক, শেখাচ্ছে মৌনতা।  গিলে নিচ্ছে বন-বাদাড়, নদী-জল, মৃত্তিকা এমনকি মেঘ ও আকাশ!
আর ওই যে আমরা আম বলি না যাদের সেইসব মানুষ আরোও ক্রমেই কেঁচো হবে, প্যারাসাইট হবে মানুষ। মেরুদন্ড লোপ পাবে বিবর্তনবাদে।
আমরা ভাববাদীরা ভেবে নেবো আমাদের অপারগতায় প্রকৃতি প্রতিশোধ নিচ্ছে করোনা ভাইরাসে। তাই যদি হয় তবে তাই হোক অবলীলায়!...

তারপর কোনও এক আগামীতে শিশুরা সহপাঠ বইয়ে একটা ননসেন্স রাইম পড়বে-
''সৈনিকের হুলে ছিল ঘুম পাড়ানিয়া
অদৃষ্ট কিনেছিল রাজা উৎপাতে,
বিপ্লব গল্পটা শুনেছি ভুলের মাশুল
বিক্রি হয়েছে কোন এক কালোরাতে!''
(দহন)
---------------------------------------------------------------



২..# শব্দজাত #

----------------

শাহরিয়ার সোহেল চৌধুরী



ইদানিং আমি প্রায়শ্চিত্তের ঢেকুর তুলছি-

ফিরে আসা দোয়েল-শালিকের বিচ্যুত পালকে,

ঈষৎ নীলের আঁচড় বেড়ে যাওয়া আকাশের দিকে চেয়ে।

ঘরের কোণে মাকড়সার জাল ঝেড়ে-মুছে

জানান দিচ্ছি আমার ভৌত গাহর্স্থ্য,

বারবার বার্নিশ করছি ধোয়া হাত

শিশুসুলভ প্রিয় স্কেচে রাবার ঘষার ভুল মুসাবিদায়।

ইদানিং আমি জোরপূর্বক আস্তিকতার সঙ্কট জানান নিচ্ছি-

ফেলে রাখা জায়নামাজের পরিপাটি বেশভূষায়,

ধুলোর আস্তরণ মুছে মধ্যযুগের পবিত্র গ্রন্থের অবুঝ আবৃত্তিতে!

হিমবাহ গলা পৌরাণিক অভিশাপের বাষ্পীয় আদলে,

লাল-নীল নির্বাসনে কিংবা অমল-ধবল স্বেচ্ছা কারগারে;

জানি ইদানিং আপনিও ভালো নেই মোটেও।

ভেকধারী হয়েছেন আমার মতোই!

বেঁচে থাকার শর্ত ও সময়সীমা পেরোলেই-

ফের মুখোশ পুড়াবেন কড়াত কাটা গাছের আঁচে,

পবিত্র হবেন সাগর জলে পেট্রল ছিটিয়ে!

--------------------------------------------------------------


৩..# শব্দজাত #
---------------
শাহরিয়ার সোহেল চৌধুরী


⏩⏩

বিলুপ্ত পেঁচারা হঠাৎ ভুতুড়ে ডাক দেয়।
ইট-পাথরের আড়ালে পালায় বিস্মৃত শহুরে শেয়ালের দল। ল্যাম্পপোষ্টের ছায়ায় প্রচ্ছায়ারা দল পাকায়!
তারপর...
বৃহন্নলা পোকা গুনগুনিয়ে শুধায় -
'ভালোবাসা কিনবি কী না বল?'
পতিতার কন্ঠে নেই শীৎকার,
নেই কোনও পিচ্ছিল মনোবল।
(দহন)


⏩⏩

আমি পোড়ার গন্ধ পাই।
হৃদয়ে আউরানো কবিতা পোড়ার ঘ্রাণ।
সে কি এসব টের পায়?
যে গোলাপজলে মিশিয়ে বিকোয়
আমার কবিতা, প্রেয়সীর অপারগতা,
অগুণতি মানুষের মুখ
কিংবা মানচিত্রের অকপটতা।
ছাইভস্মের সুবাসে তোমাকে তাড়াবো হে গন্ধবণিক!
(দ্রোহ)


।।শাহরিয়ার সোহেল চৌধুরী #শর্টকাট#..."সংক্রমণ"।।


#শর্টকাট#
--------------
📌 সংক্রমণ 📌
------------------------


শাহরিয়ার সোহেল চৌধুরী



তসলিম হাঁপাচ্ছে।
মেয়েটার উত্তাল নগ্ন বুক জোড়ার উপর মাথা রেখে এখন জিরিয়ে নিচ্ছে সে।
তার সারা শরীর ঘর্মাক্ত। রমণক্লান্তিতে আর অবর্ণনীয় শরীরি আনন্দের রেশে তার চোখ দুটো বুজে এসেছে।
রাস্তার এক বারবনিতা এত শারীরিক সৌন্দর্যের অধিকারী হতে পারে আর এতটা সুখ দিতে পারে সেটা তার কল্পনাতেও ছিল না। আর মেয়েটা সাড়াও দিয়েছে দুরন্ত উন্মাদনায়। ঘরের বউও এতটা সক্রিয় হয় না!
তসলিম পেশায় ট্রাক চালক। এই জীবনে ভালো-মন্দ, বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে কম মেয়ে মানুষের শরীর তো আর চাখা হয়নি তার। কিন্তু আজকের এই মেয়েটার মতো সে খুব কমই পেয়েছে।
মেয়েটার সাথে তার দেখা আজ রাকে মনতলা ব্রীজের পূর্ব পার্শ্বে। ট্রাক থামিয়ে প্রাকৃতিক কাজ সারতে দাঁড়িয়েই মেয়েটাকে দেখে সে। সস্তা মেকআপের উগ্র সাজ সজ্জাতেই যা বুঝার বুঝে নেয় সে।
রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের ফ্যাকাশে আলোতে অদ্ভুত সুন্দর লাগছিলো মেয়েটাকে। সস্তা লাল শাড়িতে ঢাকা যাচ্ছিল না প্রকটভাবে ফুটে উঠা মেয়েটার শরীরের উন্মাতাল চড়াই-উতরাই। একটা পতিতার দেহ গঠন সিনেমার নায়িকাদের মতো এতটা নিখুঁত হতে পারে তসলিম না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারতো না।
সবচেয়ে অদ্ভুত ছিল মেয়েটার গায়ের রং। কেমন যেন লালচে ভাব। আগুনের আঁচে পোড়া লাল মাংসের মতো! লাল শাড়ী আর লালচে গায়ের রং এ রাতের আলো-আঁধারিতে যেন এই মেয়ে তার অপুর্ব মুখশ্রী আর দেহ গঠনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
মেয়েটাকে ইশারা করতেই সে কাছে এসেছিল। টাকা-পয়সা নিয়ে বনিবনা হতে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি। মাল খালি করে ফেরার পথ বলে হেলপার ছেলেটাকে আগেই নামিয়ে দিয়েছিল। মেয়েটাকে তার পাশের সিটে বসিয়ে ট্রাক নিয়ে রওনা হয়েছিল তসলিম। একটু নির্জন রাস্তা পেতেই ড্রাইভিং সিটের উপরেই সঙ্গমে লিপ্ত হয় তসলিম।
এখন তসলিমের রমণক্লান্ত শরীরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে মেয়েটি। চোখ বুজে চূড়ান্ত সুখের আনন্দটা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছে। মেয়েটার শরীর অস্বাভাবিক রকম উত্তপ্ত। ভেতর-বাহির দুটোতেই যেন উনুনের আঁচ। একজন বাজারে মেয়েকে শারীরিক সম্পর্কের গৌণ সময়টায় এতটা উত্তপ্ত করতে পেরেছে ভেবে তসলিমের আত্মতৃপ্তি আরো ও বেড়ে গেল।
তবে মেয়েটার একটি অস্বস্তিকর বিষয়ও রয়েছে। সেটা হলো তার গায়ের ঘ্রাণ। কেমন যেন মাটি পোড়া তীব্র একটা ভাব। কাঁচা ইট পোড়া গন্ধের মতো।
একজন বেশ্যার কাছে যতটুকু পেয়েছে সেটাই তো তসলিমের চিন্তার বাইরে। গায়ের ঘ্রাণের বিষয়টা বিবেচনার কী দরকার? বাড়িতে ফিরে সাবান দিয়ে ডলে ডলে গোসল তো এমনিতেই করতে হবে! মনে মনে ভাবলো তসলিম।
মেয়েটার শরীর থেকে উঠতে উঠতে তসলিম জিজ্ঞেস করলো - 'কিগো লাল সুন্দরী তোমার নামটাই তো জানলাম না। কী নাম তোমার সই?'
আধশোয়া মেয়েটা খিলখিল করে হেসে উঠলো। চাপাস্বরে বললো- 'ফুলি। চামড়ার রংয়ের লাইগ্যা নানী ছোটবেলায় ডাকতো আগুন ফুলি!'


সেদিন ভোর রাত।
নিজের ঘরে ঘুমের মধ্যে ভয়ঙ্কর এক স্বপ্ন দেখলো তসলিম। আগুন ফুলি নামের মেয়েটার সাথে কোন এক নদীর ধারে ঘুরে বেড়াচ্ছে সে। মেয়েটার শরীরের লাল রং এর শাড়ি তে হঠাৎ কোথা থেকে যেন আগুন ধরে গেল। তসলিম তা নেভাতে চেষ্টা করতে গিয়ে তার শরীরেও আগুন ধরে গেছে।
তীব্র যন্ত্রণা আর দুঃস্বপ্নের ভয়াবহতায় ধড়মড়িয়ে জেগে উঠলো তসলিম। ওর সারাটা শরীরে এক ধরনের জ্বালাপোড়া। কোন মতে ঘরের লাইট জ্বালালো সে। নিজের শরীরের দিকে চেয়ে অাতঙ্কে চিৎকার করে উঠলো। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পোড়া পোড়া ফোস্কা উঠা ঘায়ে ছেয়ে গেছে।
তসলিম তখনো জানে না এই দুঃস্বপ্নটা প্রায়ই দেখবে সে। আর ফোস্কা পড়া পোড়া ঘা আরোও বাড়তে থাকবে। যার সংক্রমণ তাকে মৃত্যু অবধি নিয়ে যাবে।


অন্য আরেক রাত। অন্য আরেক শহর।
পুলিশ হাবিলদার মোজাম্মেল প্রচন্ড রমণতৃপ্তি নিয়ে শুয়ে আছে মেয়েটার ভরাট বুক জোড়ার উপর।
পৌর পার্কের পাশের নদীতে একটা নৌকার ভেতর এই নিষিদ্ধ অভিসারে মেয়েটার সাথে মিলিত হয়েছে সে। অসাধারণ দেহ সৌন্দর্যের অধিকারী বাজারে মেয়েটা তাকে দিয়েছে এক অনাবিল শারীরিক তৃপ্তি।
মেয়েটার শরীরটা আসলেই অদ্ভুত। অকল্পনীয় ফর্সা। ফ্যাকাসে বরফ শুভ্র দুধে আলতার মতো গায়ের চামড়ার রং। শরীরটা যেন বার্নিশ করা মোম গলা পিচ্ছিল। এত মসৃণ আর মিহি ত্বক মানুষের হয় ? গোটা শরীরটা যেন বৃষ্টির ফোঁটার জমাট হিমের মতো। তবে গায়ের ঘ্রাণটা কেমন যেন আঁশটে আঁশটে। ফ্রিজে রাখা মাংসের মতো!
মেয়েটার শরীরের সাদা রংয়ের শাড়ির আঁচল দিয়ে নিজের মুখের ঘাম মুছলো মোজাম্মেল। ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলো- 'কী রে সাদা পক্ষী তোর নামটাতো কইলি না?'
মোজাম্মেলের শরীরের নীচে খিলখিল করে হেসে উঠলো মেয়েটা। জড়ানো কন্ঠের মাদকতায় অস্ফুটে বললো - 'নাম ফুলি। ছোটবেলায় শইল্যের রংয়ের লাইগ্যা নানী ডাকতো বরফ ফুলি!'
----------------------------------------------------------