শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০১৯

চাণক্য বাড়ৈ

চাণক্য বাড়ৈ - এর কবিতাগুচ্ছ


সনেট-১

আবার এসেছি বঁধু, ধরো এই কাঙালের হাত
উন্মাতাল ভ্রমরে নাও পদ্ম ফোঁটা বক্ষের বাগে,
বিরলে উঠুক জমে দুজনার কামের মৌতাত
শোয়াও সোনার খাটে, স্বর্গ রচি সোহাগে-সম্ভোগে।
অধর তূণীর হতে লক্ষ্যভেদী তীরন্দাজ নারী
তিলের ঐ তীর ছোঁড়ো; সমর্পনে পুরুষের সুখ
প্রেমের সীমার তুমি তীক্ষèধার তনু-তরবারি
বসনের আধার হতে নির্দ্বিধায় করো উন্মুখ।

কে কবে কম কোথা কামিনীর কায়ার কেরামতি
যেভাবে দিয়েছ নারী ডেকে নিয়ে বেহেস্তের ফল!
লাল লেহেঙ্গা ফেলে লজ্জাবতী লো, সাজো লীলাবতী
রূপের তর্জমা করি, পান করি অমৃত গরল।
কার্পণ্য করেনি বিধি, পেলে তাই অনন্ত যৌবন
নিরুত্তরে আছ কেন শোনো নাকি কবির ক্রন্দন?





সনেট-২

রতির আফিম নিয়ে ধীর বেগে নেমে এল রাত
যৌবন শরাব তুলে এলে তুমি দয়িতা আমার
নিষিদ্ধ লবণ স্বাদে এসো ভুলি হারানো জান্নাত
তোমার বসন আজ রমণীয় রাতের আঁধার
পিদিম নিভিয়ে দাও ফিরে যাই আদিম গুহায়
খুঁজে দেখি কোথা আছে আঁধারের সপক্ষ বচন
অলক এলিয়ে এসো সুগন্ধি ছড়িয়ে হাওয়ায়
সর্বাঙ্গে বিলাও সখি, ঈষদুষ্ণ মদির চুম্বন।

রাতের প্রহর গুণে বাড়ে সখী তোমার তিয়াস
তনুর পেয়ালা হতে ঢেলে দাও ফেনিল শরাব
স্মরণীয় হয়ে থাক আজিকার রজনী বিলাস
রাতের মাহাত্ম্য নিয়ে শাস্ত্রকার লিখুক কিতাব
সরল স্বীকার শোনো, পুরুষের মিথ্যা বাহাদুরি
কবির কাব্যের গাছে চিরকাল জল ঢালে নারী।

সনেট-৩

কর্ষণে নিমগ্ন চাষা খুলে দেখি পুবের দুয়ার
এ বর্ষণে ফলাবে সে মুঠি মুঠি সোনার ফসল
এক হাতে পুষ্ট বীজ স্বপ্ন চোখে অজস্র অপার
মাটির জঠরগামী অন্য হাতে লোহার লাঙল
ফালের আঘাত সয়ে কেঁপে ওঠে অনাবাদী জমি
মেঘের গর্জন শুনে তড়পায় কৃষাণের বুক
সাপের জিভের মতো যেই জ্বলে অস্তাচলগামী
বঙ্কিম বিজুলি ছটা কাঁদে এই বুকের ডাহুক।

দিন, ক্ষণ, তিথি গুণে এ কৃষাণ দিতে পারে চাষ
নরম কাদার মতো যদি হও শয্যায় সরস
আমার মৃত্তিকা তুমিÑ ব্যক্ত করি এই অভিলাষ
কুল রক্ষা করো যদি, পান করো রতির চরস
বর্ষণে সৃজনে সুখ প্রকৃতির এই শুদ্ধ রীতি
শিয়রে দাঁড়িয়ে কবি; একবার দাও অনুমতি।


সনেট -৪

কুসুম বদনে বঁধু কত মধু করেছ ধারণ
কারে যাচি মুখখানি ভিজিয়েছ রূপের সুধায়
রূপে তব লেখা আছে বল সখী কাহার মরণ
আলোর ঝলকে দেখো হারায়েছি ফড়িঙ হৃদয়
প্রেমিক পুরুষ আমি যেন এক কামার্ত মদন
কেন দাও দাহ দেহে দগ্ধ করো কিসের আশায়
শিশিরে সিনান করি কামরাঙা কোমল নয়ন
কেন করো পরাজিত ছলনার কপট পাশায় ?

কাতর কায়ায় কেন মেখে রাখো কামের কাজল
চুলের খোঁপায় বুঝি ছল করে আমাকেই বাঁধো
আমারে জড়াতে বুঝি পেতে রাখো বুকের আঁচল
বাঁশির বিরহী সুর কেন বঁধু সকরুণ সাধো
কেন এত প্রহেলিকা কেন বলো এত ছলাকলা
অবুঝ কবির কাছে কিছু তার যাবে নাকি বলা ?

সপ্তর্ষি মিষ্টু বসু


নব্য

সপ্তর্ষি মিষ্টু বসু


অস্থির নিরাপত্তায় পুড়িয়ে দিলে

প্রাচীন হাজার শ্লোকের কল্প অভিধান-

ব্যবহারিক গতি-বিধি,নিয়ন্ত্রিত রীতি-নীতির

সামাজিক পূর্ণাবয়ব নির্বিশেষে প্রগাঢ় প্রেমানলে

ভাসতে থাকে কোজাগরী ধোঁয়া সম্পৃক্ত বাতাসে

সুললিত আতরের ঘ্রান মাখা উদ্ভাসিত জোছনা

মাঝে ভিড় করে অনাদি অপেক্ষমান লাখো জীর্ণ

যুগ্ম ছায়া,হৃদয় গহীনে অতৃপ্তির কালশিটে

রেখা ধুয়ে এগিয়ে যেতে বর্ণিল প্রেমের দিগন্তে…


ডেকোনা ওদের,উলু দাও,

শঙ্খ লেগেছে মনে মনে।

     

রূপকথা

সপ্তর্ষি মিষ্টু বসু


তোমার বর্ণনায় যে সমস্ত ফুল ফোটে,

তার চারপাশে আমি আমার রঙের প্রজাপতি

এনে রাখি কোলাহলে বাঁধি ছন্দবদ্ধ ভ্রমর

নদীর ছলাৎছল,আর দূর থেকে কামুক বাতাস ডেকে

এনে ছড়িয়ে দি এষণা পাড়ার মেঘ,



বৃষ্টি হয় কিছুক্ষণ...



ঠাণ্ডা হয়ে যায় কফি,

হলুদ আলোর বেণী খুলে কাছে এসে দাঁড়ায় বিকেলের রোদ

তোমার চোখের তারার উচ্ছলতায় আনমনে আঁকতে থাকি

জোনাকির আলপনা,লাল বাড়ি,নীল জোছনা,ঘোড়ায় টানা গাড়ি..

ঝরতেই তুমি থাকো,বলতেই থাকো,

আর ভিতরে ভিতরে আমি আয়োজন করি রূপকথার গৃহপ্রবেশ...




ইচ্ছা অনুপ্রবেশের

সপ্তর্ষি মিষ্টু বসু



তুমি আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে দুটো নদী এঁকে দিয়েছিলে

দূর প্রান্তরে যেখানে কালো মাটি লাল মাটির হাতে ব্যাটন

তুলে এগোতে বলেছিলো,তার ঠোঁটের গোড়ায়

টই টই নীলাভ জলে মিঠে বাতাস আলপনা আঁকতে আঁকতে

মাছের সাথে গল্প করছিলো,আর চাঁদের ছিপ ধরে নেমে

আসছিলো একটা একটা করে তারা,তাদের দ্যুতিময়

বিশাল বিশাল শরীর কেমন যেন ঠিক নদীর বুকে

আংটির মতো বসে যাচ্ছিলো মাপে মাপে,শুকনো পাতার

ভেলায় কালো পিঁপড়ের রথে চড়ে জড়ো হচ্ছিলো খুশির অসুখ,

হুলস্থূল,হৈহৈ উৎযাপন শুনে আমারও বেদম উত্তেজনায় নীল জোনাক

পিঠে চড়ে যেতে ইচ্ছা করছিলো আহ্লাদী সুরের জোছনা উপকূলে

প্রাণের কলস ভরে নিতে চাইছিলাম খুব অপার্থিব মোহনার নিভাঁজ তরঙ্গে;

কিন্তু হায়!তোমার গহীন হৃদয়ের অবগুন্ঠিত সড়কের সংকেতই যে আজ পর্যন্ত

বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০১৯

রুমা ঢ্যাঙ অধিকারী


অবেলায় ভরে উঠেছে ঋজুকায় ঘ্রাণ

রুমা ঢ্যাঙ অধিকারী

সীমান্তে ভাগ হয়ে গেছে নদী
জেগে আছে পাড়া
কখনও বোমারুওফোবিয়া,  কখনও আবেগান্বিত হোলি
পদচারণের নির্ধারিত করেনি সময়
অথচ জার্নালের বারুদখানা খোলা,  বেবাক মীরাবাঈয়ের হৃদয়
ফেলে গেছে নৌকাকাল
                      ------  তারই আগাছায় পূর্বাহ্নের ধুলো

তবু তুমি আসো ভুলের দোর খুলে
ফেলে যাও প্রস্তুতিবিহীন শিরোনাম

(২)

দীর্ণ হতে হতে অকাল লিখছিলেন বর্ষণ যখন
অসমান বসন্তওয়াড়ি পার করে চলেছি
                                                 উপবনে
দাঁড়িয়ে গিয়েছে করাত অন্ধকার
সেদিন বিছানার সহচরীদের বলেছিলাম কোজি রাতের কথা,
অনিশ্চিত বাতের কথা...
দানাবীজে বয়ে যায় স্মরণ। পিঠে মুগুর ছাপ পড়ে

লেলানো প্রকল্পের ধাঁচ এখন নিভু নিভু
দুছটাক তরল সুখান্বিত হতে
                 এই ডটপেনের এখন নীলকমলিনী হওয়া

অবেলায় ভরে উঠেছে ঋজুকায় ঘ্রাণ

তুলসী কর্মকার


ট্রেন

তুলসী  কর্মকার

আবেগ উল্লাস উতলা উদ্দীপক উপাধিজাত অস্তিত্ব
কন্যাকুমার এক্সপ্রেস গুহামুখ অতিক্রম করল
প্যাসেঞ্জার উঠছে আর নামছে প্রশান্তবদন
দয়াময় মায়াজাল সাথে মমতার লোভাতুর দৃষ্টি
সহিংস ঘৃণাবৎ ভোগসূচক হাত ত্যাগ বর্জন করে
সাহসযুক্ত অর্থ সম্প্রসারণ রীতিসিদ্ধ নীতিসংগত
কামগামী জননশক্তি আগমন ঘটে
ক্রমেক্রমে সিট ভর্তি, গমগমে রব, যাপন ছুটছে
রিপু উঠছে আর নামছে, লাল সবুজ আবহাওয়া
মাঝেমাঝে ঘটমান পথ ও মতের রদবদল
শাখা উপ শাখার শেষ গন্তব্য ছাইভস্ম অথবা কবর
মরণগামী একমুখী সফর আবদ্ধ জীবন ইঞ্জিনে


সিনট্যাক্স

তুলসী  কর্মকার

দুটি মেঘ পাথর জলধারা ধাক্কা লাগলে
তড়িৎ ফুল্কি ঘূর্ণি অনুভূত হয়

মন মনের কুরুক্ষেত্রে
প্রেম বিষাদ আনন্দ তৈরি হয়

শরীর শরীরে আঘাত হলে
কাম জখম উদ্বেগ উদ্গীরণ করে

অবৈধ স্বপ্ন ধেয়ে এলে, ক্ষরিত হয় রেণু
অন্তর্বাসে ছটপট করে সশরীরের প্রোটোকল

ঝর্ণা

তুলসী  কর্মকার

কামনার নিলিপ্ত উঠানে তোমার সংশক্তি
আদিখ্যেতা উদ্দীপনে আঘাত হেনেছি
উপরিতল ক্ষতিগ্রস্ত চুঁয়ে পড়ে মজ্জাগত তরল
দিশেহারা তুমি
শরবত পরিলক্ষিত হয়
উপলব্ধি করি শরীর মনে স্যাঁতস্যাঁতে নির্যাস
ধারা হতে চায়
বহমান কলা প্রেমজ কাম জলজ ফাঁক
যা কেবল প্রকৃতিগত অস্তিত্বের দ্রাবক
বিগত বিদ্যমান আগত পথে ক্রমাগত রেখা আঁকে

মেরু

তুলসী  কর্মকার

চোখ আমাকে দেখে
মেলেছি কাম প্রেম ভাল্লাগা
তপ্ত হয়েছ তুমি
সান্দ্র অথবা কঠিন হয়েছে অণু
সেদিন বাসস্টপে আইবুড়ো তুমি
দিয়েছে বিবাহ নিমন্ত্রণ
অতিক্রম করেছি মরু
আজ সন্তান স্বামী অনলাইন
কতকাল মুখোমুখি হয়নি
তোমার অভ্যন্তরীণ চুম্বকীয় আবেশ
লোকচক্ষুর সম্মুখে কুরি সভ্যতা ছুঁতে চায়
নির্মল সুন্দর সাবলীল
এসো অলক্ষ্যে শীতল কক্ষে সাজানো স্বপ্নে
উদাসীন অঞ্চল ছেড়ে মেরুমুখী হই......

ঝরাপাতা

তুলসী  কর্মকার

আকাশ ছোট হতে চায়
অভিমানী মেঘ প্রসারিত
অস্থিমজ্জা শুকনো কাঠ
অ্যাসিডে ভিজেছে
ইশারাতে কালো মুখ
ইচ্ছেরা পরাজিত
নাগাল ছিঁড়ে গেছে
তোমার অনেক কিছু আছে
আমার আত্মা আশকারা হারিয়েছে
অবাঞ্ছিত ঝড় থেমেছে
খুঁজে পেয়েছি
মনের গভীরে কিছু মূল আজও অক্ষত আছে

ঘোর

তুলসী  কর্মকার

রাতে থাকে ঘুম স্বপ্ন অথবা অস্থিরতা
ফ্যাক্টর ক্রমবর্ধমান
শোয়ার ঘরের দরজা অনেক মজবুত
ভিতরের কপাট আলগা রাখি মৃত্যু নামবে
দেহ বের করতে কিছু কষ্ট লাঘব হবে
ক্ষতিবিহীন সংগতিতে বিশ্বাসী
সেই কবে মরে গেছি আর জীবন নিয়ে ভাবি না
দু হাত তুলে তারে খুঁজি
একটা কান কাজ করছিল না
ঔষধ খায়নি দীর্ঘদিন
হঠাৎ কড় কড় শব্দ
আশ্চর্য রকম ভাবে ঠিক হল
এখন ভীষণ একা
স্বপ্নের মাঠে আর প্রেম খেলে না
অনেক দূরে মেয়ে ও তার ব্যস্ত মা
ভা'বাসা দুমড়ে মুষড়ে কুপোকাত

দিন আসলে অত্যধিক অচেনা হয়
অনির্দিষ্ট ঘটনাবহুল
চিকিৎসক অবাক কীভাবে সম্ভব
একটার পর একটা রিপোর্ট
অথচ সাবলীল বেঁচে থাকা
এ বোধ পোশাকি নগ্নতা অধরা ঈশ্বর

চন্দন দাস


প্রান্তিক মানুষেরা যে কথা বলতে পারে না

চন্দন দাস

১.
এখন সমস্ত উৎকন্ঠা'য় বিষ ঢেলে দিলাম
আস্তে আস্তে কচলে উঠুক শ্রীচরনেষু বিষাদ
এরপর পালাবার উপায় থাকবে'না যখন
সন্ন্যাসী চোখে জোনাকি রাত পুঁতে দেবো।
২.
অপেক্ষা করো আত্মহত্যা মূলক গৌর-প্রবচন
তোমার সারা শরীরে এখন ঝালরক্ত বইছে
পৃথিবীর ইতিহাসে ধ্যানমগ্ন সব খড়কুটো বিকেল
আলো নিভে আসা পূর্বমুহূর্ত ব্যর্থতা চায়'না।
৩.
করতলে তামাক ঘসতে ঘসতে নেশায় বুঁদ
ক্ষতচিহ্নগুলো আত্মজনেষু দুঃচিন্তানগরী
সনাতনী কুকুর ধাওয়া করতে করতে যখন
পৌঁছে যাবে নক্ষত্রকাল, তুমিও তখন একান্ত
ঘুমিয়ে থাকো প্রেতাত্মা মাখা বিষাদ জড়িয়ে !
৪.
ইতিমধ্যে জেনে ফেলেছি সম্পর্কের রসায়ন
সমস্ত সম্পর্কে বিশ্বাস থাকা জরুরী নয়
দেবদারু বনে  ঘুরে ঘুরে এক ফকির বিকেলে
পাখি হতে শিখে গেছি, আকাশ বড় উদাসী!



আঙুলে বুনেছি   স্বপ্নজাল

চন্দন দাস


আলপথ ধরে ফাগুনরঙা মেঘ জল ছুঁয়ে সাঁকো আঁকে
মাঘীপূর্ণিমা রাতে কুমারীবউ সাধসেধে বেড়ে দিয়েছিল
 কচুপোড়া বিউলিডাল পান্তাভাতে একছটাক সঃতেল।
সন্ন্যাসীর মতো সবকিছু ছুঁড়ে দিয়ে সেরাত  নিঃশর্ত দরাজী
একটা প্রজাপতির মত চাঁদ ছুঁয়ে যাচ্ছে শূণ্য বেহালা।
এই অপূর্ব স্বচ্ছ কল্পনায় ডুবদিয়ে গেল তিমির জোৎস্না
ভাঙা তোরঙ্গের ভেতর ঝনঝন করে রবিঠাকুরের গান
তখনো কুমারীবউ ভালোবাসে শূন্য___শূণ্যের আকাশ!

ফিরোজ আখতার

ফিরোজ আখতার'এর কবিতাগুচ্ছ

দোষারোপ ১

চাঁদকে কলঙ্কিনী বলে
দোষারোপ করেও আমরা
জোৎস্নাস্নানে কসুর করি না

অথচ, জোৎস্না কত মখমল

এটাই বোধহয় পৃথিবী'র নিয়ম

প্রতিটি কলঙ্কের দাগ
আউটপুট হিসাবে মখমল-দামী

শুধু কলঙ্কের ছায়ায় বসে
বাঁশি বাজায় কোন এক
উপত্যকাহীন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা



দোষারোপ ২

গাছের শিকড়রা যৌনযাপন করে
লবনাম্বু জটিলতায় যৌগিক হয়ে ওঠে
শ্বাসমূলের লবণচাওয়া
সবসময় শুনতে পায় না সাগর

আপন খেয়ালেই লবণমাত্রা
পূর্ণতা পায়...
কখনো বা পায় না


দোষারোপ ৪

তোমার নাভি'র উতরাই-এ
একটা পলাশ ফুল রেখে বলেছিলাম
'মনে রেখো'

পলাশ ফুল শুকোনো'র আগেই
আমায় ভুলে গেছিলে

তবু আমার ইচ্ছেধারী আলেখ্য
তোমার স্নায়ুসন্ধিতে এসরাজের
সুর তোলে ৷ পরাজিত মুর্চ্ছণায়।

রাণা চ্যাটার্জী


জ্যামিতিক প্রেম

রাণা চ্যাটার্জী


সরল রেখা ,বক্র রেখার মাঝে তোমার আমার জ্যামিতিক প্রেম যে উপপাদ্যের সমাধান তৃপ্ততা
                          আনবে না সে বেশ বুঝতাম।
তবুও গুণিতক ইচ্ছার ডানা মেলে,স্বপ্নের বীজ  
                  বপন করেছি শুখা হৃদয় জমিতে l
ব্ল্যাক বোর্ড জুড়ে জটিল অংকের সংখ্যা মোছা চকের গুঁড়ায় , ডাস্টার প্রলেপ নিত্য সুখের জন্ম দিয়েছে ।

রাগী মাস্টার মশাই এর আঁকিবুকি,সমাধান সংখ্যা ভারে তোমার সাথে বেরিয়ে যেতাম কল্পনার আঙ্গুল ছুঁয়ে।
জটিল অংক মেলানোর  আনন্দে মশগুল আমি দৌড়ে বেড়াই আজও ক্লাস জানালার গরাদ ধরে ,
ওই পুকুর পার ,শ্যামল সজীবতা ছুঁয়ে ফিরে আসা।
অনেক উৎসাহ দেয় এই বুঝি পাবো তোমায়!
তুমি নেই, নেই আমার সেই স্কুল জীবনের পলেস্তারা খসা শ্রেণি কক্ষ ,
জানলার পাশে তোমার বেঞ্চ আজ আছে কিনা জানি না ,সেই কাটা কুটি খেলা,বেঞ্চে নাম খোদাই এর দুষ্টুমি দিন তবু কাছে টানে তোমার স্মৃতিস্পর্শ।

আজ আমি বহু দূরে ,অংকের শিক্ষক হয়ে !
তুমি হারিয়েও অমর হয়েছো আমার চকের গুঁড়ায়।




অনুপ্রেরণা

রাণা চ্যাটার্জী


চার কদম এগুনোর স্বপ্ন দেখিয়ে দু কদম পেছানোয় দিশেহারা প্রেম গোত্তা খায় রম্বস জটিলতায় ।
বেশতো ছিলেম তোমাতে,আমাতে,
     অন্যদের ঈর্ষা, বিস্ময় চিহ্ন পূর্ণছেদ,কমাতে।

কচি পাতা আসা শক্ত ডালে পা ঝুলিয়ে তোমার  দোলনা বালিকা রূপ বড়ো মুগ্ধকর,সোনালী রোদ্দুরে,স্বপ্ন মাখা আবেশে অপরূপ মেঘবালিকা।

নৈঋতা নদীর স্নিগ্ধতা মেখে শুনেছি কতো গান।
ক্লান্ত রাত ফুৎকারে কাটিয়ে,ঘন্টা,মিনিট হিসেব বহির্ভূত কল্পনার শরীরী অবগাহন,পান কৌড়ি ডুব।
তবুও হঠাৎ,সম্পর্কের মিষ্টি  ঘ্রাণে বিদ্রোহী মেঘের
              দাপট, রণহুঙ্কার,বড়ো বেসামালতা !
ডাল পালা ভেঙে,জড় ভরত আমার দিন যাপন !
দোলনা ভেঙ্গেছে আগেই! বিবর্ণ, পাংশুটে সোনালী রোদ ঘিরে ধরে কালো মেঘের  ভ্রুকুটি।

ভারী বাতাসে কান পেতে রই,ভাসে আজো নূপুর
                                     ধ্বনির ছান্দিক  মিষ্টতা।
অতীতের,না ক্ষয়া স্মৃতির সিন্ধুক বোঝাই নিয়ে ,
      রন্ধ্রে রন্ধ্রে পশলা বৃষ্টির মন খারাপের  ঘ্রাণ !

নদী আপন গতিতে আজও, কখনো অসংখ্য পঙ্কিল বিদ্রুপ ভারে গতিশীলতার  রুদ্ধতায় বিমর্ষ,
তবু আশার কিরণ তুমি,  ভাবনায় রোজ দেখি  সূর্যোদয় তুমি আছো ,নিঃশ্বাসে টের পাই।




অনুরণন

রাণা চ্যাটার্জী


চোখের জল কি এতো সস্তা !
যখন খুশি হৃদয় নিঃসারিত হয়ে
      হোয়াংহো হয়ে বইতে দেবে !

অনেক বুঝিয়েও পারিনি তোমায় ,
   আমি ছিলাম ,আছি ,থাকবো ।
রাতের আঁধারে কান পেতে শুনেছি
অন্তসলিলা লুনি'র নিস্তব্ধ বহমানতা ।

চাপা কষ্ট,আমায় চেয়েও,না পাবার তোমার আর্তি ,
হঠাৎ তবে কেন পথ হারালো থমকে ,
নিজের ওপর ভরসা ,বিশ্বাসে কুঠারাঘাত করে !
আজও তোমার জন্য বটবৃক্ষ হয়ে বাঁচা !

চাইনি তো এমন ভালোবাসা ,স্বার্থপরতার বর্ণপরিচয় !
যা মন কে তুমি-আমি সর্বস্ব ,শেকল পড়ানো
চোরা কুঠুরিতে বদ্ধ করে !

হোক ভালোবাসা শাশ্বত,শরীরী মোহময় বিহীন ,
দূরত্ব,বন্ধুত্বের সেতু বন্ধন কারী জাগ্রত প্রহরী।
বিশ্বাস ,ভরসা ,সততা ,অনুপ্রেরণার শক্ত খুঁটির  ওপর দাঁড়ানো ইমারত হয়ে ।




নতুন পথের খোঁজে

রাণা চ্যাটার্জী


শব্দের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, চুঁইয়ে পড়া ফোঁটা ফোঁটা
      নোনা বৃষ্টি,আমার মাংসপেশিতে টান ধরায়।  
  জল্পনা-কল্পনার পারদ,থমকে যায় তোমার
                      আদুরে খোলা পিঠের জরুলে।
তখনও বিন্দু বিন্দু জল, ভেজা চুলের ডগায়
   আটকে, আস্কারা দেয় আমার অ্যাড্রিনালিন!

ছেড়ে চলে গিয়েও তোমার আলটপকা শব্দচয়ন, এফোঁড় ওফোঁড় করে,নিবিড় ভাবনার কোলাজ ।
         তবু প্রতীক্ষায় আসে কুয়াশা ভোর...
         বুকের পাঁজরে মারে স্মৃতির হ্যাঁচকা টান।
রংপাল্টানো শব্দের বর্ষা ফলক,
            আমায় লম্বা শ্বাস নিতে পিঠ চাপড়ায়।




সম্পর্কের সাপ লুডো

রাণা চ্যাটার্জী


তোমার যেটুকু ছিলো তা তোমারই আছে,
       আমার যেটুকু সেটাও উজাড় করে তোমার আঁচলে গিঁট বেঁধেছিলাম শরতের শিউলি ভোরে।

ভোগ সম্পত্তি ,প্রাচুর্যে রাজ রানী না করতে পারি,
              পেয়েছিলে অঢেল স্বাধীনতার জৌলুস।
যার অপব্যবহার, ঘুণপোকার মতো কেটে তছনছ  
                        আমাদের বিশ্বাস, প্রেম নিটলতা!
বুঝিনি পাকা মিষ্টি ফলে, বিষাক্ত পোকা এমন  
           ঘাপটি মেরে ! সুযোগ বুঝেই মরণ কামড়।

এই ঘর,ভরা শূন্যতায় ,জলপূর্ণ চৌবাচ্ছার ভ্রূকুটি    
      ইচ্ছার ঘরে অনিচ্ছার সাপ লুডো দাপাদাপি!

লুডো বোর্ডের নিচেই সাপ-মই ছকে ,বিষাক্ত সাপের ছোবল খাবার আগেই আমি মই নিয়ে সুরক্ষিত সংখ্যায় পৌঁছানোর অপেক্ষায় আজও
       রাত্রি পাহাড়ায় এক সমুদ্র ,ঘুম চোখ নিয়ে।

আবদুস সালাম

প্রেম

আবদুস সালাম

মানমানবী ঘেরা আধপোড়া বারান্দায় আমরা থাকি
সবাই ব‍্যস্ত হচ্ছি সাপলুডু খেলায়
প্রেমিকপ্রেমিকার সামনে বিষন্ন পথ
পাখিরা মেলে ধরছে কষ্টকথা

তর্কযুদ্ধের আসরে ডানা মেলছে দায়িত্ব হীন উষ্ণতা
ঝরে পড়ছে প্রেমের রক্ত রেণু

বিষন্ন আকাশে পাড়ি জমায় দীর্ঘশ্বাস
ঝাঁপি খুলে দেখি পরতে পরতে তার অদ্ভুত
কষ্ট কথা

ব‍্যথাযুবতিরা মালা গাঁথে ডুমুর ফুলে
আধপোড়া বারান্দায় চাঁদ ডুবে যায় বিষন্ন অভিমানে


নিয়তি ও প্রেম

আবদুস সালাম


যখন প্রেম বলতে কিছু  বোধ হচ্ছিল
বোঝা না বোঝার বলয়ে নিয়তি দিল মাথা ঠুকে
নিজেরই অজান্তে বিচ্ছেদকাল ধরা দেয় শরীরে

প্রেমের মাছি ভনভন করছে  সময়ে
অভিমানী আত্মা থাপ্পড় মারে গালে
জাপটে ধরে  আদর করে বিচ্ছেদের শুঁয়োপোকা

প্রেমের যে কাঁটা আছে জানতাম না

সমুদ্র  কিনারে গুনছি নীল ঢেউ
শূন‍্য প্রহরের গান বেজে চলেছে অজান্তে
কুয়াশার অক্ষরে লিখে চলেছি মহাশূন্যের কবিতা
প্রেম বোঝা না বোঝার বলয়ে নিয়তি  মাথা ঠুকে দেয়

প্রহরা বিহীন লেভেলক্রশিং এ  একলা আছি দাঁড়িয়ে
শিকার  শেষে  ফিরে এলো প্রেম
অরণ্য সভ‍্যতার মনুষ্যত্ব দূরবীন দিয়ে দেখছি
নিয়তি মজা করে পাড়িয়ে দিচ্ছে কর্কশ ঘুম

 চাকু হাতে নি:সঙ্গতা পাহারা দেয় আনমনে
নিয়তি লাটাই হাতে দাঁড়িয়ে দেখছে মজা



সঙ্গী ----    
 
আবদুস সালাম


সুখের কথা না বলাই ভালো
ওর চপলা স্বভাব
দু:খ সারাদিন নেওটা ছেলে র মতো ঘুর- ঘুর করে
শত অবহেলা গায়ে মাখে না

পাথুরে সহবাসে উথলে ওঠে যন্ত্রণার ঢেউ
উথালিপাথালী স্বপ্ন বিথান
বুকে জমা হয় অর্থহীন বিলাস কথা

সংসার সাজিয়ে সনাতন পাখিরা খেলা করে
বৈরাগ্য পাড়ায় খেলা করে সর্বনাশ

মন্দিরে বেজে ওঠে কাঁসরের ঘন্টা  
সুখের মোড়কে দু:খ বিক্রি করেন ধর্মগুরু
আঁধার ঘনিয়ে আসে
এক বালিশে চলে লটাপটি

ওরে আমার দুঃখ ,আমি যে তোর প্রাণের দোসর


বদল    
 
আবদুস সালাম


বার বার বদলেছে খতিয়ান
নক্ষত্র গতিতে বদলেছে জীবনের মানে

দুর্নিবার অন্ধকার ঢাকে জীবনের ব‍্যঞ্জনা
কপটতা দিয়ে সাজানো ভালো বাসার বিষাদ ঘর

অথর্ব শরীর ডুবে যায় ভাবনায়
গভীর রাতে শরীর থেকে খসে পড়ে জং
বিষন্ন সময়  দাঁড়ায় আয়নার সামনে
খুঁজে চলে ভুল অঙ্কের পদ্ধতি

অসমাপ্ত কাহিনী খুঁজে চলছে পরাভব শূন্যতা
নষ্ট মেয়ের মতো বদল হয় খতিয়ান

লুকানো বীজ ফুলের ঘর করবো বলে বার বার আসে

স্বরূপ সিংহ রায়


জননী জন্মভূমিশ্চ” - এক অন্য ভালোবাসার গল্প ---

স্বরূপ সিংহ রায়

(another Valentine)

ধূলি ধূসর পাথুরে টিলাকে দুপাশে রেখে
আঁকা বাঁকা বসন্ত খোবরানো পিচঢালা পথ ।

দূরের স্টেশন থেকে ঝরঝরে বাস থামে
সাতাত্তর নম্বর মাইলফলক পেরিয়ে
কাঁচাপথ জংশনে ।

নিঃশব্দে রুকস্যাক কাঁধে
নেমে আসে যুবক সে এক,
গোঁফের রেখার আভাসে
সদ্য সাবালক পরিচিতি ।

একপাল ছেলের দল কচিকাঁচা
হৈ হৈ বের হয়ে আসে
আবুল, মিরান্দা, অজয়ের সাথে
ঘিরে ধরে কাঁধে তুলে নেয় ।

সম্মিলিত “জয় হিন্দ” রণিত ধ্বনিত হয়
টিলাতে পাহাড়ে ।

বন্ধুবেষ্টিত হাঁটাপথ জুড়ে
ভালোবাসা ঘুরে ঘুরে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়
মল্লিকা মাসির আঁচল
আবদুল চাচার তোবড়ানো গাল ।

উজ্জ্বল চোখ খুঁজে ফেরে
মাটি মা-র মান
যুবকের দুই চোখে ।

"সাব্বাস বেটা", আদরে আদরে
বুকেতে জড়ায় হাফিজুল খুড়ো ।

কলমীশাকের আঁটি বাঁধা বন্ধ হয়,
শ্যামলী মাসির ভিজে হাত
“শান্তির মসিহা” তখন ছেলেটির মুখ জুড়ে ।

শেফালি মারান্ডির হাতে ধরে রাখা
ইঁদারার ঠান্ডা জল
আর রুকসানার চোখের গভীর আর্তিতে
অশ্বত্থ শীতল ছায়া  সমস্ত শরীর জুড়ে ।

চিকচিকে রোদে, শোঁ শো করা হাওয়ায়
ফুলের বাগানে, খড়ের গাদায়
টালির চালেতে, মোষের বাখানে
মেঠো গলি পথে, নিকোনো উঠোনে
কোকিল-কুহুর মিষ্টতায়
গ্রাম গ্রামান্তরে  ঘুরে ঘুরে ফেরে
“জয় হিন্দ” “জয় হিন্দ”
সংগ্রামী চেতনায় ।

অবশেষে সন্ধ্যের মুখে
শান্ত সে যুবকের সাথে
উদ্বেলিত গ্রাম
জড়ো হয় দরমার ঘর জুড়ে ।
সন্ধ্যাপ্রদীপ হাতে
তুলসীতলায় তখন
মূর্ত সে মা ---- জননী গড়িমা ।

দুরন্ত আবেগবশে  কোলে টেনে নিয়ে
আদরে চুমুতে  তাকে ভাসায় যুবক ।
হাজারো চোখের তারায়  শত প্রদীপের আলোয়
পুরো গ্রাম জুড়ে গোধূলির লাল মাখে
সংহত সময়।
সম্মিলিত ভারতের দুর্জয় হৃদয় ॥

পলাশ চৌধুরী


হেঁতের নিশা

পলাশ চৌধুরী


এ তুমুল, এ আধজোনাক
রাত এসেছেন। এই জন্মেছি বলে।
সাদা! কালো তো কিছুর স্কুলিং,

এ ফরিয়াদ বেড়াল, ও চোখের জ্যোৎস্নায়
রাত এসেছেন। এই জন্মেছি বলে।
রিং জন্ম তাই ঈশ্বর
পায়-পায় সিঁড়ি গুঁজেছিলেন।

দূরতা তাই অনেকটা জন্মালাম
আতায়, বাঁশপাতায়। ভাব পাতানো যায় কী?না!

লাজওয়াব সজনী খ্যালে গো সজনে
সজাগ তথা ভূত।
হে যান্ত্রিকী রাত লও বাত লও।

ক্ষণ জন্মেছি এই। রাত পোহাবার।
চামড়া শুকিয়ে যাওয়া অব্ধি দুগ্ধদোহন।



কর্মমরুর যৌনতা(০)

পলাশ চৌধুরী


                        ভা
                           লো
                        বা
                    সা
লাল
      নীল
            বেগুনী
                      গোলাপি

জ্বলনে মরমে প্রিজম প্রণাম
উটকো আদরে ভা
                    লো
                 বা
             সি
স্বাধীন  নরম  তুমি
ছুঁয়ে  যেতে  লালের  নদী
                ভা
                   লো
                        বা
                           সি

তারই  অন্তে  কুঁচকে   উঠে  প্রেম
শান্ত  পিলো  নরম  শুধু  নাভির  কালো

প্রকট  চুমি  ঢঙের  শীতে
              নগ্ন  প্রাণে
                       আদর টানে
             পৌষ রাতে

লালের খিদে
               বীর্যমাখে
নীলচে রাতে
               বৃন্তফাটে
বেগুনী ভিটে
               পদ্মজাঁটে
গোলাপি মেঝে
                 আদর রাতে

নগ্ন  চেতা  শরীর  খোঁচা
আরাম  সাধক   বুকেরপাটা

প্রথম  স্তনের  জৈব  মধু
নাভির  নীচের  চর্ম  শুধু

যৌন  মাখা  যৌথ  যাপন
নিজের  মতোই ভা
                    লো
                 বা
             সি
         



জাজমেন্ট

পলাশ চৌধুরী


হঠাৎ একলা নিঃসঙ্গতা খিদে হয়
একা পায় খুব
আঁকা হয়ে যায় তরল অন্ধকার

ভ'এ আলো দেদার নেওয়ার
ম'এর আনন্দ।

রপ্ত কাল, কালি হয়ে যাক ওসকাল
আমরা বিজনে হে বিধবা আকাল।

প্র' নামে প্রকাশ যারে চুমিল তপোধন
জানো না উজান,
আমিষ তো বিস্ময় বুদবুদ তাহাদের।



নধর২

পলাশ চৌধুরী


জল হয়, জল ভেদ করে মুখ চেপে দ্যায় রাত।
শুনছো রমা? এখন অন্ধকার।
শীঘ্র হও। চরিত্র পাল্টাতে আলোর।

কত তো বাক্য,
             আলাপ পাল্টেছে,
পাল্টাচ্ছি দরমার হলুদ।

সময়
জল পেতে তুলে নেওয়ার
আদিম লতা।

রাজেশ কান্তি দাশ

আমার হৃদয় উতলা প্রেমিকা

রাজেশ কান্তি দাশ


কত বেদনার জল পুড়িয়েছিলে তুমি
ময়ূখ রাত্রির গভীরে যখন আমি নিঃসঙ্গ-একা
আমার মৃত হৃদপিণ্ডে প্রেমের হা-হা-কা-র নেই,
নেই ছলচাতুরী কিংবা মিথ্যার ফুলঝুরি
আছে দহনে জর্জরিত প্রতারণার কিছু ছবি আঁকা।

আমার বিধবা বুকের চিনচিনে ব্যথা
কবিতার জন্ম দেয়নি তোমার ঠোঁটে ;
যদিও কবিতা আমার হৃদয় উতলা প্রে-মি-কা।
হারিয়ে গেছে অনেক বিশ্বাস-আশা-ভালবাসা
বিলোল মনের বিলাপে ঝরে না পঙক্তিমালায় চোখের নীর।
নিস্তব্ধ নদীর প্রেমজল রাঙ্গাবে না সাগরের অহমিকা।

সকালের আহ্লাদিত বাতাসে কলাপাতা চুমে শিশিরের কান্তি
আমার বিষণ্ণ মন স্বপ্ন বিভোরপ্রেমে ঢাকা।
ইচ্ছের সঞ্জীবনী আশ্রয় খোঁজেে তোমার ছায়াতলে,
আগরের সুরভিত গন্ধে অন্তরঙ্গ সময় বাসর সাজায়
ফুল্ল প্রেম প্রভাতে জ্বলে উঠে
তোমায়-আমায় ডেকে নেয় কুমারিকা



প্রেমের এপিটাফ

রাজেশ কান্তি দাশ


কত চিঠি লিখেছি নীলাঞ্জনকে
নীলমেঘের অক্ষিলোকে নেত্রস্হিত কালোমনির
দিকে তাকিয়ে...
চোখের প্রতিটি পলক কথা বলে নিশীথ সূর্যে
আমার দগ্ধ হৃদয়ে।
জানান দেয় অবিনাশী সম্পর্কের ঊষা জাগানিয়া প্রভাত আলোর ;
স্মৃতির জমিনে থরে থরে সাজিয়ে রেখেছি
তোমার
পলকের পুলকিত পালককে।

সুরমা পাড়ের নীলাঞ্জনা,
তোমার ডাগর ডাগর চোখে পাখির নীড়
ঝরছে "প্লেটোনিক প্রেম" অঝোর ধারায় আমার
বন্য বৃক্ষে
বিকেলের বিজন প্রেম
তৃষিত নয়নে সমুখে দাঁড়ায় তোমার অপেক্ষায়
খুঁজে ফেরে "থেমিসের" আড়ালে তোমার অদৃশ্য
মূর্তি ;
কিন্তু হয়ত মধ্যযুগের কালশিটে পাথরে বিক্ষিপ্ত প্রশ্ন ক'রে
কাঙ্ক্ষিত উত্তর পায় না
অতঃপর...
গড়ে তুলে প্রেমের 'এপিটাফ' তোমার সমাধির পরে।

অমিত লৌহ

উপোসী প্রেমিক

অমিত লৌহ


এলোমেলো সিঁথি ঘেঁটে হেঁটে যাই বুকের দেড় ইঞ্চি গভীরে ।

যে শরীর  নিজের হাতে হয়েছে হত্যা ...
আজ বৈধব্য পালনে এত'ই অনীহা !

অচিরেই হচ্ছে সতীত্ব ছেদন ,

যোনি পথে প্রবেশ করছে সমগ্র পৃথিবী !
    উল্লাস শুধুই উল্লাস !

ভ্যাজাইনার রক্তে যৌনতার মানচিত্রে এঁকে যাই এক নতুন পৃথিবী ।
যৌনতার আঁচে আকস্মিক অন্ধকারে ভেসে আসে শব্দ তরঙ্গ ,
সারা পৃথিবী নিশ্চুপ , নীরব !

নগ্নতার অশরীরী ছায়ায় আহ্বান করি কলঙ্কিত কাব্যিক অধ্যায় .....

অকপটে স্বীকার করতে হয় আজ আমি ঈশ্বর নই ,
     নির্লজ্জ উপোসী প্রেমিক !

মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০১৯

Dipankar Mukherjee

দূর থেকে স্বর্গ দেখি কালো◆

দীপঙ্কর।(another Valentine)

                                       
ঝকঝকে স্ফটিক চূড়ায় পারদ আকাশে ওড়ে না,
 গায়ে মেখে তুষার কুচি ঘাসে ঘাসে হীরক ঝরে

স্বপ্নে দেখি উপত্যকা জুড়ে দ্বাদশীর চাঁদ হেসে গেয়ে লুটোপুটি.... স্বর্গ লোক অপ্সরীর পদচারণায় নেশাগ্রস্থ টলোমল
ঢেউ ঢেউ মাটিতে শিশু হাসে খালি পায়
কোন সুদূর অতীতে দেবতা ছেনি হাতে গড়েছিল সুঠাম সূর্যমুখী পুরুষ....বুনেছিল পশম পরম মমতায়....
এঁকেছিল দিগন্ত শুভ্র মুকুট শোভায়

আদমের দেশে অমৃত ফল পরশে জেগেছিল প্রেম কোনো এক ফাল্গুনি সন্ধ্যায়
বকুল গন্ধী নরম মিথুন কন্যায় ঝর্ণা বয়ে যায় আজও সে উন্মাদনায়

ঘরে খিল দিয়ে বসে থাকি ত্রাসে, ও চাঁদ এখনো আলো দেয়... মোম জ্বেলে আঁধার ঘোচাই....কালো রাত শুধুই প্রাণ খায়.... জোনাক ঢুকেছে ফাটা মাইনের গহ্বরে...
গোলাপ ছাপিয়ে বারুদ ভেসে বেড়ায়....

দূরে গ্রাম জুড়ে বসন্ত নামে প্রজাপতি পাখায়, লাল সিঁথি অপেক্ষার হলুদ মাখে যৌবন জ্বালায়
স্বামী গ্যাছে পাহাড় পাহারায়....
চাঁদ ঘরে বিনিদ্র রাত জাগে
অগাস্টের পতাকা বুকে কাঁপন ধরায়...পত পত স্থির হয় বুঝি লহমায়
মুড়ে কফিন আধাখানা শরীর দেখানোর
কে দিল ও'কে দায়....!!

মরোনোত্তর পরমবীর চক্র....করতালি....কর কর করে চোখের তারায়....

                                         


বায়ু কোণ

 দীপঙ্কর


পাহাড়ের ঢাল বেয়ে বসন্ত এসেছে বটে,  মনে প্রবল শীত, কুঁকড়ে যাচ্ছে লাব-ডুব হৃদয়।
চোখে পলাশ, নাকে আবীরের চেনা গন্ধ, খাঁচায় থকথকে কালো কান্না....

বুক ফুটুক না ফুটুক... উত্তর পশ্চিমে বুলেট ফোটে অবিরত।

সেই কবে চেঙ্গিস এসেছিল ও পথে, ঘোড়া টগবগ, চোখে সুরমা, কানে আতর, হাতে বাঁকা তরবারি.....

নাদীর শাহ্ গিয়েছিল নিয়ে কোহিনুর ও পথে....
ছড়িয়ে ছিটিয়ে চকচকে লোভী বীর্য অসহায় অবলা নাভিশঙ্খে, মধ্য প্রাচ্য উদ্দাম নেচেছিল হায়না হাসিতে....

শুনেছি কচুরীপানাও নাকি ওমন ভাবেই ঢুকেছিল আকাশ পথে, অমাবস্যা জলে সূর্য প্রবেশ রুধিবারে....

দলে দলে শ্রাবণ ধারায় অঝোরে ঝরেছিল শক হুণ পাঠান আর মোগল ঐ অভিশপ্ত বায়ুকোণে ..... ভেঙেছিলো সদর দরজা ইন্দ্রপ্রস্থের সাতনুটি দাঁতে কাটবে বলে....

সিংহাসন হতে লাফিয়ে নেমেছিল স্বয়ং আলেকজান্ডার ঐ ওখানেরই ঝিলাম জলে....

কোন ঊষাকাল হতে ভারতমাতার লাঞ্ছনায়  ব্রতী ও এক বিভীষিকা ময় হিংস্রতা ভরা লোভী দাঁতের পদচালনায় অভিশপ্ত ভরা ভূমি পথ

ওখানে ধূ ধূ বালি আর সাদা সাদা বরফ চিতা সাজিয়েছে নিজে হাতে করে....

তুমি কি আজও তা চিনতে পারোনি মেয়ে!!

তোমার সম্ভ্রম শুধু ও পথেই বারবার হয়েছে পদানত,
পি.ও.সি. তো বায়ু কোণেই বোধহয়!!

ওখানের লাল সাদা টিউলিপ বাগিচায়....
ঠাকুরাণী তোমায় শুধুই ঝুলির বেড়াল ছানা দেখায়....

মনে ভয়, শুধুমুধু ছেলে গুলো কেন হাজার বছর  ধরে......ছিন্নভিন্ন হয়

কেনই বা শুধু মর্জিনাদের কথায় মোস্তাফার দল বৃথাই ও নীল পাপড়ি
 জোড়া দেয় !!

যে ফুল ঝরে যেতে  চায়....তাকে কি বুকে চেপে আগলানো যায়.... ??
সাদা সাদা হিমালয় চূড়া লাল লাল রক্ত মেখে গায় অবিরাম অবোধ সন্তানে খায়....

আপেলের গাছে দেখি থোকা থোকা ফলে আছে তেরঙা কফিন....পেটে তার প্রেয়সীর ছিন্নভিন্ন অর্জুন ঘুমায়....